ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ বাড়ছে জমি নিবন্ধনের খরচ ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতার ঢাল, গতির তলোয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই আরাগচি-গালিবাফকেও হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল কষ্টার্জিত জয়ে আত্মসমালোচনায় মেসি চট্টগ্রামে রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে জ্বালানি-গাড়ি আমদানি অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে মেসির আরও একটি নতুন ইতিহাস উদাস করা বাবলা ফুল ৪ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহক ভোগান্তি ৪ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে উল্লাস কানাডার ভরসা জোনাথন ডেভিড শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, ম্যাচ কবে-কখন? ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে কানাডা, মরক্কোর চোখ আরও দূরে ৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য গোলে আবারও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় কেপ ভার্দে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ? আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে জোড়া ইতিহাস গড়লেন মেসি মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন

কানাডার ভরসা জোনাথন ডেভিড

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ এএম
কানাডার ভরসা জোনাথন ডেভিড
জোনাথন ডেভিড। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে ছোট একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কানাডা যখন মরক্কোর মুখোমুখি হবে তখন কানাডার সমর্থকদের চোখ থাকবে একজনের দিকেই। তিনি জোনাথন ডেভিড।

মাত্র ২৬ বছর বয়সেই কানাডার আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। গতি, নিখুঁত ফিনিশিং, বক্সের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার বুদ্ধিমত্তা এবং অল্প জায়গায় সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা–সব মিলিয়ে জোনাথন ডেভিড এমন এক স্ট্রাইকার, যিনি মুহূর্তের মধ্যেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

কানাডার সাম্প্রতিক উত্থানের গল্পে ডেভিডের অবদান অনস্বীকার্য। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ইতোমধ্যেই অন্যতম সফল গোলদাতাদের একজন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৭৭ ম্যাচ খেলে ৩৯ গোল করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কানাডার আধুনিক ফুটবলের প্রতীক হিসেবে। বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতাই তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।

ডেভিডের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমাত্রিক আক্রমণভঙ্গি। তিনি শুধু বক্সের ভেতরের শিকারি নন; মাঝমাঠে নেমে খেলা গড়তে পারেন, উইংয়ে সরে গিয়ে জায়গা তৈরি করতে পারেন, আবার ডিফেন্ডারদের পেছনে দৌড়ে রক্ষণ ভেঙেও ফেলতে পারেন। কোচ হেসে মার্শচ-এর উচ্চ-তীব্রতার প্রেসিং কৌশলে ডেভিড তাই শুধু গোলদাতা নন, প্রথম সারির ডিফেন্ডারও।

শেষ বত্রিশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডা জিতলেও গোল পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ওই ম্যাচে ডেভিড প্রতিপক্ষের রক্ষণে লাগাতার চাপ তৈরি করেন। অনেক সময় স্কোরশিটে নাম না থাকলেও ম্যাচে তার প্রভাব থেকে যায় গভীরভাবে।

মরক্কোর বিপক্ষে ডেভিডের পরীক্ষা আরও কঠিন। কারণ অ্যাটলাস লায়ন্সদের রক্ষণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন আশরাফ হাকিমির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। দ্রুত ট্রানজিশন, সংগঠিত ডিফেন্স এবং বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ-এই তিন শক্তিতে মরক্কো প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ফলে ডেভিডকে জায়গা বের করে নিতে হবে সীমিত সুযোগের মধ্যেই।

তবে বড় খেলোয়াড়দের পরিচয়ই হলো বড় ম্যাচে। জোনাথন ডেভিড সেই ধরনের ফুটবলার, যিনি একটি সুযোগ থেকে গোল বের করে আনতে পারেন। প্রতিপক্ষের এক মুহূর্তের ভুল, একটি আলগা পাস, কিংবা একটি ফাঁকা জায়গা–এসবই তার জন্য যথেষ্ট।

ফুটবলের ইতিহাস বলে, নকআউট পর্বে নায়করা অনেক সময় আগেভাগে চিহ্নিত হয়ে থাকেন না; তারা নিজেদের তৈরি করেন ম্যাচের ভেতরে। কিন্তু কানাডার সমর্থকরা চাইবেন, হিউস্টনের রাতে সেই নায়ক হয়ে উঠুন জোনাথন ডেভিড।

কানাডার স্বপ্ন এখন অনেকটাই তার বুটে বন্দি। শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা যাবে- ডেভিড কি সত্যিই কানাডাকে নতুন ইতিহাসের পথে এগিয়ে নিতে পারেন, নাকি মরক্কোর শক্ত রক্ষণ তার আলো নিভিয়ে দেয়।

কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসালেন মেসি
আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই যে কঠিন, তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় পেলেও প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষেও ভালো খেলেছে। প্রথম গোল করার পর ভেবেছিলাম ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে আসবে। কিন্তু উল্টো আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি এবং নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলাতে বাধ্য হই।’

বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশের কথা উল্লেখ করে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা বলেন, ‘এটা এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও ছেড়ে দেয় না। নাম বা ঐতিহ্য দেখে প্রতিপক্ষকে বিচার করার সুযোগ নেই। সব দলই এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।’

দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের ভালো কিছু দিকও ছিল। আবার বেশ কিছু ভুলও হয়েছে। এখন বিশ্রাম নিয়ে ইতিবাচক বিষয়গুলো ধরে রাখতে হবে এবং ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে।’

ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেসি নিজেই। দলের প্রথম গোলটি করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে যান ২০ এ। এছাড়া লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোল এবং প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল-দুটিরই সূচনা হয় মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে।

পাপ্পু/এএফ

ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে যে বার্তা দিলেন মিশরের কোচ
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ড্যালাসের মাঠে টাইব্রেকারে রোমাঞ্চকর জয়ের পরপরই তিনি মাঠে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরেন এবং এই ঐতিহাসিক অর্জন ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

শুক্রবার (স্থায়ী সময়) অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো বা রাউন্ড অব ১৬-এ জায়গা করে নেয় 'ফারাও' খ্যাত মিশর।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে হোসাম হাসান বলেন, 'আমার হৃদয় ও আত্মা সর্বদা তাদের সাথেই রয়েছে। ঈশ্বর ফিলিস্তিনের শহীদদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় তাকে আরও বলতে শোনা যায়, 'আমি এই ঐতিহাসিক জয় মিশরীয় জনগণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের সেই ভালো ও উদার মনের মানুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।'

আজহার/

কষ্টার্জিত জয়ে আত্মসমালোচনায় মেসি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
কষ্টার্জিত জয়ে আত্মসমালোচনায় মেসি
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি । ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে রীতিমতো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। মায়ামিতে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে পরবর্তী পর্বের টিকিট কেটেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিওনেল মেসি যেমন দলের দুর্বলতা অকপটে স্বীকার করেছেন, তেমনি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতার ওপরও রেখেছেন পূর্ণ আস্থা।

মেসি বলেন, ‘এই দলটা অনেক দিন ধরেই প্রমাণ করে আসছে যে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে জানে। আজও আমরা সেটাই করেছি।’ ম্যাচে সেট পিস থেকে সফলতা পাওয়াকে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তার ভাষ্যে, ‘গত কয়েক ম্যাচে আমরা সেট পিস ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু আজ সেই জায়গায় সফল হয়েছি। আমাদের দলে কয়েকজন দারুণ হেডার আছেন এবং বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে সেট পিস আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে জয় পেলেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন মেসি। তার মতে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রেসিং এবং রক্ষণাত্মক সংগঠনে ঘাটতি ছিল। আমরা ওদের ওপর ঠিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারছিলাম না। রক্ষণ ও মাঝমাঠের লাইনের মধ্যে অনেক ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল। ফলে প্রতিপক্ষ সহজেই বল চালাচ্ছিল এবং আমাদের রক্ষণকে সমস্যায় ফেলছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিছুটা অগোছালো ছিলাম। মনে হচ্ছিল মাঠে ওদের একজন খেলোয়াড় বেশি। আমাদের প্রেসিং পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি, আর সেটার সুযোগ নিয়েই তারা পুরো ম্যাচে আমাদের চাপে রেখেছিল।’

পাপ্পু/এএফ

অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে
অনুশীলনে ফ্রান্সের দুই প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স যে রূপে হাজির হয়েছে, তাতে দলটিকে অপ্রতিরোধ্য বলতে দ্বিধা করছে না কেউই। ২০১৮ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ঘরে তোলা দলটি ২০২২-এ আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হারায়। তবে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে সেদিন রূপকথার মতো লড়াই উপহার দিয়েছিল ফরাসিরা।

বলা যায়, সে দিনের সেই না পারাটা যেন আরও তেঁতে তুলেছে দলটিকে। ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেদের ধার বেড়ে আরও দ্বিগুণ হয়েছে। এই দলটাকে আদৌ কেউ থামাতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে তাই অনেকেই ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে দিচ্ছেন। এমন আবহের মাঝেই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্যারাগুয়ে।

ফিলাডেলফিয়ায় যে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায়।

গ্রুপ পর্বের তিনটি ও রাউন্ড অব বত্রিশের একটি মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিজেদের চার ম্যাচই দাপটের সঙ্গে জিতেছে ফ্রান্স। সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আসর শুরুর পর ইরাককে ৩-০ ও নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়। এরপর শেষ বত্রিশে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে। চার ম্যাচেই দলটির গোল ১৩টি; বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ২ গোল।

দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারও দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। ৪ ম্যাচে ৬ গোল করে আরও একবার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি। ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে শুরুর দিকে ভুগলেও পরে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্সের জার্সিতে মেজর কোনো টুর্নামেন্টে গোল ছিল না তার।

অথচ এখন তার নামের পাশে ৪ ম্যাচে ৪ গোল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট ২টি। এই দুজনের সঙ্গে মাইকেল ওলিসে, ব্রাদলে বারকোলাদের নিয়ে এক দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ গড়ে উঠেছে ফরাসি দলে। যারা প্রতি ম্যাচে মাঠজুড়ে জাদুর প্রদর্শনী দেখিয়ে যাচ্ছেন। ফ্রান্সের এই আক্রমণভাগকে অনেকে ১৯৭০ সালের কিংবদন্তি ব্রাজিল দলের সঙ্গেও তুলনা করা শুরু করেছেন।

তবে প্যারাগুয়ে শেষ বত্রিশে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে এই মঞ্চে এসেছে। ফলে দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার উপায় নেই। বিশ্বকাপের মঞ্চে সবশেষ ১৯৯৮ সালে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসিরা। সেবার ১-০ গোলে জয় পাওয়া ফ্রান্স পরবর্তীতে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলে। সেই সময় ফ্রান্সের অধিনায়ক ছিলেন যিনি, সেই দেশম এখন দলটির ডাগআউট সামলাচ্ছেন।

অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি কোচ হিসেবেও যিনি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ফিলাডেলফিয়ায় পৌঁছে সেই দেশম প্রতিপক্ষ নিয়ে বলেছেন, ‘প্যারাগুয়েকে যা অর্জন করেছে (জার্মানিকে হারানো), সেটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো যেমন হয়, তারা তেমনই একটা দল। বল দখলের ডুয়েলে শক্তিশালী, ভীষণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তাদের দলে দারুণ মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। কোনো দলই ভাগ্যের জোরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছায় না।’

প্যারাগুয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হেরে। তবে এরপর তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র করে তৃতীয়সেরা দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে উঠে আসে। এরপর জার্মানির বিপক্ষে তাদের টাইব্রেকারের ওই ৪ (১)-৩ (১) গোলের রোমাঞ্চকর জয়। যে ম্যাচে নায়ক ছিলেন দলটির গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। আজ এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের সামনে বড় বাধা হতে পারেন তিনিই।

তবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে, দুই দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ফিলাডেলফিয়ার আবহাওয়া। ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শহরের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে আবার ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্স ইতোমধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় খেলেছে। গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে তাদের ৩-০ জয়ের ম্যাচটি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। আজ তেমন কিছু হলে দুদলের জন্যই কঠিন হবে। কারণ নকআউট ম্যাচ হওয়ায় খেলা অতিরিক্ত সময়েও গড়াতে পারে বা পেনাল্টি পর্যন্তও যেতে পারে।

বিশ্বকাপে দুদলের সর্বশেষ লড়াইটিও অতিরিক্ত সময়ে গিয়েছিল। সেই ম্যাচ জয়ের মুহূর্তটিকে ফরাসি জাতীয় দলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়। কে জানে, প্যারাগুয়ে না আবার প্রতিশোধের আগুন জ্বালায়!

মেসির আরও একটি নতুন ইতিহাস

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
মেসির  আরও একটি নতুন ইতিহাস
কেপ ভার্দের বিপক্ষে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ চলাকালীন মাঠে লিওনেল মেসি। | ছবি : এএফপি

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল করার পাশাপাশি গোল করানোর ক্ষেত্রেও অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসি। ফুটবলের মহাযজ্ঞে অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর রেকর্ডে তিনি ছুঁয়েছেন তারই আদর্শ এবং আর্জেন্টিনার ফুটবলের ঈশ্বর দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে। ফিফা কর্তৃক ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে বর্তমানে এই দুই মহাতারকার অ্যাসিস্ট সংখ্যা সমান ৮টি। আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করতে পারলেই নতুন এই ইতিহাস গড়বেন এই মহাতারকা।

দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদু (৮টি অ্যাসিস্ট): ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা একাই ৫টি গোল করার পাশাপাশি ৫টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন, যা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ এনে দেয়। এরপর ১৯৯০ বিশ্বকাপে ২টি এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ১টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

লিওনেল মেসির ধারাবাহিকতা (৮টি অ্যাসিস্ট): ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ১টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ১টি করে, ২০১৮ বিশ্বকাপে ২টি এবং সবশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ৩টি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি নিজে ৭টি গোল করেন। এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যারাডোনার সমান ৮টি অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

যদিও ম্যারাডোনার ২১ ম্যাচের তুলনায় মেসির এই রেকর্ড গড়তে ২৬টি ম্যাচ লেগেছে, তবে গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ অবদানের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছেন এলএম১০। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দুই ভিন্ন প্রজন্মের এই দুই বাঁ পায়ের জাদুকর তাদের সৃষ্টিশীল খেলা দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজেদের চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন।

আজহার/