ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সহজ প্রতিপক্ষ বলা সমালোচকদের জবাব দিলেন স্কালোনি জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ তিব্বতের পতাকা নিয়ে জাতিসংঘের সামনে আত্মহত্যা বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল কষ্টার্জিত জয়ে আত্মসমালোচনায় মেসি চট্টগ্রামে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে জ্বালানি-গাড়ি আমদানি অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে মেসির আরও একটি নতুন ইতিহাস উদাস করা বাবলা ফুল ৪ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি ৪ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে উল্লাস কানাডার ভরসা জোনাথন ডেভিড শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, ম্যাচ কবে-কখন? ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে কানাডা, মরক্কোর চোখ আরও দূরে ৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য গোলে আবারও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় কেপ ভার্দে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ? আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে জোড়া ইতিহাস গড়লেন মেসি

সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ পিএম
সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৩৪ জন ব্যক্তিগত এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ক্যাডারবহির্ভূত সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

রীতি অনুযায়ী, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। ক্যাডারবহির্ভূত পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা উপসচিব (ক্যাডারবহির্ভূত) পর্যন্ত পদোন্নতি পান।

জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
জুলাই শহিদদের স্মরণে আজ বিশেষ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ স্মরণসভা। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহিদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধার’ যৌথ উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। 

স্মরণসভায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি
প্রতীকী ছবি।

একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, অন্যদিকে প্রি-পেইড ও ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটারে অস্বাভাবিক বিল কেটে নেওয়ার অভিযোগ। বিদ্যুৎ-সংকটের এই দ্বিমুখী চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মে ও জুন মাসে বিলের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় আগের মতো থাকলেও বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তিন গুণ পর্যন্ত। অনেকের ভাষায়, এটি বিদ্যুৎ বিল নয়, বিলের নামে প্রকাশ্য ‘ডাকাতি’।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, জেলা থেকে উপজেলা–দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদে কোথাও মানববন্ধন, কোথাও সড়ক অবরোধ, আবার কোথাও বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

অন্যদিকে শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং হওয়ায় বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গ্রাহকদের প্রশ্ন, যখন কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎই পাওয়া যাচ্ছে না, তখন অস্বাভাবিক বিলের বোঝা কেন?

গ্রাহকরা জানিয়েছেন, আগে ১ হাজার টাকার রিচার্জে ১৫ থেকে ২০ দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করা গেলেও এখন সেই টাকা তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ বাড়িতে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র যোগ হয়নি বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রি-পেইড মিটারে ভুতুড়ে বিল আসছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ২২ জুন ৫ হাজার টাকা রিচার্জ করি। কিন্তু ডিপিডিসির পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার্ড মোবাইল নাম্বারে টাকা জমা দেওয়ার কোনো মেসেজ আসেনি। অন্যদিকে মাত্র আট দিনের মাথায় ১ জুলাই ৫ হাজার ৯৯২ টাকা বিল বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিজ বলেন, ‘আগে মাসিক বিদ্যুৎ খরচ মোটামুটি নির্দিষ্ট ছিল। এখন কয়েক হাজার টাকা রিচার্জ করার পরও কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে এই বিলের কোনো মিল পাচ্ছি না।’

শুধু বিলের পরিমাণ নয়, রিচার্জের পর কোন খাতে কত টাকা কাটা হচ্ছে, তা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্য খাতে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তার স্বচ্ছ হিসাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় না। ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল ও অতিরিক্ত চার্জের পরিমাণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক রিচার্জের তথ্য ও মিটারের ছবি প্রকাশ করে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। অনেকের দাবি, আগে যেখানে মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যেত, এখন একই ব্যবহারে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ডিজিটাল মিটারের সফটওয়্যার, কনফিগারেশন, ওভার-রিডিং কিংবা বিলিং ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি। তাদের মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় যদি অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি ডি রহমতউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আগে অনিয়ম হতো ম্যানুয়ালি, এখন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। যদি মিটারের প্রোগ্রামিংয়ে ভুল থাকে বা ওভার-রিডিং হয়, তাহলে এর দায় কে নেবে? এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে দেখা যায়নি।

সারা দেশে বিদ্যুৎ বিলের নামে ‘ডাকাতি’র ঘটনায় গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশের পর বিদ্যুৎ বিভাগও বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ ও চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় অস্বাভাবিক বিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত অভিযোগ নিরসনে বিতরণ সংস্থার সঙ্গে সরাসরি বা হটলাইনে যোগাযোগের জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ক্ষেত্রে হটলাইন নাম্বারগুলো হলো–বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা-১৬৯৯৯, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কল সেন্টার-১৬২০০, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (পবিবো) কল সেন্টার-১৬৮৯৯, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কল সেন্টার-১৬১১৬, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) কল সেন্টার-১৬১২০, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) কল সেন্টার-১৬৬০৩, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কল সেন্টার-১৬১১৭।

এদিকে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও লোডশোডিং প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গণমাধ্যমে কথা বলেন। গতকাল যশোর সার্কিট হাউসে জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই তপ্ত গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সার্ভিস নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। কয়েক জায়গায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে, আমরা প্রতিটি বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ সেন্টার করেছি। সেখানে যোগাযোগ করে সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছি। জনগণকে সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তবে রাষ্ট্রীয় সংস্থায় দুর্নীতি বন্ধ না হলে জনগণের সঙ্গে এসব প্রতারণা চলতে থাকবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তার মতে, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের ফল।

শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না করলে শুধু গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত মূল্য চাপিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। যারা অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ভোক্তার ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পুরো খাতে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

এদিকে খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যেও জনদুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, মিটার রিডিং না দেখেই জুন মাসে মনগড়া ও ‘ভুতুড়ে’ অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন কাশীনাথপুর জোনাল ও সাঁথিয়া সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও বিপাকে পড়েছেন বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার শত শত সাধারণ গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এই অস্বাভাবিক বিলের বোঝা তাদের ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, কাশীনাথপুর জোনাল অফিসের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জন। এই গ্রাহকদের একটি বড় অংশই চলতি মাসের বিল হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে গেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও বিলের অঙ্ক যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। যেখানে আগে একটি পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে চলতি জুনে তাদের বিল গুনতে হচ্ছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা।

ফজলুল হক নামে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক তার বিলের কাগজ দেখিয়ে বলেন, ‘গত মে মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৬৪৬ টাকা এবং ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৬০ ইউনিট। অথচ জুন মাসে এসে সেই বিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭২ টাকা আর ব্যবহারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১১০ ইউনিট। আমাদের এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরের বিল এই মাসে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে।’

বিদ্যুৎ বিলের এই ভুতুড়ে কাণ্ড ও গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাশীনাথপুর জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আহমেদ শাহ আল জাবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি মৌখিকভাবে জানান, যদি কোনো গ্রাহক অতিরিক্ত বা ভুল বিলের কাগজ নিয়ে অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন, তবে সেটি তদন্তসাপেক্ষে সংশোধন বা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর করেন এলাকাবাসী। গাজীপুর, সাতক্ষীরা, জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি উপজেলায় দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ভাঙচুর ও মানববন্ধন হয়েছে কয়েক দফা। কয়েক দিন ধরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির
ছবি: এআই

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষায়িত দপ্তর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে জলবায়ুগত কারণেই এ সময়ে বন্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। একই সঙ্গে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে প্রায় প্রতি বছরই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর উজান ও অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের নদ-নদীতে। তাই চলতি বছরও ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগে বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এফএফডব্লিউসি। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব সর্বোচ্চ তিন দিন আগে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। একই সময়ে মেঘনা অববাহিকায়ও বড় ধরনের অবনতির আশঙ্কা নেই।

তবে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। 
প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে আগামী চার দিনে তা আবার বাড়তে পারে এবং পঞ্চম দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে দেশের সবচেয়ে বড় বন্যাগুলোর বেশির ভাগই জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ১ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা– এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে উচ্চপ্রবাহ দেখা দিলে বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তী সময়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বড় বন্যায়ও সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ পিএম
খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান পার্লামেন্ট স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে তেহরানে পৌঁছে তিনি ইরানের ইসলামিক কনসাল্টেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে সৌজন্য ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন।

বৈঠকে স্পিকার গালিবাফ বাংলাদেশের স্পিকার ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।বৈঠকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই জাতীয় শোকের সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে ইরানের সরকার এবং দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানানো হচ্ছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।’

বৈঠকে স্পিকার সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকারের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন বজায় রাখবে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারা বজায় রাখতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে ইরানের ডেপুটি স্পিকারসহ দেশটির ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্যরা এবং তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যত শক্তিশালী হবে, দেশের গণতন্ত্রও তত বেশি সুসংহত হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরবেন। যে ভালো কাজ করবে তাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, আর যে অন্যায় করবে তাকে সমালোচনার মুখোমুখি করতে হবে। তিনি বলেন, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানো গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের ওপর। তাই সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দু’টি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন দিতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।