ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির ভুলের কোনো সুযোগ নেই: ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান

শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস
ছবি: এআই

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশ্ব প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। বিশ্বজুড়ে একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ভয়াবহ দূষণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পের ব্যবহার বাড়াতে এই দিনটি পালন করা হয়।

২০০৯ সালে 'ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক মুভমেন্ট' ও 'জিরো ওয়েস্ট ইউরোপ'-এর মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে প্রথম এই সচেতনতামূলক দিবসের সূচনা ঘটে।

প্রতিদিনের কেনাকাটায় আমরা যে পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগগুলো ব্যবহার করছি, তা মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের কাজ শেষে আবর্জনায় পরিণত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ফেলে দেওয়া এই ব্যাগগুলো প্রকৃতিতে টিকে থাকছে ৫০০ বছর পর্যন্ত, যা ডেকে আনছে এক বৈশ্বিক বিপর্যয়।

সামুদ্রিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ওপর নীরব ঘাতক

প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে আমাদের জলজ ও বন্যপ্রাণী। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩১ প্রজাতির সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং একশত এর বেশি প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি অজান্তেই প্লাস্টিক গিলে ফেলছে। এছাড়া ২৫০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী প্লাস্টিকের বর্জ্যে আটকে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। মহাসাগরগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্যের শত শত মাইল বিস্তৃত বিশাল ভাসমান দ্বীপ তৈরি হয়েছে, যা প্রকৃতির বুকে মানুষের তৈরি এক কলঙ্কজনক স্মৃতিস্তম্ভ।

মানবদেহে প্রবেশ করছে বিষাক্ত টক্সিন

প্লাস্টিক শুধু বন্যপ্রাণীরই ক্ষতি করছে না, এটি পরোক্ষভাবে মানুষের প্লেটেও ফিরে আসছে। সাগরে ভেসে থাকা প্লাস্টিক কণাগুলো চারপাশের মারাত্মক রাসায়নিক ও বিষাক্ত উপাদানকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে ছোট ছোট মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করছে।

জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট ও নতুন হুমকি

প্লাস্টিক বর্জ্য শুধু এক জায়গায় স্থির থাকে না। সমুদ্রের স্রোতের সাথে ভেসে বেড়ানোর সময় এগুলো এক অঞ্চলের ক্ষতিকর ও আক্রমণাত্মক বিভিন্ন জীব বা জীবাণুকে অন্য অঞ্চলে বহন করে নিয়ে যায়। এর ফলে নতুন অঞ্চলের স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।

একদিনের অভ্যাস, পুরো বছরের প্রেরণা

২০০৯ সালে 'ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক মুভমেন্ট', 'জিরো ওয়েস্ট ইউরোপ' এবং 'ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড'-এর মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের হাত ধরে এই দিবসের সূচনা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাসীকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে চটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ বা কাগজের থলি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা।

বছরের এই একটি দিন যদি আমরা সম্পূর্ণ প্লাস্টিক মুক্ত থাকতে পারি, তবে সঠিক ইচ্ছাশক্তি থাকলে বছরের বাকি ৩৬৪ দিনও তা সম্ভব। পরিবেশকে বাঁচাতে আজই প্লাস্টিককে 'না' বলার সঠিক সময়।

সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

এএফ/

এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় বাগ্‌দান, পরে গ্রেপ্তার দম্পতি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় বাগ্‌দান, পরে গ্রেপ্তার দম্পতি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনার চূড়ায় উঠে শান্তির বার্তাসংবলিত পতাকা টানানো ও বাগ্‌দানের ঘটনায় দুই রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুরে ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু ভবনটির চূড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান কুজনেতসভ। ইভান ‘ইভান বিয়ারকাস’ নামেও পরিচিত। তাদের বয়স যথাক্রমে ৩৩ ও ৩২ বছর।

তারা রাশিয়ার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে নিউজার্সির ইস্ট অরেঞ্জে থাকেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক ও মুখোশ পরে কোনো নিরাপত্তা দড়ি ছাড়াই ভবনটির অ্যান্টেনার সরু কাঠামোয় ওঠেন তারা। সেখানে তারা একটি কালো পতাকা টানান। পতাকায় লেখা ছিল, ‘যখন ভালোবাসার শক্তি ক্ষমতার লোভকে পরাজিত করে, তখন বিশ্ব শান্তি লাভ করে।’

কিছুক্ষণ পর পতাকাটি নামিয়ে অ্যান্টেনার নিচের একটি প্ল্যাটফর্মে নামেন দুজন। সেখানে ইভান হাঁটু গেড়ে অ্যাঞ্জেলাকে আংটি পরানোর প্রস্তাব দেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। পরে তারা আলিঙ্গন ও চুম্বন করেন। অ্যাঞ্জেলা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আংটি পরা হাতের ছবিও প্রকাশ করেন।

তবে তাদের নিচে নামার সময় নিউইয়র্ক পুলিশের জরুরি সেবা ইউনিটের সদস্যরা অ্যান্টেনায় উঠে তাদের আটক করেন। 

পুলিশ সদস্যদের বডিক্যাম ভিডিওতে এক কর্মকর্তা তাদের বলেন, ‘আপনারা এখানে থাকতে পারেন না।’ জবাবে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বাগ্‌দান হয়েছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে চুরি, বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে জীবন বিপন্ন করা, অনধিকার প্রবেশসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। কীভাবে তারা ভবনটির জনসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ অংশে পৌঁছালেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অননুমোদিত বলে উল্লেখ করেছে। তবে এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে থাকা অন্যদের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান বিয়ারকাস উচ্চ ভবনের চূড়ায় ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা ‘রুফটপিং’-এর জন্য পরিচিত। তাদের সম্পর্ক ও এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে ২০২৪ সালে Skywalkers: A Love Story নামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: এপি ও সিবিএস

অমিয়/

১০টি ফুটবল মাঠের সমান এক জাহাজ!

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
১০টি ফুটবল মাঠের সমান এক জাহাজ!
জাহাজটিতে রয়েছে স্মার্ট গ্যারেজ ভিজ্যুয়াল সিকিউরিটি এবং ৩৬০-ডিগ্রি প্যানোরামিক মনিটরিং ব্যবস্থা।

১০ হাজার ৮০০টি গাড়ি বহনে সক্ষম একটি জাহাজ তৈরি করেছে চীন। জাহাজটি এতই বড় যে এর ভেতরটা প্রায় ১০টি ফুটবল মাঠের সমান। দেশটির চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশনের অধিভুক্ত কুয়াংচৌ শিপইয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল এটি নির্মাণ করেছে।
জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ২৩০ মিটার এবং প্রস্থে ৪০ মিটার। এই জাহাজের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ‘স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেম’।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক লিন চিউয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রথম ১০ হাজার গাড়ি ধারণ ক্ষমতার জাহাজের তুলনায় নতুন এই জাহাজটিতে আরও উন্নত স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মার্ট গ্যারেজ ভিজ্যুয়াল সিকিউরিটি এবং ৩৬০-ডিগ্রি প্যানোরামিক মনিটরিং ব্যবস্থা, যা জাহাজটির চলাচলকে আরও নিরাপদ ও বুদ্ধিদীপ্ত করে তুলেছে।‘
এই ধরনের বিশাল ও জটিল জাহাজ নির্মাণে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। বিশেষ করে পাতলা স্টিলের প্লেট ব্যবহারের সময় সেগুলোর আকার বিকৃত হওয়া রোধ করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।
পরিবেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে জাহাজটি লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস এবং প্রচলিত জ্বালানি—উভয় পদ্ধতিতেই চলতে সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক সর্বশেষ নির্গমন মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করে।
জাহাজটি শুধুমাত্র সাধারণ গাড়িই নয়, বরং বৈদ্যুতিক গাড়ি, হাইড্রোজেনচালিত গাড়ি এবং ভারী ট্রাক পরিবহনেও সক্ষম। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি লজিস্টিক কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হবে, যারা আন্তর্জাতিক রুটে এর কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সূত্র: সিএমজি

পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে সিইও হওয়ার গল্প শোনালেন শরণ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে সিইও হওয়ার গল্প শোনালেন শরণ
শরণ শ্রীভাৎসার

একসময় তাকে বলা হয়েছিল, তীব্র ভারতীয় উচ্চারণের কারণে তিনি কোনো চাকরিই পাবেন না। সেই মানুষটিই আজ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, রিয়েল এস্টেট ও বিজনেস কোচিং জগতের পরিচিত মুখ। Acquisition.com-এর সিইও শরণ শ্রীভাৎসার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প সম্প্রতি তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স হরমোজি।

সম্প্রতি টনি রবিন্সের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজি জানান, দুই দশকেরও বেশি আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর শ্রীভাৎসাকে জীবিকার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতে হয়েছিল। সেই সময় তার তীব্র ভারতীয় উচ্চারণের কারণে অনেকেই তাকে বলেছিলেন, এভাবে কথা বললে তিনি কোথাও চাকরি পাবেন না।

হরমোজির ভাষায়, “প্রায় ২০ বছর আগে এক ভারতীয় যুবক আমেরিকায় এসেছিলেন। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার উচ্চারণ এতটাই আলাদা ছিল যে মানুষ তাকে বলত, ‘তুমি কোথাও চাকরি পাবে না। তোমাকে ঠিকভাবে কথা বলতে শিখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শ্রীভাৎসা ‘ভারতীয় উচ্চারণ কীভাবে দূর করবেন’- এমন কোনো অডিও কোর্স খুঁজেছিলেন। কিন্তু সে ধরনের কিছু না পেয়ে তাকে টনি রবিন্সের অডিও টেপ শোনার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হরমোজি বলেন, “দিনে তিনি মেঝে পরিষ্কার করতেন, আর রাতে টনি রবিন্সের টেপ শুনতেন। পরে তিনি একটি সফটওয়্যার কোম্পানি গড়ে তোলেন, সেটি বিক্রি করেন। এরপর আরেকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। সেই সময়ই তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এখন তিনি Acquisition.com-এ আমার পার্টনার।”

সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শরণ শ্রীভাৎসা নিজেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমিই সেই ভারতীয় ব্যক্তি, যার কথা অ্যালেক্স হরমোজি ও টনি রবিন্স বলেছেন। তীব্র ভারতীয় উচ্চারণ নিয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল, ঠিকভাবে কথা বলতে না পারলে কোথাও চাকরি পাব না। কিন্তু একজন স্পিকিং কোচ রাখার মতো সামর্থ্য আমার ছিল না। আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতাম এবং কোনোমতে সংসার চালাতাম।”

তিনি আরও লেখেন, “আমি নিজেই কথা বলা শিখেছি। কোনো প্রশিক্ষণ কোর্স থেকে নয়; পাবলিক লাইব্রেরি থেকে টনি রবিন্সের অডিও টেপ এনে প্রতি রাতে মেঝে পরিষ্কার করার সময় সেগুলো শুনতাম।”

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের উদ্দেশে শ্রীভাৎসা বলেন, হাল না ছাড়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সাহসিকতার কাজ।

তার ভাষায়, ‘এ কারণেই আমি বিশ্বাস করি, হাল না ছাড়াটাই সবচেয়ে বীরত্বপূর্ণ কাজ। আমি চাইলে অন্যদের কথা শুনে সারাজীবন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবেই থেকে যেতে পারতাম। কিন্তু আপনার শুরুটা কখনোই আপনার পুরো গল্প নয়; এটি কেবল সেই গল্পের প্রথম অধ্যায়।’

টেকসই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্প

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
টেকসই প্যাকেজিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশিল্প
প্রতীকী ছবি

বিশ্বের খাদ্যশিল্পে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, স্মার্ট প্যাকেজিং এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ব্যবসায়িক কৌশল অবলম্বন করছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই প্রবণতা আরও জোরালো হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও কম প্লাস্টিকনির্ভর প্যাকেজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সঙ্গে পণ্যের মোড়কে কিউআর কোড, স্মার্ট লেবেল এবং অন্যান্য ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা সহজেই পণ্যের উৎস, উপাদান, উৎপাদনের তথ্য ও টেকসই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারেন।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে।

এছাড়া খাদ্য অপচয় কমাতে নতুন ধরনের প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়াতে এবং পরিবহনকালে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে খাদ্যশিল্পে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; বরং টেকসই প্যাকেজিং, ডিজিটাল উদ্ভাবন, ভোক্তার আস্থা এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সূত্র: স্মার্ট ফুড প্যাকেজিং সল্যুশন

বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট টিএলপি ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট টিএলপি ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম ১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টেনশন-লেগ প্ল্যাটফর্ম (টিএলপি) প্রযুক্তিনির্ভর ভাসমান অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) এটি দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই থেকে দক্ষিণ চীন সাগরের লুফেং তেলক্ষেত্র ক্লাস্টারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

৩০৭ মিটারেরও বেশি উচ্চতা এবং প্রায় আট হাজার টন ওজনের এই প্ল্যাটফর্মটি একক টারবাইনের ক্ষমতার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম টিএলপি ভাসমান অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্ম।

চালু হওয়ার পর এটি বছরে গড়ে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে এবং প্রায় ১৫ হাজার ঘনমিটার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে।

প্ল্যাটফর্মে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সমুদ্রতলের কেবলের মাধ্যমে সরাসরি লুফেং তেলক্ষেত্র ক্লাস্টারে সরবরাহ করা হবে। 

এর মাধ্যমে সমুদ্রে অবস্থিত তেল ও গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পটি অফশোর তেল ও গ্যাস কার্যক্রমের সঙ্গে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সমন্বিত করেছে। এর ফলে অফশোর তেলক্ষেত্রের কার্বন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি গুয়াংডং–হংকং–ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়ায় ভাসমান অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রকল্পটি সামুদ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এবং পরিচ্ছন্ন, স্বল্প-কার্বন ও অধিক দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সূত্র: সিসিটিভি