ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্বৈরাচারী পথেই বর্তমান সরকার, বড় ধরনের পরিবর্তন আসন্ন কৃষক কার্ডের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারবে না : কৃষিমন্ত্রী সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আখাউড়ার যুবক নিহত স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচে ইংল্যান্ড দলে ভায়াগ্রা ব্যবহারের অনুমতি চকবাজারে আশিক টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট কেপ ভার্দে ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তুলে মেসির দুষ্টুমি দিনাজপুরে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা মাদারীপুরে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতরা রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পাবে’ সোনারগাঁয় আসামি ধরতে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম জাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘র‌্যাগিং’, জড়িতদের দায় স্বীকার সৌদি আরবে হামলার হুমকি হুথিদের কক্সবাজারে হাম উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ২০ ফ্রান্সের জার্সিতে কেন থাকে মোরগের প্রতীক? আনোয়ারায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই মরদেহ উদ্ধার রজতজয়ন্তীতে গ্রাহকদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের আকর্ষণীয় অফার জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে রাতভর পুশইনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ বিএসএফ খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো ৫০০০ স্কুল জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যাংক থেকে টাকা তুললেন? প্রতারকদের সুযোগ দেবেন না প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে সতর্ক ফ্রান্স কোচ দেশম, বড় বাধা তীব্র গরম শাহজাদপুরে বিদ্যালয়ে মদ্যপান করা সেই প্রধান শিক্ষককে শোকজ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে জইশ-ই-মোহাম্মদের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার নরওয়ে ম্যাচে রাফিনহাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল তামিলনাড়ুতে অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ খুলনায় কিশোরী গুলিবিদ্ধ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর

সৌদি আরবে হামলার হুমকি হুথিদের

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ পিএম
সৌদি আরবে হামলার হুমকি  হুথিদের
সানায় বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছেন হুথি সমর্থকেরা। ছবি: সংগৃহীত

আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) এক ভিডিওবার্তায় গোষ্ঠীটি দাবি করে, রাজধানী সানায় একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সৌদি যুদ্ধবিমান। তবে হুথি বাহিনী সফলভাবে সেই চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ভিডিওবার্তায় বলেন, 'আমরা অপরাধী সৌদি শত্রুদের সতর্ক করে দিচ্ছি- তারা যেন আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন কিংবা দেশের ওপর কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা আর না করে। এমন পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং তাদের বিমানবন্দরসহ জল ও স্থলের সব গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।'

সারি জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে সৌদি যুদ্ধবিমান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ২০০ জনেরও বেশি আটকেপড়া, আহত ও অসুস্থ ইয়েমেনি নাগরিককে বহনকারী একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না দেওয়া।

তিনি আরও যোগ করেন, এর সম্ভাব্য ফলাফল যাই হোক না কেন, সানা ও তেহরানের মধ্যে এই বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো জানায়, ইরানি বিমানটি সানায় সফলভাবে অবতরণ করেছে এবং পরবর্তীতে হুথি প্রতিনিধিদের নিয়ে পুনরায় তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ওই হুথি প্রতিনিধি দলটি সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান সফর করছেন।

হুথিদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, 'সৌদি-আমেরিকান অবরোধ' ভাঙার জন্য তাদের যোদ্ধারা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এবং যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

আজহার/

খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো ৫০০০ স্কুল

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো ৫০০০ স্কুল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'আইএসএনএ' এর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, জানাজায় যোগ দিতে আসা দূর-দূরান্তের মানুষের থাকার সুবিধার্থে দেশব্যাপী পাঁচ হাজারের বেশি স্কুল এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রেণীকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঐতিহাসিক জানাজায় অংশ নিতে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিসহ প্রায় ১ কোটিরও (১০ মিলিয়ন) বেশি মানুষ রাজধানী তেহরানে সমবেত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশাল এই জনস্রোতের আবাসন ও অন্যান্য জরুরি সুবিধা নিশ্চিত করতেই দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।

এএফ/

ভারতে জইশ-ই-মোহাম্মদের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ভারতে জইশ-ই-মোহাম্মদের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার ৮ জন। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) পুলিশ জানায়, গুজরাটের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড তাদের গ্রেপ্তার করে।

গুজরাটের বানাসকান্ঠা, পাটান ও নবসারী এবং মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসসহ একাধিক অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা গুজরাটে ভবিষ্যৎ হামলার উদ্দেশ্যে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে অত্যন্ত সক্রিয় 'স্লিপার মডিউল' হিসেবে কাজ করছিল। তাদের বয়স মূলত ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

আটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল, যার মধ্যে পাটানের ‘জামিয়া আবুল হাসান মাদরাসা’ এবং নবসারীর ‘জামিয়া রহমানিয়া খাম্ভিয়া’ অন্যতম। 

নিরাপত্তাসংস্থাগুলোর ধারণা, তরুণদের উগ্রবাদে দীক্ষিত করতে এবং নির্বিঘ্নে লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এই স্থানগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

গুজরাট এটিএস থানায় আট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সবাইকে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে ১৯৬৭ সালের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ১৩, ১৭, ১৮, ৩৮ এবং ৩৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মূলত বেআইনি, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া, ২০২৩ সালের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪৮ এবং ৬১ ধারার অধীনেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

তামিলনাড়ুতে অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
তামিলনাড়ুতে অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮
অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজের ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিবাসী নারী শ্রমিকেরা। ছবি: দ্য হিন্দু

ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক নারী অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বুলেটিনে জানানো হয়, সবশেষ মৃত ওই শ্রমিকের নাম রোহানি জুয়াঙ্গা। তিনি ওড়িশার কেন্দুঝার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

গত মাসে ওই শিল্প কারখানায় ক্ষতিকারক গ্যাস লিকেজের এই ঘটনাটি ঘটে। এতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক আক্রান্ত হন, যাদের একটি বড় অংশ ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মতো অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা নারী অভিবাসী শ্রমিক।

বর্তমানে ১৪ জন নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে এবং অন্যজনকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বাকি ১২ জন রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

চিকিৎসা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এ পর্যন্ত মোট ৫১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি শিল্পকারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তামিলনাড়ু নারী কমিশন ইতোমধ্যে এই ঘটনার ওপর একটি বিশদ প্রতিবেদন তলব করেছে।

অন্যদিকে, বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস নির্গমনের মূল কারণ এবং কারখানার পরিকাঠামো গত কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সূত্র: দ্য হিন্দু

আজহার/

হামলার আশঙ্কায় বাবার শেষকৃত্যে থাকার সম্ভাবনা কম মোজতবা খামেনির

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
হামলার আশঙ্কায় বাবার শেষকৃত্যে থাকার সম্ভাবনা কম মোজতবা খামেনির
ইরানের তেহরানে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নিজের বাবা তথা ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য ও জানাজায় উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা কম দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং হামলার আশঙ্কার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, ‘বর্তমানে ইরানিদের ওপর এবং বিশেষ করে নতুন সর্বোচ্চ নেতার ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমার মনে হয় না তিনি (মোজতবা খামেনি) এই মুহূর্তে জনসমক্ষে আসবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলিদের চরিত্র সম্পর্কে আমাদের সবার জানা আছে। তারা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা করে না। তারা প্রকাশ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে।’

গবেষক ইসলামির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করাই এখন ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তারা ইরানের বুকে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে। আর এ কারণেই নতুন সর্বোচ্চ নেতার জন্য এই মুহূর্তে এমন কোনো বিশাল জনসমাবেশে উপস্থিত হওয়া মোটেও নিরাপদ নয়।

এদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে একটি কাঁচের বাক্সের ভেতর প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং হামলায় নিহত তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিন উন্মোচন করা হয়েছে। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে সেখানে সমবেত হয়েছেন লাখো মানুষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লা অভিমুখে যাওয়া রাস্তাগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক পরিহিত হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন। তাদের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যানার। ইতোমধ্যেই মোসাল্লা কমপ্লেক্সের ভেতরের অংশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা নজরদারির কারণে খামেনির উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/অমিয়/

ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি , ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় শীর্ষস্থানীয় ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের হত্যার পরিকল্পনা করার যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমে এই খবর ছড়ালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একে ‘বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিকৃতি’ বলে অভিহিত করে।

সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ঠিক এই আবহেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় স্পষ্ট জানায়, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ইরানি কূটনীতিকদের ওপর হামলা চালানোর কোনো উদ্দেশ্য ইসরায়েলের ছিল না।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যথারীতি, ইসরায়েল এবং ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ খবরটি একটি ভুয়া খবর। এটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও অবাস্তব।’

প্রতিবেদনে যা দাবি করা হয়

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখন ইসরায়েল দুজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল বলে আশঙ্কা করছিলেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ওই দুই নেতা হলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তারা দুজনেই যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা গতি পায়, তখন থেকেই ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছিলেন যে, এই দুই ইরানি নেতাকে হত্যা করা হলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে এবং নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। মার্কিন প্রশাসন এতটাই উদ্বিগ্ন ছিল যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মাধ্যমে ইরানকে এই সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে সতর্কবার্তা পর্যন্ত পাঠিয়েছিল।

শান্তি আলোচনার অন্তরালে মার্কিন উদ্বেগ

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে আরাগচি এবং গালিবাফকে ইসরায়েল তাদের ‘প্রধান লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করতেই পারত, কারণ ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের কট্টরপন্থি সরকারকে উৎখাত করা।

তবে এপ্রিল মাসে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে, এই মুহূর্তে তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে এবং যুদ্ধবিরতির সব আশা শেষ হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। অভিযানটি আংশিকভাবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/