ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন- গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া মহল্লার শোয়েব মুন্সি, অলি মুন্সি, নুহ মুন্সি, রাইশিমুল গ্রামের আল ইমরান খান, সাতুতী গ্রামের হাদিস, উজ্জ্বল এবং তারাকান্দা থানার বিসকা গ্রামের রিফাত খান।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সি, ছাত্রদল গৌরীপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা জানান, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল কিনতে গেলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক মানিককে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে সতিষা এলাকার একটি রাস্তায় নিয়ে দফায় দফায় নির্মম নির্যাতন ও মারধর করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে শোয়েব মুন্সির লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’ এমন একটি বক্তব্য মুঠোফোনে রেকর্ড করিয়ে নেয়। এরপর গুরুতর আহত মানিককে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্বজনরা প্রথমে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মানিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে তার পা ও ঊরুর হাড় ভেঙে গিয়েছিল।
নিহতের ভাই সুখ মিয়া জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুন্সি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মানিককে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
রিফাত/