ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে উল্লাস কানাডার ভরসা জোনাথন ডেভিড শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, ম্যাচ কবে-কখন? ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে কানাডা, মরক্কোর চোখ আরও দূরে ৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য গোলে আবারও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় কেপ ভার্দে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ? আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে জোড়া ইতিহাস গড়লেন মেসি মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা মেসির গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ?

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ এএম
ভিএআর: আশীর্বাদ না অভিশাপ?
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মানেই আবেগ, আবার বিতর্কও। আবার ক্ষণিকের ভুল সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। এতদিন এই ভুল-সিদ্ধান্তই ছিল খেলাটির অংশ। কিন্তু এখন সেই চিরচেনা ফুটবলে ঢুকে পড়েছে প্রযুক্তির তীক্ষ্ণ চোখ; ভিএআর (VAR)। চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে এটি শুধু একটি প্রযুক্তি নয় বরং ম্যাচের ফল বদলে দেওয়া এক শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে।

বিশ্বকাপের এই আসরে ভিএআর নিয়ে আলোচনা এখন সবচেয়ে বেশি। কারও কাছে এটি ন্যায়ের রক্ষাকবচ, আবার কারও কাছে খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করার একটি মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক ফুটবলে এর প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হলো এমন একটি সিস্টেম, যেখানে মাঠের সিদ্ধান্ত যাচাই করতে ব্যবহার করা হয় একাধিক ক্যামেরা ও ভিডিও রিভিউ। ম্যাচ চলাকালে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত; যেমন গোল, পেনাল্টি, অফসাইড বা রেড কার্ড; সন্দেহজনক মনে হলে রেফারি ভিএআর রুমে থাকা সহকারীদের সাহায্য নেন।

ভিএআর মূলত চারটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে; গোল বৈধ কি না, পেনাল্টি সিদ্ধান্ত, সরাসরি রেড কার্ড, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না। ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথম চালু হওয়ার পর থেকে এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে ধরা হয়।

চলমান বিশ্বকাপে ভিএআর আগের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি সক্রিয়। অনেক ম্যাচেই এটি সরাসরি ফল বদলে দিয়েছে। যেমন নকআউটের ম্যাচে জার্মানির সম্ভাব্য জয়সূচক গোল ভিএআর রিভিউয়ের পর বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। সেই ম্যাচে পরে টাইব্রেকারে জয় পায় প্যারাগুয়ে।

আবার অন্য এক ম্যাচে বেলজিয়াম অতিরিক্ত সময়ে ভিএআর রিভিউয়ের মাধ্যমে পেনাল্টি পেয়ে যায় এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে যায় বেলজিকরা। কপাল পোড়ে আফ্রিকার দল সেনেগালের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের এক ম্যাচে ভুল করে অন্য খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়, যা পরে ভিএআর প্রযুক্তি ধরে ফেলে এবং সংশোধন করা হয়।

সর্বশেষ পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও দেখা গেছে এমনটি। শেষ মুহূর্তে ২-২ গোলে সমতা এনেছিল ক্রোয়েশিয়া। উৎসবের আবহে তখন ক্রোয়াট শিবির। তবে ভিএআরে দেখা যায় সেটি ছিল অফসাইডে গোল। শেষ ষোলোতে উঠে যায় রোনালদোর পর্তুগাল, বাদ পড়ে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, ভিএআর শুধু গোল বা অফসাইড নয়; খেলার ন্যায্যতা রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রাখছে।

চলমান বিশ্বকাপকে ফিফা বলছে ‘সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বকাপ’। এখানে শুধু ভিএআর নয়, ব্যবহার হচ্ছে এআই, স্মার্ট বল টেকনোলজি এবং থ্রি ডি প্লেয়ার ট্র্যাকিং। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ভার্চুয়াল মডেল তৈরি করা হচ্ছে, যা দর্শকদের বোঝাতে সাহায্য করছে কেন একটি অফসাইড বা ফাউল সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো। অনেক সময় অতি সূক্ষ্ম মিলিমিটার ব্যবধানে অফসাইড ধরা পড়ছে, যা আগে মানবচোখে বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল।

এ ছাড়া বলের ভেতরে থাকা সেন্সর চিপ ব্যবহার করে ‘Connected Ball Technology’ সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করছে। একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে বলের সঙ্গে কে কখন সংযোগ করেছে, সেটাও এখন ডেটা দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফিফার প্রযুক্তি অংশীদার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, রেফারিদের হেডসেট ক্যামেরার মাধ্যমে দর্শকরাও এখন রেফারির দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পারছে; যা ফুটবলে এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

সবকিছুর পরেও ভিএআর নিয়ে বিতর্ক থেমে নেই। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে। একটি সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে, ফলে স্টেডিয়ামে উত্তেজনা কমে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, গোল হওয়ার পর খেলোয়াড়রা উদযাপন শুরু করলেও পরে ভিএআর রিভিউতে সেই গোল বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে খেলোয়াড় ও দর্শক; দুপক্ষই মানসিকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, অতিরিক্ত ব্যবহার খেলাকে যান্ত্রিক করে তুলতে পারে। ফুটবলের সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা, আর সেই অনিশ্চয়তা কমে গেলে খেলাটির আবেগও কমে যায়।

লাভ বেশি না ক্ষতি? সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করে, ভিএআর ফুটবলকে আরও ন্যায্য করেছে। ভুল সিদ্ধান্ত অনেক কমেছে, বড় ম্যাচে অন্যায়ভাবে দল বাদ পড়ার ঘটনা আগের চেয়ে কম দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে; ফুটবল কি এখন আর পুরোপুরি মানুষের খেলা? নাকি ধীরে ধীরে এটি প্রযুক্তিনির্ভর এক ডেটা গেমে পরিণত হচ্ছে? একজন কোচের ভাষায়, প্রযুক্তি রেফারিদের সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু খেলায় মানবিক আবেগ ও নিয়ন্ত্রণ এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান বিশ্বকাপ এখন শুধু ২২ জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়। এটি মানুষ বনাম প্রযুক্তির এক সূক্ষ্ম দ্বন্দ্ব। ভিএআর একদিকে ভুল কমাচ্ছে, অন্যদিকে ফুটবলের আবেগে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তবুও নিশ্চিতভাবে বলা যায়; ফুটবলের ভবিষ্যৎ আর আগের মতো নেই। প্রযুক্তি এখন শুধু সহায়ক নয় বরং খেলাটির সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান শক্তি। আর এই পরিবর্তনের মাঝেই বিশ্বকাপ লিখে চলেছে নতুন ইতিহাস।

শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, ম্যাচ কবে-কখন?

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ এএম
শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, ম্যাচ কবে-কখন?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এটি টানা ষষ্ঠ আসরে আর্জেন্টিনার রাউন্ড অব ১৬-এ ওঠার কীর্তি।

শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন লিওনেল মেসি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এছাড়া একটি আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান তৈরি হয়। ম্যাচে কঠিন লড়াইয়ের পরও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

রাউন্ড অব ১৬-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে মিশর। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ।

মিশর নিজেদের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন দুই তারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহ।

এসজি/

নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ এএম
নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা
ছবি: সংগৃহীত

নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। তাতে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। হারলেও দারুণ লড়াইয়ে মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল কেপ ভার্দে।  

শনিবার (৪ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে শেষ হয়। তাতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। 

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে (৯২ মিনিটে) আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কর্নার থেকে আসা বলটি ম্যাক অ্যালিস্টারের মাথায় লেগে দূরের পোস্টে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কাছে পৌঁছে যায়। তিনি প্রথমে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং দিক বদলে দুর্দান্ত এক শটে ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন। তাতে আবারও এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। 

আর্জেন্টিনাকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দেয়নি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি কাবরাল ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর দারুণ বাঁকানো এক শটে বলটি সরাসরি দূরের ওপরের কোণায় জড়িয়ে দেন। অবিশ্বাস্য এক গোলে দলকে সমতায় ফেরালেন তিনি।

প্রথম অর্ধের ইনজুরি সময়ে কেপ ভার্দেকে বাঁচিয়ে দেন ভোজিনহা। বলটি লিওনেল মেসির কাছে এসে পড়ে। দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি সহজেই বলটি জালের কোণায় পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু দ্রুত নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ফিরিয়ে দিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান ভোজিনহা। তাতে ইনজুরি টাইমের প্রথম অর্ধ ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়।

দ্বিতীয় অর্ধে মাঠে নেমে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার কিক থেকে হেডে বল জালে জড়ান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, রোমেরোর হেড প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। এতে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ১১৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সিডনি কাবরালের বাঁকানো শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়ে দেন এমি মার্টিনেজ। এরপর বক্সের ভেতর থেকে দিনেই বোর্হেসের হেডটিও ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরলেও শেষবার আর পেরে উঠেনি কেপ ভার্দে। তাতে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে প্রথম বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েই বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। 

এসজি/ 

অবিশ্বাস্য গোলে আবারও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় কেপ ভার্দে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৮ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ এএম
অবিশ্বাস্য গোলে আবারও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় কেপ ভার্দে
ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচটি শেষ হওয়ায় তা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যেখানে শুরুতেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তবে এরপর অবিশ্বাস্য এক গোলে কেপ ভার্দেকে সমতায় ফেরান সিডনি কাবরাল। তাতে ইনজুরি সময়ের প্রথম অর্ধ শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়। 

শনিবার (৪ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে শেষ হয়। তাতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। 

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে (৯২ মিনিটে) আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কর্নার থেকে আসা বলটি ম্যাক অ্যালিস্টারের মাথায় লেগে দূরের পোস্টে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কাছে পৌঁছে যায়। তিনি প্রথমে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং দিক বদলে দুর্দান্ত এক শটে ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন। তাতে আবারও এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। 

আর্জেন্টিনাকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দেয়নি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি কাবরাল ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর দারুণ বাঁকানো এক শটে বলটি সরাসরি দূরের ওপরের কোণায় জড়িয়ে দেন। অবিশ্বাস্য এক গোলে দলকে সমতায় ফেরালেন তিনি।

প্রথম অর্ধের ইনজুরি সময়ে কেপ ভার্দেকে বাঁচিয়ে দেন ভোজিনহা। বলটি লিওনেল মেসির কাছে এসে পড়ে। দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি সহজেই বলটি জালের কোণায় পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু দ্রুত নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ফিরিয়ে দিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান ভোজিনহা। তাতে ইনজুরি টাইমের প্রথম অর্ধ ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়।

এসজি/

অতিরিক্ত সময়ে গড়াল আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
অতিরিক্ত সময়ে গড়াল আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচ
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকায় অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধে ১৫ মিনিট করে ৩০ মিনিট খেলবে দুই দল। তাতে কোনো ফল না এলে ভাগ্য নির্ধারিত হবে টাইব্রেকারে। 

শনিবার (৪ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। 

আক্রমণ চালিয়ে ২৯ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের লম্বা পাস বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন লিওনেল মেসি। আর তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

এরপর ৪৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। বল পেয়েই জোরালো শট নেন তিনি। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দিয়ে কেপ ভার্দেকে বিপদমুক্ত করেন ভোজিনহা। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দেও। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে তারা প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লারোস দুয়ার্তে একটি জোরালো শট নেন। যা বাম পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ যাত্রায় দলকে বাঁচিয়ে দিলেও পরের আক্রমণ ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্ডেস বলটি লারোস দুয়ার্তের দিকে কাটব্যাক করেন, যিনি আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ দ্রুত তাকে চাপ দিতে এগিয়ে আসেন, তবে দুয়ার্তে ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরালো শট নেন এবং এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল পাঠান নিচের কোণায়। তাতে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে।

গোল হজমের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পান মেসি। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে তিনি দ্রুতগতিতে একাই গোলের দিকে এগিয়ে যান এবং ডান পায়ে জোরালো শট নেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবারও দুর্দান্ত ভূমিকা রাখেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। অসাধারণ এক সেভ করে তিনি মেসির প্রচেষ্টা রুখে দেন এবং দলকে আরও একবার বিপদের হাত থেকে বাঁচান।

এরপর আরও একবার নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচান ভোজিনহা। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মেসি সবাইকে চমকে দিয়ে দ্রুত ফ্রি-কিক নেন। এমনকি ভোজিনহা প্রস্তুতি শেষ করতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বলটি দূরের কোণায় জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন তিনি। বলটি প্রায় জালে জড়িয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বলটি ফিরিয়ে দেন। 

ম্যাচের ৮০ মিনিটে রক্ষণাত্মক হস্তক্ষেপে একটি নিশ্চিত গোল রুখে দেন পিকো লোপেস। তার দুর্দান্ত ইন্টারসেপশনের কারণে ক্রসটি এনজো ফার্নান্দেজের কাছে পৌঁছাতে পারেনি, যিনি ফাঁকায় বল জালে জড়াতে অপেক্ষায় ছিলেন। ইনজুরি টাইমে বক্সের বাইরে থেকে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ডান পায়ের শটটি ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা।

ইনজুরি টাইমে (৯০+৫) বক্সের ঠিক বাইরে ফাউলের শিকার হন মেসি। ফ্রি-কিক থেকে মেসির নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হলেও শেষ পর্যন্ত তা রুখে দেন ভোজিনহা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো সুযোগ আসেনি দুই দলের সামনে। তাতে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচটি এখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। দুই অর্ধে ১৫ মিনিট করে ৩০ মিনিট খেলা হবে। অতিরিক্ত সময়ে ফল না এলে টাইব্রেকারে গড়াবে ম্যাচ।

এসজি/

আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে সমতায় কেপ ভার্দে
ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরেই চমক দেখাল কেপ ভার্দে। লারোস দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় ফিরেছে তারা। 

শনিবার (৪ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোরে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। 

আক্রমণ চালিয়ে ২৯ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের লম্বা পাস বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন লিওনেল মেসি। আর তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

এরপর ৪৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। বল পেয়েই জোরালো শট নেন তিনি। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দিয়ে কেপ ভার্দেকে বিপদমুক্ত করেন ভোজিনহা। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দেও। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে তারা প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লারোস দুয়ার্তে একটি জোরালো শট নেন।  তবে বাম পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ যাত্রায় দলকে বাঁচিয়ে দিলেও পরের আক্রমণ ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্ডেস বলটি লারোস দুয়ার্তের দিকে কাটব্যাক করেন, যিনি আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ দ্রুত তাকে চাপ দিতে এগিয়ে আসেন, তবে দুয়ার্তে ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরালো শট নেন এবং এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল পাঠান নিচের কোণায়। তাতে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। 

এসজি/