দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শিল্পাঙ্গনে ফিরছেন পরাবাস্তববাদী ধারার শিল্পী জাকিয়া খান চন্দনা। আজ শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হচ্ছে তার তৃতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী। ‘রিয়েলিটি অব দ্য সাবকনশাস মাইন্ড’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী চলবে ৮ জুলাই পর্যন্ত।
সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আজহারুল ইসলাম শেখ।
‘রিয়েলিটি অব দ্য সাবকনশাস মাইন্ড’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে শিল্পী জাকিয়া খান চন্দনার সাম্প্রতিক সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে দর্শক প্রবেশ করবেন এক স্বপ্নময়, রহস্যঘেরা ও কল্পনার জগতে। যেখানে চেতনা ও অবচেতনের মিলনে তৈরি হয়েছে নতুন এক দৃশ্যভাষা।
বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পচর্চায় যে কয়েকজন শিল্পী নিয়মিতভাবে পরাবাস্তবতার ভাষায় মানুষের অস্তিত্ব, প্রকৃতি ও পুনর্জন্মের ভাবনা প্রকাশ করছেন, জাকিয়া খান চন্দনা তাদের অন্যতম। আয়োজকরা জানান, শিল্পীর সাম্প্রতিক কাজগুলোয় ধ্বংস ও সৃষ্টির মধ্যকার চিরন্তন দ্বন্দ্ব এবং প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতা ফুটে উঠেছে। অ্যাক্রিলিক মাধ্যমে ক্যানভাসে আঁকা ছবিগুলোয় বাদামি, ওকার, কমলা, অফ-হোয়াইট, কালো ও নীলের সংযত ব্যবহার দর্শকদের এক স্বপ্নময় কল্পনার জগতে নিয়ে যায়।
নিজের শিল্পকর্ম সম্পর্কে জাকিয়া খান চন্দনা বলেন, ‘প্রকৃতিকে উপজীব্য করে আমার চিত্রকর্মে টিকে থাকা ও রূপান্তরের বিষয়গুলো ফুটে ওঠে। আমার আঁকা বিভিন্ন আকৃতি ও খণ্ডিত ভূদৃশ্য সৃষ্টি ও ধ্বংসের মধ্যকার টানাপোড়েনকে তুলে ধরে। পরাবাস্তববাদী শিল্পের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত টেক্সচার ও তুলির আঁচড়ের মধ্য দিয়ে আমি দর্শকদের জীবন ও নবায়নের চক্র নিয়ে ভাবনার আহ্বান জানাই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই শিল্পী ১৯৯৮ সালে ‘বার্জার ইয়াং আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০০০ সালে পরীক্ষামূলক কাজের জন্য বিভাগীয় পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে জয়নুল গ্যালারিতে তার প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে কানাডার টরন্টোতে তার দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়। শিল্পসমালোচক জাহিদ মোস্তফা মনে করেন, দীর্ঘ বিরতির পর জাকিয়া খান চন্দনার এই প্রত্যাবর্তন দেশের সমকালীন শিল্পভুবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনীটি ৩ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন শিল্পপ্রেমী, সংগ্রাহক ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।