একটি চিঠি কখনো কখনো মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। মাত্র আট বছর বয়সী মানু লিতভির জীবনেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির জন্মদিনে লেখা আবেগঘন এক চিঠি তাকে পৌঁছে দিয়েছে স্বপ্নের দরজায়। টেলিভিশনের পর্দায় নয়, এবার গ্যালারিতে বসেই বিশ্বকাপে নিজের নায়ককে খেলতে দেখবে আর্জেন্টিনার এই খুদে ফুটবলার। কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ বত্রিশের ম্যাচে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেয়েছে মানু।
মানু আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স-এর বয়সভিত্তিক দলে খেলে। ২৪ জুন, মেসির জন্মদিনে সে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছিল। সেই চিঠি পড়ে শোনানো হয় জনপ্রিয় অনলাইন অনুষ্ঠান ‘সেরিয়া ইনক্রেইবল’-এ। মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। লাখো মানুষ মুগ্ধ হয় ছোট্ট ছেলেটির অনুভূতিতে।
চিঠিতে মানু লিখেছিল, ‘প্রিয় লিও, আজ তোমার জন্মদিন। তাই তোমাকে জানাতে চাই, তুমি আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে মেসির গোল বা ড্রিবল নয়, তার সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে অন্য একটি বিষয়। মানুর ভাষায়, ‘তোমাকে (মেসি) খেলতে দেখলে মনে হয় বলটা যেন তোমার শরীরেরই একটি অংশ। কিন্তু তোমার খেলার চেয়েও আমি বেশি ভালোবাসি তোমার মানুষটাকে। তুমি সব সময় সতীর্থদের পাশে দাঁড়াও, কঠিন সময়েও হাল ছেড়ে দাও না।’
এই কথাগুলোই নাড়া দেয় মেসির অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার একটি প্রতিষ্ঠানের হৃদয়ে। তারা মানুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জানায় এক অবিশ্বাস্য সুখবর। শুধু মানু নয়, তার পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সব আয়োজন করবে তারা।
পরে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মানুর উদ্দেশে আরেকটি চিঠি পড়ে শোনান। সেখানে লেখা ছিল, ‘এবার থেকে তুমি আর একা স্বপ্ন দেখবে না। আমরা চাই, তোমার স্বপ্নের পরের অধ্যায়টিও আমাদের সঙ্গে শুরু হোক। তাই তোমাকে ও তোমার পরিবারকে বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
চিঠিটি শোনার পর বিস্ময় আর আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় ছোট্ট মানু। তার নিজেরও একটি স্বপ্ন আছে। সেটিও লুকিয়ে রাখেনি সে, ‘আমি আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে খেলি। একদিন পেশাদার ফুটবলার হতে চাই। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আমি সেই স্বপ্নের জন্যই প্রার্থনা করি।’
সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণাও মেসি, ‘যখনই মনে হয় পথটা কঠিন, তখন তোমার কথাই ভাবি। কারণ তুমি প্রমাণ করেছ, অসম্ভব মনে হওয়া স্বপ্নও একদিন সত্যি হতে পারে।’
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোরে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নকআউট ম্যাচে গ্যালারিতে বসে থাকবে মানু। হয়তো দূর থেকে দেখবে তার নায়ককে। হয়তো মেসি জানবেনও না, হাজারও দর্শকের ভিড়ে বসে আছে একটি ছোট্ট ছেলে, যে একদিন একটি চিঠি লিখে নিজের স্বপ্নের দরজা খুলে ফেলেছিল।
ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো সব সময় গোল কিংবা ট্রফি নিয়ে লেখা হয় না। কখনো কখনো একটি শিশুর নিষ্পাপ ভালোবাসাও হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত।