শেরপুরে নিখোঁজের একদিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী এলাকার ধানখেত থেকে মরদেহটি মাটির নিচে আংশিক পুঁতে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন কাজল মিয়া। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন ওই এলাকার রাস্তার পাশের ধানখেতে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কেউ ইজিবাইকটি ছিনতাই করে তাকে মাটিতে পুতে রেখে গেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
শাকিল মুরাদ/তামান্না রুপা/
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আসিফ জোয়ার্দ্দার (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, আসিফ জোয়ার্দ্দার বিকেলে মোটরসাইকেলে লাঙ্গলবাধ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বন্দেখালী গ্রামে পৌঁছালে অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে রাস্তায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আসিফ জোয়ার্দ্দার। খবর পেয়ে শৈলকুপা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহ উদ্ধার করেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর ইজিবাইকটি আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ও মোটরসাইকেল তার পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাহফুজুর রহমান/তামান্না রুপা/
প্রশাসনের শর্ত না মেনেই শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে শতাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলতে থাকলে নড়িয়া-জাজিরা ডান তীররক্ষা বাঁধসহ বিস্তীর্ণ জনপদ আবারও ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। যদিও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই বৈধভাবে কাজ করছে তারা। তবে জেলা প্রশাসন শর্ত ভঙ্গের প্রাথমিক প্রামাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়। নদীগর্ভে বিলীন হয় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই ভাঙন রোধে ২০১৯ সালে পাউবো নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রায় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নদী খনন এবং প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ লাখ জিওব্যাগ ফেলে বাঁধ আরও শক্তিশালী করা হয়। ২০২৪ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
পাউবো সূত্র জানায়, চরআত্রা এলাকায় নদী খননের সময় উত্তোলিত প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট বালু বসারচর মৌজায় নদীতীরবর্তী ফসলি জমিতে সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ১০ কোটি ঘনফুট বালু বিক্রির জন্য গত বছরের মার্চে উপজেলা প্রশাসন নিলাম আহ্বান করে। নিলামে তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের নামে অংশ নিয়ে ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ওই বালু কিনে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্তূপ করে রাখা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি এবং বর্তমানে শতাধিক ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসন এক দফা সাত মাস কাজ বন্ধ রাখে। পরে চলতি বছরের মে মাসে শর্তসাপেক্ষে আবার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এবারও শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার বুকজুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু ড্রেজার আর ড্রেজার। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলন। নদীর তলদেশ কেটে পাইপের মাধ্যমে হাজার হাজার ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একাধিক স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে মুখে গামছা বাঁধা একদল যুবক সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান সজিব বলেন, ‘নদীর নাব্যতা রক্ষার প্রয়োজনে সরকারিভাবে বালু উত্তোলন হলে আপত্তি ছিল না। কিন্তু স্তূপ করে রাখা বালু সরানোর অনুমতিকে পুঁজি করে নদীর তলদেশ থেকেই বালু কাটা হচ্ছে। এতে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
আব্বাস আলী মোল্লা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এই জমিতে মরিচ, আলু হতো। আগেও বালু কেটে আমাদের সর্বনাশ করা হয়েছে। এখন আবার জমি কেটে বালু নেওয়া হচ্ছে।’
ড্রেজারে কর্মরত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের শুধু কাজ করতে বলা হয়েছে। এগুলো বৈধ না অবৈধ, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। প্রতিদিন এক থেকে দেড় শ ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হয়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের মালিক ও নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল বলেন, ‘নিলামের মাধ্যমে কেনা স্তূপ করা বালুই আমরা উত্তোলন করছি। নদীর তলদেশ থেকে বালু কাটা হচ্ছে না। বালু রাখা স্থানে নাব্যতা সংকট থাকায় সেখানে পৌঁছাতে চ্যানেল তৈরি করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘নদীতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন। জেলা প্রশাসন এর তদারকি করে। বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে কি না, তা জানতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘অতীতেও শর্ত ভঙ্গের কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুনরায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়ার পর আবারও অভিযোগ পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ইজারা বাতিলসহ আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দেশের আমদানি বাণিজ্যে শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের মূল্য ও রাজস্ব আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়কারী শীর্ষ ৩০টি পণ্য থেকে মোট ৭৭৫ কোটি ৬ লাখ টাকা রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এই ৩০টি পণ্যের ক্ষেত্রে সার্বিক রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-কর আদায় বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব খাতে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের মোট মূল্য বেড়েছে ২৯.৪৭ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
ডিজেল থেকেই অর্ধেকের বেশি রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে একক খাত হিসেবে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে জ্বালানি তেল। ‘হাই স্পিড ডিজেল অয়েল’ আমদানি থেকেই সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা শীর্ষ ৩০ পণ্যের মোট অর্জিত রাজস্বের অর্ধেকেরও বেশি (৫১.৮২ শতাংশ)। ডিজেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই খাত থেকে রেকর্ড শুল্ক আদায় হয়েছে। এ ছাড়া অকটেন বা মোটর স্পিরিট আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় রেকর্ড ১৯২.৩৮ শতাংশ বেশি। অপরিশোধিত তেল ক্রুড অয়েল থেকে রাজস্ব এসেছে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
চলতি বছর ব্র্যান্ড নিউ এবং রিকন্ডিশনড—উভয় ধরনের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। ১৮০০ সিসির নিচে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি আমদানি খাতে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩১৩.৫৪ শতাংশ। এই খাত থেকে ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে।
অন্যদিকে, ২০০০ থেকে ৩০০০ সিসির রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা বিগত বছরের চেয়ে ৭৫.২২ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই খাতে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩২.৬৫ শতাংশ।
অন্যান্য শীর্ষ পণ্য খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে গুঁড়া দুধ আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা (প্রবৃদ্ধি ১৪৬.৭৭%)। ফল আমদানির মধ্যে মাল্টা ও কমলা থেকে যথাক্রমে ২৮ কোটি ৭৭ লাখ এবং ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে।
শিল্প কাঁচামালের মধ্যে সিমেন্ট খাতের ক্লিংকার ও গ্র্যানুলেটেড স্ল্যাগ থেকে ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, জিপসাম থেকে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং লিকুইড ডাই-ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার থেকে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ও ভয়েস ট্রান্সমিশন সরঞ্জাম আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ৩৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ মোহাম্মদ আল আমিন বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলার সংকটের মাঝেও বিলাসবহুল গাড়ি ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের শুল্কায়ন স্বাভাবিক থাকায় রাজস্বের এই বড় প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে অটোমেশন ও বিআই ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাঁকি রোধ করায় প্রকৃত রাজস্ব আদায় বেড়েছে।
হাই স্পিড ডিজেল আমদানি কমেছে ৪২ হাজার ৭২.৯৫ টন, যা আগের বছর থেকে প্রায় ১৭ শতাংশ কম। পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি ৮ হাজার ৯৪২.১৬ টন কমেছে। যা আগের বছরের চেয়ে ৮.২৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে অপরিশোধিত (ক্রুড) পাম অয়েল আমদানি বেড়েছে ১ হাজার ৯১৭.৭৭ টন, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.০৬ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া কমলা আমদানি বেড়েছে ১ হাজার ১৫৬.৭২ টন, যা গত বছরের চেয়ে ১২.৩৯ শতাংশ বেশি। পেট্রোল (মোটর স্পিরিট) আমদানি বেড়েছে ১৬ হাজার ৭৩৪.৩৬ টন, যা ১৩৮.৮১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে লোহার স্ক্র্যাপ আমদানি ৯ হাজার ৬৬১.৯৩ টন কমেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫.১২ শতাংশ কম।