বাইরে গনগনে রোদ, ভ্যাপসা গরমে নগরবাসীর নাভিশ্বাস অবস্থা। প্রকৃতিতে বর্ষার বৃষ্টির দেখা মিলুক বা না মিলুক, সুরের ধারা আর ছন্দের লহরী যেন বর্ষাকে নিয়ে এল ছায়ানটের আঙিনায়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগীতায়ন ছায়ানট আয়োজন করেছিল বর্ষার গানের অনুষ্ঠান। এই আয়োজনটি নিবেদিত ছিল ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
পাকিস্তানের বৈরী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ও নির্ভয়ে এগিয়ে চলার ‘বাতিঘর’ সুফিয়া কামালকে স্মরণ করা হয় পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা স্মরণ করিয়ে দেন, বর্ষা কেবল একটি ঋতু নয়, এটি জীবনের অন্তহীন প্রবাহের এক চিরন্তন উৎসব। তিনি বলেন, ‘বর্ষা আজ শুধু আকাশ থেকে ঝরে পড়বে না, নেমে আসুক আমাদের অনুভবে, আমাদের সংগীতে, আমাদের সম্মিলিত চেতনায়’।
ছায়ানট মিলনায়তনের ভেতরে তখন যেন বর্ষার নিজস্ব ভাষা তৈরি হয়েছে। শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন বর্ষার নানা রাগ-রাগিণীর সুর। সম্মেলক নৃত্যগীত ‘চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে’ দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে মর্তুজা কবির মুরাদের বাঁশির সুরে মূর্ত হয়ে ওঠে প্রকৃতির ব্যাকুলতা।
এরপর একে একে শোনা যায় ‘ভবনে আসিল অতিথি’, ‘আজি ঝড়ের রাতে’, ‘বরষা ঐ এলো বরষা’ কিংবা ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল’-এর মতো চিরায়ত সব সুর।
শুধু গানেই নয়, রবীন্দ্রনাথের ‘ছিন্নপত্র’ পাঠ ও সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ আবৃত্তিতে অনুষ্ঠানের আবেশ আরও নিবিড় হয়ে ওঠে। সেতার ও যন্ত্রসঙ্গীতের মূর্ছনায় শ্রোতারা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন মেঘের গর্জন আর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের মাঝে।
বাইরের অসহ্য ভ্যাপসা গরমের বিপরীতে ছায়ানটের এই সুর ধারায় নিজেকে সমর্পণ করে উপস্থিত শ্রোতারা যেন খুঁজে পেলেন প্রতীক্ষিত শীতলতা। সম্মেলক গান, ‘রিমঝিম ঘন ঘন রে’ কিংবা ‘এসো শ্যামল সুন্দর’- সব মিলিয়ে বর্ষার এই আয়োজন যেন হয়ে উঠল প্রকৃতির অন্তহীন নব সৃজনের এক সার্থক উদযাপন।
জয়ন্ত সাহা/এএফ