শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশ্ব প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। বিশ্বজুড়ে একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ভয়াবহ দূষণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পের ব্যবহার বাড়াতে এই দিনটি পালন করা হয়।
২০০৯ সালে 'ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক মুভমেন্ট' ও 'জিরো ওয়েস্ট ইউরোপ'-এর মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে প্রথম এই সচেতনতামূলক দিবসের সূচনা ঘটে।
প্রতিদিনের কেনাকাটায় আমরা যে পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগগুলো ব্যবহার করছি, তা মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের কাজ শেষে আবর্জনায় পরিণত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ফেলে দেওয়া এই ব্যাগগুলো প্রকৃতিতে টিকে থাকছে ৫০০ বছর পর্যন্ত, যা ডেকে আনছে এক বৈশ্বিক বিপর্যয়।
সামুদ্রিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ওপর নীরব ঘাতক
প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে আমাদের জলজ ও বন্যপ্রাণী। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩১ প্রজাতির সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং একশত এর বেশি প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি অজান্তেই প্লাস্টিক গিলে ফেলছে। এছাড়া ২৫০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী প্লাস্টিকের বর্জ্যে আটকে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। মহাসাগরগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্যের শত শত মাইল বিস্তৃত বিশাল ভাসমান দ্বীপ তৈরি হয়েছে, যা প্রকৃতির বুকে মানুষের তৈরি এক কলঙ্কজনক স্মৃতিস্তম্ভ।
মানবদেহে প্রবেশ করছে বিষাক্ত টক্সিন
প্লাস্টিক শুধু বন্যপ্রাণীরই ক্ষতি করছে না, এটি পরোক্ষভাবে মানুষের প্লেটেও ফিরে আসছে। সাগরে ভেসে থাকা প্লাস্টিক কণাগুলো চারপাশের মারাত্মক রাসায়নিক ও বিষাক্ত উপাদানকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে ছোট ছোট মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করছে।
জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট ও নতুন হুমকি
প্লাস্টিক বর্জ্য শুধু এক জায়গায় স্থির থাকে না। সমুদ্রের স্রোতের সাথে ভেসে বেড়ানোর সময় এগুলো এক অঞ্চলের ক্ষতিকর ও আক্রমণাত্মক বিভিন্ন জীব বা জীবাণুকে অন্য অঞ্চলে বহন করে নিয়ে যায়। এর ফলে নতুন অঞ্চলের স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
একদিনের অভ্যাস, পুরো বছরের প্রেরণা
২০০৯ সালে 'ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক মুভমেন্ট', 'জিরো ওয়েস্ট ইউরোপ' এবং 'ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড'-এর মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের হাত ধরে এই দিবসের সূচনা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাসীকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে চটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ বা কাগজের থলি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা।
বছরের এই একটি দিন যদি আমরা সম্পূর্ণ প্লাস্টিক মুক্ত থাকতে পারি, তবে সঠিক ইচ্ছাশক্তি থাকলে বছরের বাকি ৩৬৪ দিনও তা সম্ভব। পরিবেশকে বাঁচাতে আজই প্লাস্টিককে 'না' বলার সঠিক সময়।
সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার
এএফ/