বিশ্বকাপে আরও একধাপ এগিয়ে গেল পর্তুগাল। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। টরন্টোতে এই ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেন তার বোন কাতিয়া আভেইরো। তিনি জানান, পর্তুগাল কিংবদন্তি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিতে পারেন।
পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে স্পোর্টটিভির সঙ্গে এক আলাপচারিতায় আভেইরো বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য আছে, সেটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া, সে হয়তো বিদায় জানাতে পারে। যতদিন আছে, উপভোগ করুন। আজ হবে না, তবে খুব শিগগিরই। আমার মনে হয়, এটাই হবে তার শেষ নাচ।’
রোনালদো ২০০৩ সালের আগস্টে ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক করেন। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২৩২টি, যা জোয়াও মুতিনিয়োর চেয়ে ৮৬টি বেশি) এবং সর্বোচ্চ গোলের (১৪৫টি, যা পাউলেতার চেয়ে ৯৮টি বেশি) রেকর্ড তার দখলেই রয়েছে।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলা মাত্র তিনজন ফুটবলারের একজন। এছাড়া ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ও তিনি। যদিও তিনি ২০১৬ সালে পর্তুগালকে তাদের ইতিহাসের প্রথম বড় শিরোপা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, জিতিয়েছিলেন, তবে বিশ্বকাপ শিরোপা এখনো তার অধরাই রয়ে গেছে।
তবে রোনালদোর অবসর নিয়ে যে জল্পনা চলছে, সেটি এখনো পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা নিজে নিশ্চিত করেননি। এদিকে, পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছিলেন, পরবর্তী বিশ্বকাপেও রোনালদো খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই।
গত মাসে কাদেনা সের রেডিওকে মার্তিনেজ বলেছিলেন, ‘সে এটা (বিশ্বকাপ দলে থাকা) অর্জন করেছে। আমি অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ব্যালন ডি’অর জিতেছে, আর পরের দিনই তাদের ক্ষুধা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু রোনালদোর মধ্যে আমরা এক ভিন্ন মানসিকতার উদাহরণ দেখি।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এমন একটি লক্ষ্য থাকাই তাকে দীর্ঘ সময় ধরে খেলে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অবশ্যই এখানে জিনগত একটি দিক রয়েছে, সে যে পরিমাণ পরিশ্রম করে, নিজের শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে- এমন সবকিছুরই সে ব্যবহার করে। আর আছে তার মানসিকতা।’
অনিক/