খ্রিস্টান ধর্মের ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট‘ সম্প্রদায়ের দুইজন ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে প্রতি শনিবার স্বাভাবিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। তাই তাদের জন্য রাতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
সারাদেশে এরকম ১৬০ শিক্ষার্থী রাতে পরীক্ষা দেবেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছেন দুইজন। তাদের একজন নগরের হালিশহর ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্রী এঞ্জেলি সুয়ারি ত্রিপুরা। অন্যজন বান্দরবান থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
খ্রিস্টান ধর্মাবলস্বী ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের মানুষের শনিবার দিনের বেলায় পড়াশোনা করার নিয়ম নেই। শনিবার ছাড়া অন্য দিনগুলোতে দিনের বেলায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা নেই।
গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরমধ্যে শনিবার পরীক্ষা পড়েছে ছয়টি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী, শনিবারের দিনগুলির মধ্যে ৪ জুলাই বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, ৮ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক), ১৮ জুলাই ভূগোল (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, ২৫ জুলাই অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র, ১ আগস্ট মনোবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র ও কৃষি (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র এবং ৮ আগস্ট ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র এবং শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৯টায় দুইজন খ্রিস্টান ধর্মাবলস্বী পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলেও ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না। তারা প্রায় ৯ ঘণ্টা একটি কক্ষে অবস্থান করে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যায় পরীক্ষার উত্তরপত্রে লেখা শুরু করবেন। পরীক্ষা শেষ হবে রাত ১০টায়।
তবে বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, এই পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করবেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের কাছে প্রবেশপত্র ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। কোনো অবস্থাতেই তারা কক্ষের বাইরে যেতে বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। পরীক্ষা চলাকালে পরিদর্শক থাকবেন। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সঙ্গে শুকনো খাবার নিয়ে আসতে পারবেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, দুই বছরে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এবার শনিবারও পরীক্ষা রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সেশনের পরীক্ষা আরও এগিয়ে আনা যায়। এই পরীক্ষার্থীরা সকালে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হলে প্রবেশ করে একটা কক্ষে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের পর তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে।
এসএন/