জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবার বিশ্বকাপের মাঠেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) জানিয়েছে, চরম তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বিশ্বকাপের অন্তত একটি ম্যাচ সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
বর্তমানে ‘হিট ডোম’-এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও কানাডার কিছু এলাকায় তীব্র তাপদাহ চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় প্যারাগুয়ে ও ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালে তাপমাত্রা বিশ্ব ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো নির্ধারিত নিরাপদ খেলার সীমা অতিক্রম করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, ‘হিট ডোম’-এর কারণে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গরম বাতাস আটকে রয়েছে। ফলে মধ্য-পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলের কয়েকটি অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা (হিট ইনডেক্স) ১০৫ থেকে ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘ফোর্থ অব জুলাই’-এর বিভিন্ন আয়োজনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ুবিজ্ঞানী অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের হুমকি নয়; এটি এখনই মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে প্রভাবিত করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগে বিলম্ব হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।
ফিফপ্রোও বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বাস্তবতায় ভবিষ্যতে টুর্নামেন্ট ও লিগের সময়সূচি নির্ধারণে গরম আবহাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখতে হবে। তবে চরম গরমের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাচ স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার মতো কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম এখনো ফিফার নেই।
পাপ্পু/রিফাত/