ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টেন্ডুলকারের রেকর্ড এখন সূর্যবংশীর সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী: গণরায় বাস্তবায়নে জামায়াতের গণমিছিল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা বেঞ্চে কানাডার অধিনায়ক, মরক্কোর একাদশে পরিবর্তন ‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান তিন দিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে বরগুনায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন সম্পন্ন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামালের জীবনাবসান স্মার্টফোনের দাম কমাল টেকনো পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজও বাস্তবায়ন করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু সংকটে ইউরোপের অগ্নিদহন সিঙ্গাপুরসহ তিন দেশে এনআইডি কার্যক্রম চলতি মাসে শুরু অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ত্যাগের কথা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি কামনা টেইলর সুইফট-ট্রাভিস কেলসি’র রাজকীয় বিয়ে সব বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী থানায় অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শাওন কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নজর থাকবে: গণপূর্তমন্ত্রী মা হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব
ছবি: সংগৃহীত

একটি ছোট্ট ঘরে সন্ধ্যা নামে। চুলায় ভাতের ঘ্রাণ, শিশুর হাসি আর কাজ থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের ক্লান্ত মুখে স্বস্তির ছাপ–এই দৃশ্যটাই হয়তো একটি পরিবারের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা। কিন্তু এই সাধারণ দৃশ্যের পেছনে আছে একটি গভীর দায়িত্ব, যাকে ইসলাম শুধু সামাজিক কর্তব্য নয়, বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয় বলে ঘোষণা করেছে। আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, ভরণপোষণের প্রশ্ন এলে অবহেলার চাদরে ঢাকা থাকে। কেউ বলেন, আমি তো রোজগার করছি, এটাই তো যথেষ্ট। কেউ আবার সংসারের খরচ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন তর্ক করেন, যেন স্ত্রী-সন্তানের খাবার-পোশাক কোনো অনুগ্রহ, অধিকার নয়। ইসলাম এই ভুল ধারণাটি ভেঙে দেয় খুব স্পষ্টভাবে।

আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারায় বলেন, সন্তানের বাবার ওপর মায়েদের খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করা ন্যায়সংগতভাবে আবশ্যক। কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয় না। (সুরা বাকারা, ২৩৩)। এই একটি আয়াতেই ইসলাম পরিবারের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল নীতি বলে দিয়েছে। প্রথমত, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ পুরুষের ওপর ফরজ, এটি কোনো ঐচ্ছিক উদারতা নয়। দ্বিতীয়ত, এই দায়িত্ব হবে সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে তার সক্ষমতার বাইরে চাপ দেওয়া হবে না। সুরা তালাকে আরও বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে থাকো, সেখানেই তাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করো... সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুযায়ী ব্যয় করবে, আর যার রিজিক সীমিত, সে আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকেই ব্যয় করবে। (সুরা তালাক, ৬-৭)
কী অসাধারণ ভারসাম্য! আল্লাহ এখানে কোনো নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক বলে দেননি। বরং একটি নীতি দিয়েছেন–যার যেমন সামর্থ্য, সে তেমন দেবে। ধনী ব্যক্তি কৃপণতা করতে পারবে না, আর দরিদ্র ব্যক্তিকে অসম্ভব বোঝা বহন করতে হবে না।

একদিন এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, স্ত্রীর ওপর স্বামীর কী অধিকার? তিনি উত্তরে বললেন, তুমি নিজে যা খাও, তাকেও তাই খাওয়াবে; নিজে যা পরো, তাকেও তাই পরাবে। মুখে আঘাত করবে না এবং কুৎসিত কথা বলবে না। (আবু দাউদ, ২১৪২)। এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, ভরণপোষণ মানে শুধু খাবার-পোশাক দেওয়া নয়, এটি মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে দেওয়া। কেউ যদি স্ত্রীকে খাবার দেয় কিন্তু প্রতিটি লোকমার সঙ্গে অপমান জুড়ে দেয়, তাহলে সে নাফাকাহর প্রকৃত চেতনা পূরণ করল না। আরেকটি অসাধারণ ঘটনা আমাদের শেখায় কতটা গুরুত্বের সঙ্গে ইসলাম এ বিষয়টি দেখে। হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) নবিজির কাছে অভিযোগ করলেন, তার স্বামী আবু সুফিয়ান কৃপণ, পর্যাপ্ত খরচ দেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যা ন্যায়সংগতভাবে যথেষ্ট, তা গ্রহণ করো। (বুখারি, ৫৩৬৪)।

এই একটি ঘটনা থেকেই স্পষ্ট ভরণপোষণ না দেওয়া এত গুরুতর বিষয় যে, নবিজি স্ত্রীকে স্বামীর অগোচরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এটি কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনকে নবিজি (সা.) নিজের চরিত্রের মাপকাঠি বানিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম এবং আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। (তিরমিজি, ৩৮৯৫; ইবনে মাজাহ, ১৯৭৭)। এখানে একটা গভীর বার্তা আছে। আমরা প্রায়ই বাইরের মানুষের কাছে ভালো হওয়ার চেষ্টা করি, অথচ ঘরের মানুষের প্রতি অবহেলা করি। নবিজি (সা.) শিখিয়েছেন, সবচেয়ে বড় চরিত্র পরীক্ষা হয় ঘরের ভেতরে, যেখানে কেউ দেখছে না, যেখানে প্রশংসার আশা নেই।

আমাদের অনেকেই মনে করেন, সংসারের খরচ চালানো একটা বোঝা, একটা দায়। ইসলাম এই দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তুমি যা ব্যয় করো তোমার পরিবারের ওপর, তা-ও সদকাহ (দান) হিসেবে গণ্য হবে। (বুখারি, ৫৫)। ভাবুন একবার, সকালে অফিসে যাওয়ার আগে স্ত্রীর হাতে বাজারের টাকা দেওয়া, সন্তানের স্কুলের বেতন পরিশোধ করা এই সাধারণ কাজগুলোই আল্লাহর কাছে সদকার সমান সওয়াব নিয়ে আসে! এর চেয়ে বড় প্রেরণা একজন উপার্জনকারীর জন্য আর কী হতে পারে?

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন ব্যক্তির ব্যয় করা দিনারের মধ্যে সর্বোত্তম দিনার হলো সেটি, যা সে তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে (মুসলিম, ৯৯৪)। অর্থাৎ মসজিদে দান করা, গরিবকে সাহায্য করা–এসবের পাশাপাশি নিজের সন্তানের দুধের টাকা দেওয়াটাও সমান মর্যাদার আমল। কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন কেন এই দায়িত্বটি বিশেষভাবে পুরুষের ওপর? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইসলামের সামগ্রিক ন্যায়বিচারের কাঠামোয়। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সন্তান জন্মদান ও স্তন্যদানের শারীরিক ও মানসিক দায়িত্ব এমন একটি দায়িত্ব, যা কোনো পুরুষ বহন করতে পারে না। গর্ভধারণ, প্রসব, সন্তান পালনের প্রথম বছরগুলোর শারীরিক ক্ষয় এসব নারীর জীবনে এমন একটি সময় তৈরি করে, যখন তার অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

ইসলাম এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং বিনিময়ে পুরুষের ওপর অর্থনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে। এর সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসলামে স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ, উপার্জন বা উত্তরাধিকার সম্পূর্ণভাবে তার একান্ত মালিকানায় থাকে। স্বামী তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এমনকি স্ত্রী যদি স্বামীর চেয়েও ধনী হন, তবু স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেই। এটি প্রকৃতপক্ষে নারীর জন্য একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা তার নিজের সঞ্চয় তার নিজের থাকে, সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্ব নয়।

বাংলাদেশের সমাজে আমরা প্রায়ই দুটি বিপরীত চিত্র দেখি। একদিকে এমন পুরুষ আছেন, যারা সামান্য রোজগার থেকেও পরিবারের জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে দেন, নিজে কষ্ট করেন তবু সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চান। অন্যদিকে এমন পুরুষও আছেন, যারা যথেষ্ট রোজগার করেও স্ত্রী-সন্তানকে অবহেলা করেন, নিজের শখ-আহ্লাদে খরচ করেন অথচ সংসারের প্রয়োজনে কৃপণতা দেখান। এই দ্বিতীয় চিত্রটি ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন যে এই অবহেলাকে তিনি গুনাহের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিবারের ভরণপোষণে কৃপণতা করে, সে নিজের আমানতের খেয়ানত করছে।

লেখক: প্রধান শিক্ষক, তাহফিজুল কুরআন মাদরাসা, ঢাকা

আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন এক অদ্ভুত একাকিত্ব আর অজানা ভয় আমাদের ঘিরে ধরে। শুধু রাতের অন্ধকারই নয়, জীবনের নানা টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আর চারপাশের নেতিবাচকতা আমাদের প্রতিনিয়ত মানসিক অশান্তিতে রাখে। আমরা এমন এক পরম আশ্রয়ের খোঁজ করি, যিনি কখনো আমাদের ছেড়ে যাবেন না, যার কোনো ক্লান্তি নেই। সৃষ্টির এমনই এক চিরন্তন সত্য আর পরম নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত–আয়াতুল কুরসি (সুরা আল-বাকারাহ, ২৫৫)।

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ও মানসিক অস্থিরতার মাঝে এ আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা কেউ একা নই; এক মহাসত্তা প্রতিক্ষণ আমাদের দেখভাল করছেন। আয়াতে আল্লাহকে আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম বা চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী সত্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার সবকিছুর শেষ আছে, কিন্তু তিনি অবিনশ্বর। সবচেয়ে বড় আশার বাণী হলো, তাকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। যখন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে, তখনো মহাবিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী আমাদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টের খবর রাখেন।

আসমান ও জমিনের সবকিছু তারই মালিকানাধীন। মানুষ নিজের চেষ্টায় আল্লাহর জ্ঞানের বিন্দুমাত্রও আয়ত্ত করতে পারে না, যতক্ষণ না তিনি নিজে ইচ্ছা করেন। তার কুরসি বা ক্ষমতা ও সাম্রাজ্য পুরো আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। এত বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালনা ও হেফাজত করা তাকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত বা বিচলিত করে না। তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ও মহান। রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন (মুসলিম)।

সাহাবি উবাই বিন কাব, আবু আইয়ুব আনসারি ও আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, মানুষের কুচক্র, দুষ্ট জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এই আয়াত।

বাস্তব জীবনে এর দুটি বিশেষ আমল আমাদের সুরক্ষা দেয়–

১. ঘুমানোর আগে এটি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সুরক্ষাকারী ফেরেশতা নিযুক্ত হন, যা সকাল পর্যন্ত সব ধরনের অপশক্তির ভয় দূর করে (বুখারি)।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না (সিলসিলাহ সহিহাহ)।

লেখক: চেয়ারম্যান, ক্যারিয়ার আপ অ্যাকাডেমি

স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব
ছবি: সংগৃহীত

একটি ছোট্ট ঘরে সন্ধ্যা নামে। চুলায় ভাতের ঘ্রাণ, শিশুর হাসি আর কাজ থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের ক্লান্ত মুখে স্বস্তির ছাপ–এই দৃশ্যটাই হয়তো একটি পরিবারের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা। কিন্তু এই সাধারণ দৃশ্যের পেছনে আছে একটি গভীর দায়িত্ব, যাকে ইসলাম শুধু সামাজিক কর্তব্য নয়, বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয় বলে ঘোষণা করেছে। আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, ভরণপোষণের প্রশ্ন এলে অবহেলার চাদরে ঢাকা থাকে। কেউ বলেন, আমি তো রোজগার করছি, এটাই তো যথেষ্ট। কেউ আবার সংসারের খরচ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন তর্ক করেন, যেন স্ত্রী-সন্তানের খাবার-পোশাক কোনো অনুগ্রহ, অধিকার নয়। ইসলাম এই ভুল ধারণাটি ভেঙে দেয় খুব স্পষ্টভাবে।

আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারায় বলেন, সন্তানের বাবার ওপর মায়েদের খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করা ন্যায়সংগতভাবে আবশ্যক। কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয় না। (সুরা বাকারা, ২৩৩)। এই একটি আয়াতেই ইসলাম পরিবারের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল নীতি বলে দিয়েছে। প্রথমত, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ পুরুষের ওপর ফরজ, এটি কোনো ঐচ্ছিক উদারতা নয়। দ্বিতীয়ত, এই দায়িত্ব হবে সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে তার সক্ষমতার বাইরে চাপ দেওয়া হবে না। সুরা তালাকে আরও বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে থাকো, সেখানেই তাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করো... সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুযায়ী ব্যয় করবে, আর যার রিজিক সীমিত, সে আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকেই ব্যয় করবে। (সুরা তালাক, ৬-৭)
কী অসাধারণ ভারসাম্য! আল্লাহ এখানে কোনো নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক বলে দেননি। বরং একটি নীতি দিয়েছেন–যার যেমন সামর্থ্য, সে তেমন দেবে। ধনী ব্যক্তি কৃপণতা করতে পারবে না, আর দরিদ্র ব্যক্তিকে অসম্ভব বোঝা বহন করতে হবে না।

একদিন এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, স্ত্রীর ওপর স্বামীর কী অধিকার? তিনি উত্তরে বললেন, তুমি নিজে যা খাও, তাকেও তাই খাওয়াবে; নিজে যা পরো, তাকেও তাই পরাবে। মুখে আঘাত করবে না এবং কুৎসিত কথা বলবে না। (আবু দাউদ, ২১৪২)। এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, ভরণপোষণ মানে শুধু খাবার-পোশাক দেওয়া নয়, এটি মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে দেওয়া। কেউ যদি স্ত্রীকে খাবার দেয় কিন্তু প্রতিটি লোকমার সঙ্গে অপমান জুড়ে দেয়, তাহলে সে নাফাকাহর প্রকৃত চেতনা পূরণ করল না। আরেকটি অসাধারণ ঘটনা আমাদের শেখায় কতটা গুরুত্বের সঙ্গে ইসলাম এ বিষয়টি দেখে। হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) নবিজির কাছে অভিযোগ করলেন, তার স্বামী আবু সুফিয়ান কৃপণ, পর্যাপ্ত খরচ দেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যা ন্যায়সংগতভাবে যথেষ্ট, তা গ্রহণ করো। (বুখারি, ৫৩৬৪)।

এই একটি ঘটনা থেকেই স্পষ্ট ভরণপোষণ না দেওয়া এত গুরুতর বিষয় যে, নবিজি স্ত্রীকে স্বামীর অগোচরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এটি কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনকে নবিজি (সা.) নিজের চরিত্রের মাপকাঠি বানিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম এবং আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। (তিরমিজি, ৩৮৯৫; ইবনে মাজাহ, ১৯৭৭)। এখানে একটা গভীর বার্তা আছে। আমরা প্রায়ই বাইরের মানুষের কাছে ভালো হওয়ার চেষ্টা করি, অথচ ঘরের মানুষের প্রতি অবহেলা করি। নবিজি (সা.) শিখিয়েছেন, সবচেয়ে বড় চরিত্র পরীক্ষা হয় ঘরের ভেতরে, যেখানে কেউ দেখছে না, যেখানে প্রশংসার আশা নেই।

আমাদের অনেকেই মনে করেন, সংসারের খরচ চালানো একটা বোঝা, একটা দায়। ইসলাম এই দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তুমি যা ব্যয় করো তোমার পরিবারের ওপর, তা-ও সদকাহ (দান) হিসেবে গণ্য হবে। (বুখারি, ৫৫)। ভাবুন একবার, সকালে অফিসে যাওয়ার আগে স্ত্রীর হাতে বাজারের টাকা দেওয়া, সন্তানের স্কুলের বেতন পরিশোধ করা এই সাধারণ কাজগুলোই আল্লাহর কাছে সদকার সমান সওয়াব নিয়ে আসে! এর চেয়ে বড় প্রেরণা একজন উপার্জনকারীর জন্য আর কী হতে পারে?

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন ব্যক্তির ব্যয় করা দিনারের মধ্যে সর্বোত্তম দিনার হলো সেটি, যা সে তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে (মুসলিম, ৯৯৪)। অর্থাৎ মসজিদে দান করা, গরিবকে সাহায্য করা–এসবের পাশাপাশি নিজের সন্তানের দুধের টাকা দেওয়াটাও সমান মর্যাদার আমল। কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন কেন এই দায়িত্বটি বিশেষভাবে পুরুষের ওপর? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইসলামের সামগ্রিক ন্যায়বিচারের কাঠামোয়। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সন্তান জন্মদান ও স্তন্যদানের শারীরিক ও মানসিক দায়িত্ব এমন একটি দায়িত্ব, যা কোনো পুরুষ বহন করতে পারে না। গর্ভধারণ, প্রসব, সন্তান পালনের প্রথম বছরগুলোর শারীরিক ক্ষয় এসব নারীর জীবনে এমন একটি সময় তৈরি করে, যখন তার অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

ইসলাম এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং বিনিময়ে পুরুষের ওপর অর্থনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে। এর সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসলামে স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ, উপার্জন বা উত্তরাধিকার সম্পূর্ণভাবে তার একান্ত মালিকানায় থাকে। স্বামী তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এমনকি স্ত্রী যদি স্বামীর চেয়েও ধনী হন, তবু স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেই। এটি প্রকৃতপক্ষে নারীর জন্য একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা তার নিজের সঞ্চয় তার নিজের থাকে, সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্ব নয়।

বাংলাদেশের সমাজে আমরা প্রায়ই দুটি বিপরীত চিত্র দেখি। একদিকে এমন পুরুষ আছেন, যারা সামান্য রোজগার থেকেও পরিবারের জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে দেন, নিজে কষ্ট করেন তবু সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চান। অন্যদিকে এমন পুরুষও আছেন, যারা যথেষ্ট রোজগার করেও স্ত্রী-সন্তানকে অবহেলা করেন, নিজের শখ-আহ্লাদে খরচ করেন অথচ সংসারের প্রয়োজনে কৃপণতা দেখান। এই দ্বিতীয় চিত্রটি ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন যে এই অবহেলাকে তিনি গুনাহের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিবারের ভরণপোষণে কৃপণতা করে, সে নিজের আমানতের খেয়ানত করছে।

লেখক: প্রধান শিক্ষক, তাহফিজুল কুরআন মাদরাসা, ঢাকা

মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম
মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে
ছবি: সংগৃহীত

মাঠের সবুজ ঘাসে বুটের গতি আর গ্যালারির গগনবিদারী চিৎকার—ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই টানটান উত্তেজনা। কিন্তু এই মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও কখনো কখনো এমন কিছু মানবিক ও আধ্যাত্মিক গল্প তৈরি হয়, যা সীমানা পেরিয়ে ছুঁয়ে যায় কোটি মানুষের হৃদয়। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ও মুসলিম উম্মাহ সাক্ষী হলো এমনই এক অভূতপূর্ব ঘটনার। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড টেটে ইয়ঙ্গি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আর এই যাত্রায় তার সঙ্গী হয়েছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার মুফতি মেঙ্ক।

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার ঠিক আগের কথা। নিজের শহর এডিলেইডের একটি মসজিদে জুময়ার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন টেটে ইয়ঙ্গি। সেখানেই আকস্মিকভাবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় ইসলামিক দাঈ মুফতি মেঙ্ক। নামাজ শেষে মুফতি মেঙ্কের সাথে কুশল বিনিময় ও করমর্দন করার সময় তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। মুফতি মেঙ্ক যখন মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, শাহাদাহ পাঠ করা হয়েছে কি না?—ইয়ঙ্গি আর মুহূর্তকালও দ্বিধা করেননি। পরম শ্রদ্ধায় মুফতি মেঙ্কের হাত ধরে কালিমা শাহাদাহ পাঠ করে জীবনের এক নতুন ও পবিত্রময় অধ্যায়ের সূচনা করেন এই উদীয়মান ফুটবলার।

পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার জানান, ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি কোনো আকস্মিক আবেগ বা হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ইসলামের জীবনবিধান, অনুশাসন ও সৌন্দর্যের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হচ্ছিলেন। মসজিদে মুফতি মেঙ্কের সাথে সেই দেখা হওয়াটা যেন তার ভেতরের সুপ্ত ইচ্ছাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক ঐশ্বরিক উসিলা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ধর্মীয় জীবনের এই নতুন আলো যেন টেটে ইয়ঙ্গির মাঠের পারফরম্যান্সকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে। ১.৯৭ মিটার উচ্চতার এই দীর্ঘকায় ফরোয়ার্ড বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বকাপের মূল আসরে নামার ঠিক আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে অভিষেক হয় তার। আর অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত এক গোল করে দলের ড্র নিশ্চিত করে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেন জাপানি ক্লাব 'মাচিদা জেলভিয়া'-তে খেলা এই ফুটবলার।

চলমান বিশ্বকাপেও জাতীয় দলের কোচ টনি পপোভিকের আস্থার প্রতিদান দিয়ে চলেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বের কঠিন লড়াইয়ে তুর্কীর বিপক্ষে ২৪ মিনিট এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৭ মিনিট মাঠে থেকে দলের আক্রমণে দারুণ ধার দেখিয়েছেন তিনি। গতি আর নিখুঁত ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখতে ও দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে তিনি এখন মরিয়া।

নিজের নতুন ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ভীষণ গর্বিত ও উছ্বসিত টেটে ইয়ঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করেন, ইসলাম তাকে মানসিক শান্তি ও জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। বিশ্বমঞ্চের এই বিশাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে নিজের সততা, খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের প্রকৃত, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে চান এই অজি তারকা।

ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত জীবন ও বিশ্বাসের রূপান্তর সবসময়ই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। টেটে ইয়ঙ্গির এই আধ্যাত্মিক রূপান্তরও ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এক নতুন পজিটিভ বার্তার জন্ম দিয়েছে, যা চলমান বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক অফ-ফিল্ড গল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন।

 

সাহাবিদের গল্প—০২ ‘আহাদ! আহাদ!’

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
‘আহাদ! আহাদ!’
ছবি: সংগৃহীত

দুপুরের মক্কা। সূর্য যেন আগুন ঢালছে। উত্তপ্ত বালুর ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে এক হাবশি ক্রীতদাসকে। মালিক উমাইয়া ইবনে খালাফের নির্দেশে তাঁর ওপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন— শুধু একটি ‘অপরাধে’: তিনি বলেছেন, আমার রব আল্লাহ।

নির্যাতনকারীরা শর্ত দিল— লাত-উজ্জার নাম নাও, মুক্তি পাবে। জ্বলন্ত শরীর, ফেটে যাওয়া ঠোঁট। সেই ঠোঁট নড়ে উঠল। কী বললেন তিনি? ‘আহাদ! আহাদ!’— আল্লাহ এক! আল্লাহ এক!

তিনি বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণাকারী প্রথম সাতজনের একজন ছিলেন বিলাল। মুশরিকরা তাঁদের লোহার বর্ম পরিয়ে কাঠফাটা রোদে ফেলে রাখত। সবার কোনো না কোনো সামাজিক সুরক্ষা ছিল, কিন্তু বিলালের ছিল না কেউ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি নিজের ওপর সব নির্যাতন তুচ্ছ করে নিয়েছিলেন। শেষে শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দেওয়া হলো— তারা তাঁকে মক্কার অলিগলিতে টেনে বেড়াত, আর তিনি বলতেই থাকতেন: ‘আহাদ! আহাদ!’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৫০)

আরো পড়ুন: মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

সিরাতগ্রন্থগুলোতে (ইবনে হিশাম) আরও এসেছে— বুকের ওপর বিশাল পাথর চাপা দিয়ে রাখা হতো তাঁর। এই বিবরণটি ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবেই আমরা উল্লেখ করছি। অবশেষে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে কিনে মুক্ত করে দেন।

তারপর ইতিহাসের সেই মধুর প্রতিদান— যে কণ্ঠকে চাবুক স্তব্ধ করতে পারেনি, সেই কণ্ঠই হলো ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ। যে মানুষটিকে মক্কার বালুতে টেনে-হিঁচড়ে অপমান করা হয়েছিল, মক্কা বিজয়ের দিন তিনিই কাবার ছাদে দাঁড়িয়ে আজান দিলেন।

আজকের জীবনে আমাদের ঈমানের পরীক্ষা হয়তো জ্বলন্ত বালুতে হয় না। আমাদের পরীক্ষা হয় অফিসে, বন্ধুমহলে, সোশ্যাল মিডিয়ায়— যেখানে দ্বীন মানতে গেলে কখনো উপহাস শুনতে হয়, কখনো সুবিধা হারাতে হয়। বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু শেখালেন: পরিচয়, পদ, অর্থ— সব কেড়ে নেওয়া যায়; কিন্তু ‘আহাদ’ বলা অন্তরকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।

হে আল্লাহ! আমাদের ঈমানকে বিলালের ঈমানের মতো অটল করে দিন— যা কোনো লোভ কিনতে পারে না, কোনো ভয় ভাঙতে পারে না। আমিন।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৬ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন