ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন? নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ গোলহীন প্রথমার্ধে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ১৬ বছরের জট খুলল স্পেনের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশে পরিবর্তন শেষ ষোলোতে স্পেনের প্রতিপক্ষ কারা? আর্জেন্টিনাকে কেপ ভার্দে কোচের হুঁশিয়ারি অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী কেন বাতিল হলো কুকুরেয়ার গোল? ওয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে বিরতিতে স্পেন স্পেন-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১

কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

কাতারে আটকে থাকা তহবিলের একটি অংশ দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

বুধবার (১ জুলাই) দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের জব্দ বা সীমিত ব্যবহারের আওতায় থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

তবে অর্থ ছাড় ও তা ব্যবহারের প্রক্রিয়া কী হবে, বা কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, গারিবাবাদি বলেছেন, ‘কাতারের কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে প্রাথমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ ব্যয়ের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জানানো প্রয়োজনের ভিত্তিতে পণ্য কেনা হবে এবং তা ইরানের জন্য সরবরাহ করা হবে বলে সম্মত হয়েছে।’

গারিবাবাদি যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন, তা ২০২৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের সীমিত ব্যবহারের হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করা ইরানের তেল বিক্রির আয়ের একটি অংশ।

গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, অবমুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তেহরান নেবে। দেশের জন্য সবচেয়ে উপকারী ও অনুকূল উপায়ে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য ইরান ওই অর্থ নিজের বিবেচনায় অবাধে ব্যবহার করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জুন মাসে বলেন, চুক্তির আওতায় তখনো ওই অর্থ অবমুক্ত হয়নি। তবে তা অবমুক্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের অনুমোদন থাকবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ওই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, বিশেষ করে সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য কেনা হতে পারে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মঙ্গলবার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া হবে, যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে, যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো মুদ্রায় প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।

এএফ/

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি এরনান গিল। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন ধরে আটকে থাকার পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

দেশটির জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এরনান গিল নামের ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করার ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পর চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছেন। ভবনের ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন জরুরি সেবাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভেনেজুয়েলায় এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে চিলির এক অগ্নিনির্বাপক কর্মী এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বলেছিলেন, ‌‌‘‘এটি আমার মোকাবিলা করা সবচেয়ে জটিল এবং প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে কঠিন উদ্ধার অভিযান। এটা নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই।

গত ২৪ জুনের ওই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

এছাড়া স্মরণকালের ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে  আরও হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে গিলের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে তাকে উদ্ধারে শত শত উদ্ধারকর্মী দিনরাত এক করে কাজ করছিলেন। তাকে উদ্ধারের এই অভিযানে ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল একসঙ্গে কাজ করেছে।

গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীদের তৈরি করা সুড়ঙ্গের কিছু অংশ কয়েকবার ধসে পড়েছিল; যা তার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের জন্যও কাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দলগুলোর সদস্যরা অবশেষে বুধবার রাতে গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন।

গিল যেখানে আটকে ছিলেন, সেখানে প্রবেশ করানো একটি ছোট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে চিলির এক অগ্নিনির্বাপক কর্মীকে গিলের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, তিনি যেন তার মাথা ক্যামেরার দিকে ঘোরান। এ সময় তার একটি চোখ রক্তবর্ণ (লাল) এবং মুখে একটি মাস্ক পরা ছিল। উদ্ধারকাজে তৈরি হওয়া ধুলাবালি ও ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্ধারকর্মীরা এর আগে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে ওই মাস্ক তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।

উদ্ধারকারীরা চারপাশের ধ্বংসস্তূপ সতর্কতার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার সময় চোখের সুরক্ষার জন্য অগ্নিনির্বাপক কর্মীকে তাকে একটি চশমাও (গগলস) পরে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কোস্টারিকান রেড ক্রসের সদস্য রিকার্দো আরিয়াস স্থানীয় সাংবাদিক জোয়ান কামারগোকে বলেছেন, গিলের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তারা গিলকে পানি দিতে পেরেছেন এবং একটি ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপ লাগাতে সক্ষম হয়েছেন।

আরিয়াস বলেন, শপিং সেন্টারটি ধসে পড়ার সময় গিল অলৌকিকভাবে চাপা পড়া থেকে বেঁচে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গিল আমাদের বলেছেন, তার নখের ওপরও কোনও চাপ লাগেনি। তিনি ভালো আছেন।

জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় ভেনেজুয়েলার কাতিয়া লা মারের ‘গ্যালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে মল’ সংলগ্ন পার্কিং লটের বেসমেন্টে একটি ছোট কংক্রিটের বুথে দায়িত্বরত ছিলেন গিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছোট বুথটি তার চারপাশে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করেছিল; যা তাকে চারপাশ থেকে ধসে পড়া ১৪০ টন ওজনের ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সূত্র: বিবিসি।

এএফ/

অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের আলোচনা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলেছিল, ‘আমি এক পয়সাও দেবো না’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে।

একটি বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

গালিবাফ বলেন, আমি নিজে কাতার গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি কার্যকর মধ্যস্থতা করেছেন। সেখানে প্রথমে ছয় বিলিয়ন ডলার ছিল এবং পরে তারা আরো ছয় বিলিয়ন ডলার গ্রহণ করে।

তিনি আরো বলেন, কাতার সফরের সময় আলোচনা হয়েছে, নথিপত্র সই হয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি ডেপুটি সেক্রেটারি ও ভ্যান্সও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি সই হওয়ার পরদিনই সকালে আমাদের সম্পদ অবমুক্ত করা হয়।

কেউ কেউ প্রশ্ন করেন আমরা কেন কাতারে গেলাম? উত্তরটা স্পষ্ট— আমরা যদি না যেতাম, তবে এ কাজটি হতো না। আমরা শর্ত পূরণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, শুধু স্লোগান দেয়ার জন্য নয়। এটাই সেই নেতৃত্বের সাহস ও প্রজ্ঞা, যারা শর্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে এবং আমরাও সেই একই শর্ত পূরণ করছি।

গালিবাফ আরো বলেন, আমরা যদি দুর্বল হই, তবে আমাদের অপমানিত হতে হবে। ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে এবং আজ মানুষের প্রচেষ্টার কল্যাণে ইরান তার শক্তি দেখিয়েছে।

সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়ে বলতে গেলে, প্রথম ধারা অর্থাৎ ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি সুসংহত হচ্ছে। 

চতুর্থ ধারা বা অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়টি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে পঞ্চম ধারা এবং তেল ও তেলজাত পণ্যের দশম ধারাও বাস্তবায়িত হয়েছে।

১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ অবমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ১২ বিলিয়ন ডলারও একই প্রক্রিয়ায় আসবে। লেবানন-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে।

আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার বিষয়বস্তু একচেটিয়াভাবে কেবল এই ১৪টি ধারা, এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় এই সমঝোতা স্মারকে যুক্ত করার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

নিজ দায়িত্ব প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, আমার দায়িত্ব হলো ইরানের মানুষের সেবা করা, তাদের পছন্দ-অপছন্দ যাই থাকুক না কেন। 

ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ছায়াতলে বসবাসকারী সব ইরানি জনগণ— তাদের মতাদর্শ, ধর্ম ও বিশ্বাস নির্বিশেষে সবার সেবা করা আমার কর্তব্য। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের অর্থনীতি গুছিয়ে আনা এবং তাদের সবার প্রতিনিধিত্ব করা আমার দায়িত্ব।সূত্র: হামশাহরি

এএফ/

কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

কাতারে আটকে থাকা তহবিলের একটি অংশ দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

বুধবার (১ জুলাই) দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের জব্দ বা সীমিত ব্যবহারের আওতায় থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

তবে অর্থ ছাড় ও তা ব্যবহারের প্রক্রিয়া কী হবে, বা কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, গারিবাবাদি বলেছেন, ‘কাতারের কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে প্রাথমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ ব্যয়ের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জানানো প্রয়োজনের ভিত্তিতে পণ্য কেনা হবে এবং তা ইরানের জন্য সরবরাহ করা হবে বলে সম্মত হয়েছে।’

গারিবাবাদি যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন, তা ২০২৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের সীমিত ব্যবহারের হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করা ইরানের তেল বিক্রির আয়ের একটি অংশ।

গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, অবমুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তেহরান নেবে। দেশের জন্য সবচেয়ে উপকারী ও অনুকূল উপায়ে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য ইরান ওই অর্থ নিজের বিবেচনায় অবাধে ব্যবহার করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জুন মাসে বলেন, চুক্তির আওতায় তখনো ওই অর্থ অবমুক্ত হয়নি। তবে তা অবমুক্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের অনুমোদন থাকবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ওই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, বিশেষ করে সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য কেনা হতে পারে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মঙ্গলবার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া হবে, যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে, যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো মুদ্রায় প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।

এএফ/

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অসংখ্য মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১ জুলাই) খরা ও প্রবল বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এরো এবং অওদ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শত শত দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

গত বছর করবিয়ের অঞ্চলে বড় ধরনের দাবানলের পর ও ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহের কয়েক দিনের মাথায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। 

আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবারও তাপপ্রবাহের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৮০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।

স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ‌ওই দপ্তরের একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, কখনো কখনো আগুনের বিস্তার সীমিত রাখা সম্ভব হচ্ছে, তবে এটি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের উপযুক্ত পথ না থাকায় আগুন নেভাতে দমকলকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশ থেকে পানি নিক্ষেপকারী উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, প্রবল দমকা হাওয়া ও অত্যন্ত শুষ্ক নিচু ঝোপঝাড়ের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, পুজোল-মিনারভোয়া ও মাইয়াক কমিউনের প্রায় ২০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

পুজোল-মিনারভোয়ার ৯৯ বছর বয়সী বাসিন্দা দানিয়েল বলেন, ‘ধোঁয়া এতটাই ঘন ও দমবন্ধ করার মতো ছিল যে, দমকলকর্মীরা আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন।’

এদিকে, মার্সেইয়ের কাছে রোনিয়াক ও লানকঁ-প্রোভঁস এলাকায় আরও দুটি ছোট দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় দমকল বিভাগ জানিয়েছে। সূত্র: এএফপি

আজহার/

রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানিসংকট

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানিসংকট
মস্কোর একটি রোজনেফট গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি ট্যাঙ্কার ট্রাক। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি ডিপোগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে।

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলেও। সময়মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয়ের মধ্যে পড়েছেন।

ইউক্রেন মূলত মস্কোকে শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করার জন্য এই হামলাগুলো চালাচ্ছে। তেল-সমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ার নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন চাপের মুখে। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই জ্বালানি বিক্রির ওপর নানাবিধ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।

গ্যাস স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চালকরা এখন কোন স্টেশনে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে বা কোথায় লাইন ছোট তা জানতে বিশেষ অ্যাপ ও মানচিত্র ব্যবহার করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে তথ্য দিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার কারণে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে চালকরা একে অপরের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছেন।

একটি ভিডিওর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে 'দ্য আলটিমেট লাক্সারি ২০২৬'। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি অত্যন্ত সাবধানে একটি জেরিক্যান থেকে তার ঘাস কাটার যন্ত্রে পেট্রল ঢালছেন এবং ব্যঙ্গ করে বলছেন "কী বিপুল সম্পত্তি! এখন কার সাধ্য আছে এই খরচ বহন করার?"

এদিকে, রাশিয়ান ওয়েবসাইট 'iPhones.ru' দেশের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ‘ইয়ানডেক্স’ এর তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে অনলাইনে "কীভাবে গাড়ি থেকে তেল চুরি বা সাইফন করতে হয়" লিখে সার্চ করার সংখ্যা লাফিয়ে ৯ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে, যা মাত্র এক মাস আগেও ছিল মাত্র ৬৯৭টি।

কর্তৃপক্ষের অস্বস্তি ও বাস্তব চিত্র

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া নিজেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তীব্র শীতে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎ ও হিটিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে এখন ইউক্রেনের পাল্টা অভিযানের প্রভাব রাশিয়ার ভেতরেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা রুশ কর্তৃপক্ষের জন্য বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রশাসন শুরুতে এই সংকটকে "সাময়িক স্থানীয় সমস্যা" বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে দেখা গেছে, রাশিয়ার উর্বর 'ব্ল্যাক আর্থ' অঞ্চলের কৃষকরা ফসল কাটার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্য একটি পোস্টে এক কৃষক জানান, ব্যারেলে করে তেল নিতে না দেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে নিজের বিশাল ফসল কাটার গাড়িটি চালিয়ে সাধারণ গ্যাস স্টেশনে নিয়ে গেছেন তেল ভরার জন্য। (বার্তা সংস্থা রয়টার্স অবশ্য স্বাধীনভাবে এই পোস্টগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি)।

পুতিনের আশ্বাস ও বিদেশ থেকে আমদানি

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রবিবার (২৮জুন) জ্বালানি বাজারে সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং বাজার স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কৃষি খাতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এর ওপরই দেশের ফসল উৎপাদন নির্ভর করছে।

জ্বালানি খাতে পুতিনের প্রধান ভরসা, উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। রয়টার্সের একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাশিয়া ইতোমধ্যে ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে। এছাড়া প্রতিবেশী কাজাখস্তানও আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে রাশিয়াকে ৫০,০০০ মেট্রিক টন জ্বালানি সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে।

অর্থনীতিতে মন্দা ও মৌলিক সেবা ব্যাহত

এই সংকট তীব্র হওয়ার আগেই চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, গত ২০ বছরের মধ্যে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি হতাশ ও আশঙ্কাবাদী।

দেশের কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে মৌলিক সেবাগুলো বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চীন ও মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত জাবাইকালস্কি অঞ্চলে জ্বালানি স্বল্পতার কারণে বেশ কয়েকটি বাস রুট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি একটি বর্জ্য অপসারণকারী সংস্থাও চার জেলায় তাদের সেবা স্থগিত রেখেছে।

আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম Chita.ru-তে এই খবরটির নিচে একজন মন্তব্য করেছেন: "সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো মুদি জিনিসপত্রের দাম কতটা বাড়বে! কারণ সব ধরনের পণ্যই তো সড়কপথে পরিবহন করা হয়।" এই মন্তব্যটিতে শতাধিক মানুষ লাইক দিয়ে সহমত প্রকাশ করেছেন।

যুদ্ধের সমর্থনে ফাটল ধরার শঙ্কা

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জ্বালানি সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে যুদ্ধের প্রতি রাশিয়ার সাধারণ জনগণের যে সমর্থন রয়েছে, তাতে বড় ধরনের ফাটল ধরতে পারে।

দক্ষিণের শহর রোস্তভ-অন-ডনে একটি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে তাতায়ানা সেদিক নামের এক নারী রয়টার্সকে বলেন, ভাগ্যিস ডিজেল চালিত গাড়ি ব্যবহার করেন (কারণ ডিজেলে লাইন কিছুটা কম)। তবে পেট্রোলের লাইনের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, "গ্যাসোলিনের (পেট্রোল) লাইনগুলো যা তা অবস্থা, একদম পাগলামি... আমি এখন ভাবছি, হয়তো আমার হেঁটেই অফিসে যাওয়া শুরু করা উচিত।"সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/