ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অতিরিক্ত সময়ে গড়াল আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ? আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে জোড়া ইতিহাস গড়লেন মেসি মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের

অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৭ এএম
অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও মিশরের লড়াই নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। ফলে ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। দুই অর্ধে ১৫ মিনিট করে খেলা হবে অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ফল না এলে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে শেষ ষোলোতে কারা যাবে।

শুক্রবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচের ১৩ত মিনিটে এগিয়ে যায় মিশর। ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাসে বল দেন মোহাম্মদ সালাহ, যা ইমাম আশুরের কাছে পৌঁছায়। তার প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ব্লক করলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে বক্সে ভেসে আসা ক্রসে পেছনের পোস্টে থাকা আশুর দারুণ হেডে বল জালে জড়ান।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। এইডেন ও’নিলের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩৫ মিনিটে আজিজ বেহিচের নেওয়া বাঁ পায়ের শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। প্রথমার্ধের শেষ দিকেও অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি সুযোগ ব্যর্থ হয়, ফলে বিরতিতে মিশর ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় মিশর। একটি নিখুঁত থ্রু পাস পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যান ওমর মারমুশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ট্রেউইন শেষ মুহূর্তে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করায় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি তিনি। তার শটটি অল্পের জন্য বাম পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ফলে নিশ্চিত একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে মিশর।

ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ অব্যাহত রাখে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ক্রসটি ক্লিয়ার হওয়ার পর আবারও বল বক্সে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় কনর মেটকালফের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। মেডিকেল টিমের সদস্যরা মাঠেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। বাম দিক থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক বক্সে ভেসে এলে বলটি হালকা ছোঁয়ায় গোলের দিকে পাঠানো হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল হ্যারি সাউতারই গোলটি করেছেন। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি শেষ পর্যন্ত মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির গায়ে লেগেই জালে ঢোকে। তাতে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইমাম আশুর। ইনজুরি সময়ে (৯০+৩) বাম দিক থেকে আসা দুর্দান্ত একটি ক্রসকে শক্তিশালী এক হেডে জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন রামি রাবিয়ার, কিন্তু ২২ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ অসাধারণ দক্ষতায় সেটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন। পরের কর্নার থেকে মোহাম্মদ সালাহর শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি।

শেষ মুহূর্তে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হয়। ফলে এখন লড়াই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।

এসজি/

আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম
আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে
ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরেই চমক দেখাল কেপ ভার্দে। লারোস দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় ফিরেছে তারা। 

শনিবার (৪ জুন) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোরে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। 

আক্রমণ চালিয়ে ২৯ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের লম্বা পাস বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন লিওনেল মেসি। আর তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

এরপর ৪৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। বল পেয়েই জোরালো শট নেন তিনি। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দিয়ে কেপ ভার্দেকে বিপদমুক্ত করেন ভোজিনহা। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দেও। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে তারা প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লারোস দুয়ার্তে একটি জোরালো শট নেন।  তবে বাম পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ যাত্রায় দলকে বাঁচিয়ে দিলেও পরের আক্রমণ ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্ডেস বলটি লারোস দুয়ার্তের দিকে কাটব্যাক করেন, যিনি আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ দ্রুত তাকে চাপ দিতে এগিয়ে আসেন, তবে দুয়ার্তে ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরালো শট নেন এবং এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল পাঠান নিচের কোণায়। তাতে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। 

এসজি/

বিশ্বকাপে জোড়া ইতিহাস গড়লেন মেসি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ এএম
বিশ্বকাপে জোড়া ইতিহাস গড়লেন মেসি
গোলের পর লিওনেল মেসির উদ্‌যাপন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি আবারও ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন।

এ ছাড়া এই গোলের মধ্য দিয়ে মেসি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বয়সী দক্ষিণ আমেরিকান খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন, ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন উরুগুয়ের ওবদুলিও ভ্যারেলার দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ভ্যারেলা ১৯৫৪ সালে ৩৬ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

একই সঙ্গে এই গোলটি ছিল মেসির বিশ্বকাপে ২০তম গোল, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও এগিয়ে নিয়েছে। তিনি এখন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে দুই গোল এবং জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার চেয়ে চার গোল এগিয়ে রয়েছেন।

এসজি/

মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ এএম
মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা
গোলের পর লিওনেল মেসির উদ্‌যাপন। ছবি: সংগৃহীত

লিওনেল মেসির দুর্দান্ত গোলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের লম্বা পাস থেকে বিশ্বকাপে ২০তম ও চলতি বিশ্বকাপে সপ্তম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। 

শনিবার (৪ জুন) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। ১৪ মিনিটে বক্সের বাম দিক থেকে লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ডি-বক্সের কিছুটা দূরে ফাউলের শিকার হন মেসি। তাতে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মেসির নেওয়া ফি-কিক শট সহজেই কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার হাতে চলে যায়। 

আরও একবার বিপদ সামাল দেন ভোজিনহা। মোলিনা বক্সের ভেতর ভালো একটি অবস্থানে থেকে মেসির দিকে পাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ভোজিনহা দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ধরে ফেলেন। 

তবে ম্যাচের ২৯ মিনিটে মেসিকে গোল করা থেকে থামাতে পারেননি ভোজিনহা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দূরপাল্লার পাস বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোজিনহাকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন মেসি। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৪৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। বল পেয়েই জোরালো শট নেন তিনি। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দিয়ে কেপ ভার্দেকে বিপদমুক্ত করেন ভোজিনহা। এরপর অবশ্য আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এসজি/

মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ এএম
মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
ছবি: সংগৃহীত

লিওনেল মেসির গোলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৯ মিনিটে চলতি বিশ্বকাপের সপ্তম গোলের দেখা পান তিনি। তাতে শেষ ১৬-তে উঠার লড়াইয়ে এগিয়ে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শনিবার (৪ জুন) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। ১৪ মিনিটে বক্সের বাম দিক থেকে লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ডি-বক্সের কিছুটা দূরে ফাউলের শিকার হন মেসি। তাতে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মেসির নেওয়া ফি-কিক শট সহজেই কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার হাতে চলে যায়। 

আরও একবার বিপদ সামাল দেন ভোজিনহা। মোলিনা বক্সের ভেতর ভালো একটি অবস্থানে থেকে মেসির দিকে পাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ভোজিনহা দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ধরে ফেলেন। হাইড্রেশন বিরতি থেকে ফিরেই কেপ ভার্দের জালে বল জড়ান মেসি।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দূরপাল্লার পাস বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোজিনহাকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন মেসি। এটি চলতি বিশ্বকাপে তার সপ্তম গোল। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

এসজি/ 

ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ এএম
ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ?
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মানেই আবেগ, আবার বিতর্কও। আবার ক্ষণিকের ভুল সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। এতদিন এই ভুল-সিদ্ধান্তই ছিল খেলাটির অংশ। কিন্তু এখন সেই চিরচেনা ফুটবলে ঢুকে পড়েছে প্রযুক্তির তীক্ষ্ণ চোখ; ভিএআর (VAR)। চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে এটি শুধু একটি প্রযুক্তি নয় বরং ম্যাচের ফল বদলে দেওয়া এক শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে।

বিশ্বকাপের এই আসরে ভিএআর নিয়ে আলোচনা এখন সবচেয়ে বেশি। কারও কাছে এটি ন্যায়ের রক্ষাকবচ, আবার কারও কাছে খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করার একটি মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক ফুটবলে এর প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হলো এমন একটি সিস্টেম, যেখানে মাঠের সিদ্ধান্ত যাচাই করতে ব্যবহার করা হয় একাধিক ক্যামেরা ও ভিডিও রিভিউ। ম্যাচ চলাকালে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত; যেমন গোল, পেনাল্টি, অফসাইড বা রেড কার্ড; সন্দেহজনক মনে হলে রেফারি ভিএআর রুমে থাকা সহকারীদের সাহায্য নেন।

ভিএআর মূলত চারটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে; গোল বৈধ কি না, পেনাল্টি সিদ্ধান্ত, সরাসরি রেড কার্ড, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না। ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথম চালু হওয়ার পর থেকে এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে ধরা হয়।

চলমান বিশ্বকাপে ভিএআর আগের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি সক্রিয়। অনেক ম্যাচেই এটি সরাসরি ফল বদলে দিয়েছে। যেমন নকআউটের ম্যাচে জার্মানির সম্ভাব্য জয়সূচক গোল ভিএআর রিভিউয়ের পর বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। সেই ম্যাচে পরে টাইব্রেকারে জয় পায় প্যারাগুয়ে।

আবার অন্য এক ম্যাচে বেলজিয়াম অতিরিক্ত সময়ে ভিএআর রিভিউয়ের মাধ্যমে পেনাল্টি পেয়ে যায় এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে যায় বেলজিকরা। কপাল পোড়ে আফ্রিকার দল সেনেগালের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের এক ম্যাচে ভুল করে অন্য খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়, যা পরে ভিএআর প্রযুক্তি ধরে ফেলে এবং সংশোধন করা হয়।

সর্বশেষ পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও দেখা গেছে এমনটি। শেষ মুহূর্তে ২-২ গোলে সমতা এনেছিল ক্রোয়েশিয়া। উৎসবের আবহে তখন ক্রোয়াট শিবির। তবে ভিএআরে দেখা যায় সেটি ছিল অফসাইডে গোল। শেষ ষোলোতে উঠে যায় রোনালদোর পর্তুগাল, বাদ পড়ে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, ভিএআর শুধু গোল বা অফসাইড নয়; খেলার ন্যায্যতা রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রাখছে।

চলমান বিশ্বকাপকে ফিফা বলছে ‘সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বকাপ’। এখানে শুধু ভিএআর নয়, ব্যবহার হচ্ছে এআই, স্মার্ট বল টেকনোলজি এবং থ্রি ডি প্লেয়ার ট্র্যাকিং। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ভার্চুয়াল মডেল তৈরি করা হচ্ছে, যা দর্শকদের বোঝাতে সাহায্য করছে কেন একটি অফসাইড বা ফাউল সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো। অনেক সময় অতি সূক্ষ্ম মিলিমিটার ব্যবধানে অফসাইড ধরা পড়ছে, যা আগে মানবচোখে বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল।

এ ছাড়া বলের ভেতরে থাকা সেন্সর চিপ ব্যবহার করে ‘Connected Ball Technology’ সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করছে। একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে বলের সঙ্গে কে কখন সংযোগ করেছে, সেটাও এখন ডেটা দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফিফার প্রযুক্তি অংশীদার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, রেফারিদের হেডসেট ক্যামেরার মাধ্যমে দর্শকরাও এখন রেফারির দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পারছে; যা ফুটবলে এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

সবকিছুর পরেও ভিএআর নিয়ে বিতর্ক থেমে নেই। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে। একটি সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে, ফলে স্টেডিয়ামে উত্তেজনা কমে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, গোল হওয়ার পর খেলোয়াড়রা উদযাপন শুরু করলেও পরে ভিএআর রিভিউতে সেই গোল বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে খেলোয়াড় ও দর্শক; দুপক্ষই মানসিকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, অতিরিক্ত ব্যবহার খেলাকে যান্ত্রিক করে তুলতে পারে। ফুটবলের সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা, আর সেই অনিশ্চয়তা কমে গেলে খেলাটির আবেগও কমে যায়।

লাভ বেশি না ক্ষতি? সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করে, ভিএআর ফুটবলকে আরও ন্যায্য করেছে। ভুল সিদ্ধান্ত অনেক কমেছে, বড় ম্যাচে অন্যায়ভাবে দল বাদ পড়ার ঘটনা আগের চেয়ে কম দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে; ফুটবল কি এখন আর পুরোপুরি মানুষের খেলা? নাকি ধীরে ধীরে এটি প্রযুক্তিনির্ভর এক ডেটা গেমে পরিণত হচ্ছে? একজন কোচের ভাষায়, প্রযুক্তি রেফারিদের সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু খেলায় মানবিক আবেগ ও নিয়ন্ত্রণ এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান বিশ্বকাপ এখন শুধু ২২ জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়। এটি মানুষ বনাম প্রযুক্তির এক সূক্ষ্ম দ্বন্দ্ব। ভিএআর একদিকে ভুল কমাচ্ছে, অন্যদিকে ফুটবলের আবেগে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তবুও নিশ্চিতভাবে বলা যায়; ফুটবলের ভবিষ্যৎ আর আগের মতো নেই। প্রযুক্তি এখন শুধু সহায়ক নয় বরং খেলাটির সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান শক্তি। আর এই পরিবর্তনের মাঝেই বিশ্বকাপ লিখে চলেছে নতুন ইতিহাস।