বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে ছোট একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কানাডা যখন মরক্কোর মুখোমুখি হবে তখন কানাডার সমর্থকদের চোখ থাকবে একজনের দিকেই। তিনি জোনাথন ডেভিড।
মাত্র ২৬ বছর বয়সেই কানাডার আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। গতি, নিখুঁত ফিনিশিং, বক্সের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার বুদ্ধিমত্তা এবং অল্প জায়গায় সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা–সব মিলিয়ে জোনাথন ডেভিড এমন এক স্ট্রাইকার, যিনি মুহূর্তের মধ্যেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
কানাডার সাম্প্রতিক উত্থানের গল্পে ডেভিডের অবদান অনস্বীকার্য। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ইতোমধ্যেই অন্যতম সফল গোলদাতাদের একজন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৭৭ ম্যাচ খেলে ৩৯ গোল করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কানাডার আধুনিক ফুটবলের প্রতীক হিসেবে। বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতাই তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।
ডেভিডের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমাত্রিক আক্রমণভঙ্গি। তিনি শুধু বক্সের ভেতরের শিকারি নন; মাঝমাঠে নেমে খেলা গড়তে পারেন, উইংয়ে সরে গিয়ে জায়গা তৈরি করতে পারেন, আবার ডিফেন্ডারদের পেছনে দৌড়ে রক্ষণ ভেঙেও ফেলতে পারেন। কোচ হেসে মার্শচ-এর উচ্চ-তীব্রতার প্রেসিং কৌশলে ডেভিড তাই শুধু গোলদাতা নন, প্রথম সারির ডিফেন্ডারও।
শেষ বত্রিশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডা জিতলেও গোল পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ওই ম্যাচে ডেভিড প্রতিপক্ষের রক্ষণে লাগাতার চাপ তৈরি করেন। অনেক সময় স্কোরশিটে নাম না থাকলেও ম্যাচে তার প্রভাব থেকে যায় গভীরভাবে।
মরক্কোর বিপক্ষে ডেভিডের পরীক্ষা আরও কঠিন। কারণ অ্যাটলাস লায়ন্সদের রক্ষণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন আশরাফ হাকিমির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। দ্রুত ট্রানজিশন, সংগঠিত ডিফেন্স এবং বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ-এই তিন শক্তিতে মরক্কো প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ফলে ডেভিডকে জায়গা বের করে নিতে হবে সীমিত সুযোগের মধ্যেই।
তবে বড় খেলোয়াড়দের পরিচয়ই হলো বড় ম্যাচে। জোনাথন ডেভিড সেই ধরনের ফুটবলার, যিনি একটি সুযোগ থেকে গোল বের করে আনতে পারেন। প্রতিপক্ষের এক মুহূর্তের ভুল, একটি আলগা পাস, কিংবা একটি ফাঁকা জায়গা–এসবই তার জন্য যথেষ্ট।
ফুটবলের ইতিহাস বলে, নকআউট পর্বে নায়করা অনেক সময় আগেভাগে চিহ্নিত হয়ে থাকেন না; তারা নিজেদের তৈরি করেন ম্যাচের ভেতরে। কিন্তু কানাডার সমর্থকরা চাইবেন, হিউস্টনের রাতে সেই নায়ক হয়ে উঠুন জোনাথন ডেভিড।
কানাডার স্বপ্ন এখন অনেকটাই তার বুটে বন্দি। শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা যাবে- ডেভিড কি সত্যিই কানাডাকে নতুন ইতিহাসের পথে এগিয়ে নিতে পারেন, নাকি মরক্কোর শক্ত রক্ষণ তার আলো নিভিয়ে দেয়।