সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর এলাকায় অবৈধ পাথরবোঝাই ৪টি ট্রাক আটক করাকে কেন্দ্র করে বিজিবির সঙ্গে শ্রমিকদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ ঘণ্টা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে ছুটির দিন থাকায় বেশি পর্যটক ছিলেন এই সড়কে। তারা দুর্ভোগে পড়েন।
৪৮ বিজিবির শ্রীপুর বিওপির টহল টিম গতকাল ভোরে শ্রীপুর খড়মপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত ৪টি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করেন। কয়েক ঘণ্টা পর জব্দ ট্রাকগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা জোর করে তিনটি ট্রাক গুচ্ছগ্রাম এলাকায় নিয়ে পাথর সরিয়ে ফেলে। তবে একটি ট্রাক পাথর ফেলে যাওয়ার সময় গুচ্ছগ্রাম সড়কের মুখে পৌঁছালে বিজিবি ট্রাকটি আটক করে। ট্রাক আটকের জের ধরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রায় ২ ঘণ্টা পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে। পরে জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) পলি রানী দেব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ট্রাকটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বিজিবি সদস্যরা ট্রাক শ্রমিককে মারধর করে আহত করে এবং গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে গুচ্ছগ্রাম এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, অবৈধভাবে পাথর তুলে চারটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা ট্রাকগুলো আটক করেন। এ সময় শ্রমিকরা মব সৃষ্টি করে বিজিবির ওপর হামলার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে এক রাউন্ড শটগানের গুলি করা হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, শ্রমিকরা শাবলসহ পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত জিনিস দিয়ে বারবার বিজিবির ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। বিজিবি চারটি ট্রাক আটক করে রাখলেও শ্রমিকরা জোর করে তিনটি ট্রাক সড়কের পাশেই আনলোড করে নিয়ে যায়। একটি ট্রাক বিজিবি সদস্যরা আটকাতে সক্ষম হয়েছে। শ্রমিকরা পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করতে চেয়েছিল। শুক্রবার এই রোডে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। তারা সবাই দেখেছেন কীভাবে মব সৃষ্টি করে বিজিবির ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা আমাদের সিলেটের জন্য ভালো সিগন্যাল নয়।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, সরকারি কাজে নাগরিকদের সহযোগিতা ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত, যা অবৈধ, সেটিকে বৈধতা দেওয়ার এখতিয়ার প্রশাসনের নেই। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি থেকেও সবাইকে বিরত থাকতে হবে।