রাজধানীর গুলিস্তানে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ (নগর প্লাজা-২) এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে একজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ জুন) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে ফ্লাইওভারের নিচে এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
এ সংঘর্ষে ওই মার্কেটের মোবাইল পার্টস ব্যবসায়ী কবির আহমেদসহ (৪৫) কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকার নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের-২ দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নিলে আগের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, আগের কমিটির সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এদিকে, মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি নিজেদের জামায়াতের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে মার্কেটের করিডোর ও খালি জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসানোর চেষ্টা করছিলেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দাবি, শনিবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জামায়াতের পূর্বঘোষিত একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে মোবাইল পার্টস ব্যবসায়ী কবির আহমেদ ছুরিকাঘাতে আহত হন।
ঢামেক হাসপাতালে আহতের সহকর্মী আক্তার হোসেন জানান, কে বা কারা কবিরের কোমরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি জানান, আহত কবির আহমেদ মুন্সিগঞ্জের সদরের বাংলাবাজার এলাকার তৌহিদ হোসেনের ছেলে। তিনি ওই মার্কেট ইউনিটের সভাপতি ও জামাতের রোকন।
এ বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক খবরের কাগজকে বলেন, শুনেছি, দুই গ্রপের মধ্যে মার্কেট ব্যবস্তাপনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। এখনও কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ জাহাঙ্গীর/রিফাত/