ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির ভুলের কোনো সুযোগ নেই: ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’ কেপ ভার্দেকে নিয়ে ডি পলের সতর্কবার্তা গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস কোচের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছেন এনড্রিক রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা

শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান
পতাকায় মোড়ানো কফিন—খামেনির শেষযাত্রার আবেগঘন দৃশ্য। ছবি: এআই

তেহরানে শোকাবহ পরিবেশে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত খামেনির কফিন ধীরগতিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে—যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার কেন্দ্র।

দাফনের পূর্ববর্তী শোকানুষ্ঠানে কালো পোশাকে অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে কফিনটি নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করেন। লাল ফুলে সজ্জিত প্রাঙ্গণ আর চারদিকে উড়তে থাকা সাদা প্রজাপতি যেন শোক, শ্রদ্ধা ও বিদায়ের প্রতীক হয়ে পুরো পরিবেশকে আরও গম্ভীর ও আবেগময় করে তোলে।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই দাফন প্রক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রতীকী তাৎপর্য।

ইরানের শাসকগোষ্ঠী এই আয়োজনকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরছে।

একই সঙ্গে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে দেশটির বিপ্লবী আদর্শ ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে—এমন বার্তাই দেশ-বিদেশে পৌঁছে দিতে চাইছে তেহরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সব জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের ব্যাপক উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত জবাব হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইরানি জাতি তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেরিতে দাফন নিয়ে একটি মহল নেতিবাচক কথা বলছেন। 

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ নেওয়ায় তখন শেষকৃত্য করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় এই বিশাল জানাজার আয়োজন করা হচ্ছে।

সে দেশের কর্মকর্তারা আরও জানান, ধর্মীয় ও আইনি নিয়ম মেনেই এতদিন তার মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক দিয়ে লাশ মমি বা তাজা রাখা নিষেধ। তাই খামেনির মরদেহ মমি না করে আধুনিক ফরেনসিক মর্গের হিমাগারে (ফ্রিজে) বরফ করে রাখা হয়েছিল। শিয়া ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে লাশ ফ্রিজে রেখে দাফন দেরিতে করার সুযোগ রয়েছে। 

শুক্রবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তা হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।

তেহরানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায়, যেখানে লাখো ভক্ত-অনুসারী শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন। এরপর আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে। এই দীর্ঘ পরিক্রমার মাধ্যমে ইরান কেবল একজন নেতাকে বিদায়ই জানাচ্ছে না, বরং তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারের প্রতিও আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

এসএন/

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে চীনের সঙ্গে চলমান আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে 'জে-১০সিই' যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমবিসি) ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ওপর গভীর নজর রাখছে ভারত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নয়াদিল্লিতে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনো উন্নয়নমূলক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং এসব বিষয়ে তারা সচেতন রয়েছে।

জয়সওয়াল আরও বলেন, 'আমরা আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চলের এই ধরণের সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।'

সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর এবং চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার খবর সামনে আসে। 

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় এই বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন।

সফরকালে তিস্তা নদীর উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতির বিষয়েও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন জয়সওয়াল।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি একটি পারস্পরিক সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।

তিস্তা নদী প্রকল্প প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নয়াদিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি আগেই বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কৌশলগত, অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত উদ্যোগ ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক নীতির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নই নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই আলোকে নিজেদের নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।

এসএন/

শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান
পতাকায় মোড়ানো কফিন—খামেনির শেষযাত্রার আবেগঘন দৃশ্য। ছবি: এআই

তেহরানে শোকাবহ পরিবেশে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত খামেনির কফিন ধীরগতিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে—যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার কেন্দ্র।

দাফনের পূর্ববর্তী শোকানুষ্ঠানে কালো পোশাকে অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে কফিনটি নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করেন। লাল ফুলে সজ্জিত প্রাঙ্গণ আর চারদিকে উড়তে থাকা সাদা প্রজাপতি যেন শোক, শ্রদ্ধা ও বিদায়ের প্রতীক হয়ে পুরো পরিবেশকে আরও গম্ভীর ও আবেগময় করে তোলে।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই দাফন প্রক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রতীকী তাৎপর্য।

ইরানের শাসকগোষ্ঠী এই আয়োজনকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরছে।

একই সঙ্গে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে দেশটির বিপ্লবী আদর্শ ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে—এমন বার্তাই দেশ-বিদেশে পৌঁছে দিতে চাইছে তেহরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সব জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের ব্যাপক উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত জবাব হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইরানি জাতি তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেরিতে দাফন নিয়ে একটি মহল নেতিবাচক কথা বলছেন। 

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ নেওয়ায় তখন শেষকৃত্য করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় এই বিশাল জানাজার আয়োজন করা হচ্ছে।

সে দেশের কর্মকর্তারা আরও জানান, ধর্মীয় ও আইনি নিয়ম মেনেই এতদিন তার মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক দিয়ে লাশ মমি বা তাজা রাখা নিষেধ। তাই খামেনির মরদেহ মমি না করে আধুনিক ফরেনসিক মর্গের হিমাগারে (ফ্রিজে) বরফ করে রাখা হয়েছিল। শিয়া ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে লাশ ফ্রিজে রেখে দাফন দেরিতে করার সুযোগ রয়েছে। 

শুক্রবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তা হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।

তেহরানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায়, যেখানে লাখো ভক্ত-অনুসারী শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন। এরপর আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে। এই দীর্ঘ পরিক্রমার মাধ্যমে ইরান কেবল একজন নেতাকে বিদায়ই জানাচ্ছে না, বরং তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারের প্রতিও আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

এসএন/

ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির  হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের
বাংলাদেশ ও ইরানের দুই সংসদ নেতা। ছবি: সংগৃহীত

কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক উষ্ণ পরিবেশে তেহরানে মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশ ও ইরানের দুই সংসদ নেতা।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নিতে সফররত বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন মহামান্য ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরান সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সংহতি প্রকাশ করেন। 

স্পিকার ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক সহজতর করার ক্ষেত্রে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি ইরানের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তিনি চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর টেকসই সমাধান অর্জনে সব পক্ষ এই গতিবেগ গড়ে তুলবে।

স্পিকার গালিবাফকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। 

রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে স্পিকার বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছেছেন। 

এসএন/

জাপানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
জাপানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প
প্রতীকী ছবি

জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের হিরাত উপকূলের অদূরে ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪ মিনিটে সমুদ্রের তলদেশে এই কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল হিরাত শহর থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার নিচে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল সমুদ্রের প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রাথমিকভাবে কোনো সুনামির সতর্কতাও জারি করা হয়নি।

জাপান ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। বেশ কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দেশটির অবস্থান। মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প উপকূলীয় দ্বীপগুলোতে কম্পন সৃষ্টি করলেও এবারের ভূমিকম্পটি সমুদ্রের গভীরে হওয়ায় স্থলভাগে এর প্রভাব সীমিত ছিল।

তামান্না রুপা/

শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো শক্তিশালী রূপ নিবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, এল নিনো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এটি দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। তাই সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। 

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এতে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর এল নিনো দেখা দেয়। যার স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস।

জলবায়ুর এ অবস্থার পরিবর্তন এল নিনো এবং এর বিপরীত অবস্থা লা নিনার মধ্যে ওঠানামা করে। মাঝখানে থাকে নিরপেক্ষ পরিস্থিতি।

জাতিসংঘের এ সংস্থাটি এল নিনোকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অতি শক্তিশালী- এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্থাৎ ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

থিওটোনিয়াস/