ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টেন্ডুলকারের রেকর্ড এখন সূর্যবংশীর সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী: গণরায় বাস্তবায়নে জামায়াতের গণমিছিল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা বেঞ্চে কানাডার অধিনায়ক, মরক্কোর একাদশে পরিবর্তন ‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান তিন দিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে বরগুনায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন সম্পন্ন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামালের জীবনাবসান স্মার্টফোনের দাম কমাল টেকনো পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজও বাস্তবায়ন করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু সংকটে ইউরোপের অগ্নিদহন সিঙ্গাপুরসহ তিন দেশে এনআইডি কার্যক্রম চলতি মাসে শুরু অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ত্যাগের কথা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি কামনা টেইলর সুইফট-ট্রাভিস কেলসি’র রাজকীয় বিয়ে সব বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী থানায় অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শাওন কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নজর থাকবে: গণপূর্তমন্ত্রী মা হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’
প্রতীকী ছবি

এপ্রিলের পর এবার দ্বিতীয় ‘সুপার টাইফুন’-এর হুমকায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা। বাভি নামের এই সুপার টাইফুনটি ৫ম ক্যাটাগরির হারিকেনসম শক্তিশালী বাতাস নিয়ে দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে।

যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (জেটিডব্লিউটিসি)’র বরাতে উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সাইপান থেকে জানা গেছে, গুয়াম সময় শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৭টায় (শুক্রবার ২১০০ জিএমটি) বাভি দ্বীপপুঞ্জের কয়েকশ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল। তখন এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৫৯ কিলোমিটার (১৬১ মাইল) এবং দমকা বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৩১৪ কিলোমিটার (১৯৫ মাইল)।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ‘বর্তমান পূর্বাভাস মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সব বাসিন্দারই অন্তত ক্রান্তীয় ঝড়ের মতো আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।’

প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস এই দ্বীপপুঞ্জে। গত কয়েক দিনে জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, হার্ডওয়্যার দোকানে প্লাইউড এবং সুপারমার্কেটগুলোতে খাদ্য, বোতলজাত পানি ও জরুরি সামগ্রী কেনার ভিড় দেখা গেছে।

উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের কাগমান ভিলেজের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী জেফ গার্সিয়া বলেন, নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, আমরা এর আগেও সুপার টাইফুন মোকাবিলা করেছি।’

‘আমরা পানি, মোমবাতি, ব্যাটারি ও টিনজাত খাবারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছি... একটি সমাজ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের ঐক্য, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা।’

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা ঝড়ের প্রস্তুতির কারণে অনেকটাই স্থগিত হয়ে গেছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা উভয় অঞ্চলেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

সাইপানের প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ক্লাব রিসোর্টের কর্মীরা শুক্রবার জানালায় কাঠের তক্তা লাগানো, বাইরের আসবাব ও সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে রাখা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুতের কাজ করছিলেন।

রিসোর্টটির ক্রীড়া, বিনোদন ও কার্যক্রম ব্যবস্থাপক ৩৫ বছর বয়সী রেমার্ক কাস্ত্রো বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয় এবং ঝড় চলে যাওয়ার পর দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি।’

আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন হুমকি
উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার এবং পাশের পৃথক মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ অঞ্চল ছিল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।

এপ্রিলের মাঝামাঝি আঘাত হানা সুপার টাইফুন 'সিনলাকু' হাজার হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, অসংখ্য গাছ উপড়ে ফেলে, গাড়ি উল্টে দেয় এবং বহু ভবনের টিনের ছাদ উড়িয়ে নেয়।

এ সময় এমভি মারিয়ানা নামের একটি মালবাহী জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেটি উল্টে যায়। একজন নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরও পাঁচজন নিখোঁজ হন, যাঁদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকান রেড ক্রস জানিয়েছে, অনেক মানুষ এখনও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া ঘরে বসবাস করছেন। এ অবস্থায় বাভির আগমনের আগে সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও ত্রাণসামগ্রী মোতায়েন করেছে।

আস লিতো গ্রামের ৪২ বছর বয়সী এম মারিলা বলেন, ‘আবারও বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়া সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে- এ চিন্তাই খুব কষ্টের।’

তিনি বলেন, ‘সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খরচ নিজের পকেট থেকে চালিয়ে যাওয়া সত্যিই ক্লান্তিকর।’

সান আন্তোনিও গ্রামের ৫০ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক লেহরি গালভান বলেন, ‘বারবার প্রস্তুতি নেওয়া, পরিকল্পনা করা আর ঘরের ছাদ মেরামত করতে করতে আমি ক্লান্ত।’

তিনি বলেন, ‘এটি আবারও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দ্বীপে আরও বেশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।’

‘শিশুরাও মানসিক আঘাত নিয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু অল্প বয়সেই তারা জরুরি পরিস্থিতির জন্য কীভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখতে হয়, তা শিখে গেছে।’

উষ্ণ সমুদ্রের প্রভাব
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলো চলতি বছরের জুন মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণতা রেকর্ড করেছে। আগামী মাসগুলোতেও নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উষ্ণ সমুদ্র ক্রান্তীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী করে এবং বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করে, যা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে।

এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর দেখা দেওয়া এবং সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী এল নিনো ইতোমধ্যে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শুরু হয়েছে এবং এটি শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।

এই প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়ার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

জলবায়ু সংকটে ইউরোপের অগ্নিদহন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
জলবায়ু সংকটে ইউরোপের অগ্নিদহন
ছবি: এআই

প্রকৃতি যেন আর আগের মতো নেই। ঋতুর স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে একের পর এক তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ। জুলাই মাসের শুরুতেই রেকর্ডভাঙা দুটি তাপপ্রবাহ নতুন করে জানিয়ে দিল, জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়—এটি এখন বর্তমানের নির্মম বাস্তবতা। মে মাসের অস্বাভাবিক গরমের পর জুনেও একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা একে ইউরোপজুড়ে ‘অসাধারণ’ আবহাওয়াগত পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর মেট অফিসের প্রধান বিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টিফেন বেলচার বলেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

মে ও জুন মাসজুড়ে যুক্তরাজ্যের গড় তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দক্ষিণ ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ ওয়েলসে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হলেও দেশের প্রায় কোনো এলাকাই এর বাইরে ছিল না।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নরফোকের লিংউডে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মাধ্যমে ১৯৫৭ সালে স্থাপিত এবং ১৯৭৬ সালে সমতা পাওয়া জুন মাসের আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী অধ্যাপক এড হকিন্স বলেন, সাধারণত তাপমাত্রার রেকর্ড খুব সামান্য ব্যবধানে ভাঙে। কিন্তু এবার কয়েক ডিগ্রির ব্যবধানে রেকর্ড ভেঙে যাওয়াটা সত্যিই ব্যতিক্রমী। এর আগেও মে মাসে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

দিনের দাবদাহ থেকে বাঁচার আশায় মানুষ যখন রাতের অপেক্ষায় থাকে, তখনও মিলছে না স্বস্তি। বরং রাতের গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়া হয়ে উঠছে আরও ক্লান্তিকর। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ঘামের মাধ্যমে শরীর স্বাভাবিকভাবে তাপ বের করে দিতে পারছে না, ফলে তাপপ্রবাহের প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘুমহীন রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন লাখো মানুষ। কার্ডিফে ২৪ জুন রাত থেকে ২৫ জুন ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি—যা যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে জুন মাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাত হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অধিকাংশ এলাকাই অন্তত একটি ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ বা এমন রাতের অভিজ্ঞতা পেয়েছে, যখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে না। অতীতে যুক্তরাজ্যে এমন ঘটনা ছিল অত্যন্ত বিরল।

এড হকিন্সের ভাষায়, “বিশ্বের গড় তাপমাত্রা যত বাড়বে, ট্রপিক্যাল নাইটও তত বাড়বে।”

যুক্তরাজ্যে তীব্র গরমের জন্য দায়ী একই ‘হিট ডোম’ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করেছে।

জার্মানির আবহাওয়া সংস্থা এই তাপপ্রবাহকে “ইতিহাসে স্থান পাওয়ার মতো ঘটনা” বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা একে “ব্যতিক্রমী” ও “ঐতিহাসিক” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের এক ডজনের বেশি দেশে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েছে। অনেক স্থানে আগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিও অতিক্রম করেছে। ফ্রান্স ও স্পেন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস পার করেছে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের স্পষ্ট প্রভাব। তাদের মতে, ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আরও দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। তুষার ও বরফ দ্রুত গলে যাওয়া, বায়ুদূষণকারী সূক্ষ্ম কণা কমে যাওয়া এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে বেশি তাপ আটকে থাকার কারণেই এ অঞ্চলে উষ্ণায়নের গতি বেড়েছে।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বায়ুমণ্ডলের প্রবাহে পরিবর্তন ঘটছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যা তাপপ্রবাহ সৃষ্টিকারী উচ্চচাপ বলয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

এ গ্রীষ্মে ইউরোপের সমুদ্রগুলোর পানিও অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক তাপপ্রবাহও আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি বাতাসের তুলনায় ধীরে ঠান্ডা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্র উষ্ণ থাকলে স্থলভাগে শীতল সমুদ্রবাতাসের প্রভাব কমে যায় এবং ভবিষ্যতের তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় জুন মাসের তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠছে। তাদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে গরম আরও বাড়বে। কয়েক দশক আগেও যুক্তরাজ্যে জুন মাসে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা খুবই বিরল ছিল। এখন সেটিই প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গেছে। যদিও প্রতি বছর আগের বছরের চেয়ে বেশি গরম হবে—এমন নয়। তবে কার্বন নিঃসরণ কমানো না গেলে আগামী দিনে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের গ্রীষ্ম আরও উষ্ণ হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

 বিবিসি/এসএন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’
প্রতীকী ছবি

এপ্রিলের পর এবার দ্বিতীয় ‘সুপার টাইফুন’-এর হুমকায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা। বাভি নামের এই সুপার টাইফুনটি ৫ম ক্যাটাগরির হারিকেনসম শক্তিশালী বাতাস নিয়ে দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে।

যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (জেটিডব্লিউটিসি)’র বরাতে উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সাইপান থেকে জানা গেছে, গুয়াম সময় শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৭টায় (শুক্রবার ২১০০ জিএমটি) বাভি দ্বীপপুঞ্জের কয়েকশ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল। তখন এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৫৯ কিলোমিটার (১৬১ মাইল) এবং দমকা বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৩১৪ কিলোমিটার (১৯৫ মাইল)।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ‘বর্তমান পূর্বাভাস মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সব বাসিন্দারই অন্তত ক্রান্তীয় ঝড়ের মতো আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।’

প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস এই দ্বীপপুঞ্জে। গত কয়েক দিনে জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, হার্ডওয়্যার দোকানে প্লাইউড এবং সুপারমার্কেটগুলোতে খাদ্য, বোতলজাত পানি ও জরুরি সামগ্রী কেনার ভিড় দেখা গেছে।

উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের কাগমান ভিলেজের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী জেফ গার্সিয়া বলেন, নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, আমরা এর আগেও সুপার টাইফুন মোকাবিলা করেছি।’

‘আমরা পানি, মোমবাতি, ব্যাটারি ও টিনজাত খাবারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছি... একটি সমাজ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের ঐক্য, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা।’

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা ঝড়ের প্রস্তুতির কারণে অনেকটাই স্থগিত হয়ে গেছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা উভয় অঞ্চলেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

সাইপানের প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ক্লাব রিসোর্টের কর্মীরা শুক্রবার জানালায় কাঠের তক্তা লাগানো, বাইরের আসবাব ও সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে রাখা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুতের কাজ করছিলেন।

রিসোর্টটির ক্রীড়া, বিনোদন ও কার্যক্রম ব্যবস্থাপক ৩৫ বছর বয়সী রেমার্ক কাস্ত্রো বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয় এবং ঝড় চলে যাওয়ার পর দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি।’

আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন হুমকি
উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার এবং পাশের পৃথক মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ অঞ্চল ছিল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।

এপ্রিলের মাঝামাঝি আঘাত হানা সুপার টাইফুন 'সিনলাকু' হাজার হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, অসংখ্য গাছ উপড়ে ফেলে, গাড়ি উল্টে দেয় এবং বহু ভবনের টিনের ছাদ উড়িয়ে নেয়।

এ সময় এমভি মারিয়ানা নামের একটি মালবাহী জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেটি উল্টে যায়। একজন নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরও পাঁচজন নিখোঁজ হন, যাঁদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকান রেড ক্রস জানিয়েছে, অনেক মানুষ এখনও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া ঘরে বসবাস করছেন। এ অবস্থায় বাভির আগমনের আগে সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও ত্রাণসামগ্রী মোতায়েন করেছে।

আস লিতো গ্রামের ৪২ বছর বয়সী এম মারিলা বলেন, ‘আবারও বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়া সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে- এ চিন্তাই খুব কষ্টের।’

তিনি বলেন, ‘সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খরচ নিজের পকেট থেকে চালিয়ে যাওয়া সত্যিই ক্লান্তিকর।’

সান আন্তোনিও গ্রামের ৫০ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক লেহরি গালভান বলেন, ‘বারবার প্রস্তুতি নেওয়া, পরিকল্পনা করা আর ঘরের ছাদ মেরামত করতে করতে আমি ক্লান্ত।’

তিনি বলেন, ‘এটি আবারও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দ্বীপে আরও বেশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।’

‘শিশুরাও মানসিক আঘাত নিয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু অল্প বয়সেই তারা জরুরি পরিস্থিতির জন্য কীভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখতে হয়, তা শিখে গেছে।’

উষ্ণ সমুদ্রের প্রভাব
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলো চলতি বছরের জুন মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণতা রেকর্ড করেছে। আগামী মাসগুলোতেও নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উষ্ণ সমুদ্র ক্রান্তীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী করে এবং বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করে, যা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে।

এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর দেখা দেওয়া এবং সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী এল নিনো ইতোমধ্যে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শুরু হয়েছে এবং এটি শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।

এই প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়ার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী

আরেকটা ধাক্কা খেলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তৃণমূল কংগ্রেসের সংকটের মধ্যে দলটির রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। 

শনিবার (৪ জুলাই) তিনি দলীয় সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার বিষয়ে তার পদত্যাগপত্রে কিছু বলা হয়নি।

বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সংগঠন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গত ৩ জুন কালীঘাটের বৈঠকে চন্দ্রিমাকে রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল। তিনি প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সীর স্থলাভিষিক্ত হন।

মমতা ব্যানার্জীকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদসহ বর্তমানে থাকা সব পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকে দলীয় হিসাবের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবেও নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

পদত্যাগের পর তিনি বলেন, ‘যেখানে বিশ্বাস নেই, যেখানে আস্থা নেই, সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়। সে কারণেই আমরা পদত্যাগ করেছি।’

চন্দ্রিমার পদত্যাগের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বৈঠকের খবরও সামনে এসেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

মমতা শিবিরের বিধায়ক কুনাল ঘোষ চন্দ্রিমার পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, মমতা ব্যানার্জীর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি কেন পদত্যাগ করেননি?

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তিনি উত্তর দমদম আসন থেকে তিন বারের বিধায়ক ছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সৌরভ শিকদারের কাছে তিনি পরাজিত হন।

তৃণমূলের সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বলেন, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের আর আগ্রহ নেই। তার দাবি, তৃণমূল রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও দলত্যাগের ঘটনা বেড়েছে। দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কলকাতায় পাল্টাপাল্টি অবস্থানের খবরও এসেছে। 

তৃণমূল দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই কলকাতায় তৃণমূল কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের একদিন পর ভট্টাচার্যের পদত্যাগ আসে। 

গতকাল শুক্রবার কলকাতায় দলের মহানগর সদর দপ্তর তৃণমূল ভবনের নিয়ন্ত্রণ একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী দখল করে নেওয়ার পর এক বড় রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়। বিদ্রোহীরা তালা পরিবর্তন করে, অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান উল্লেখ করে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল টিএমসি’ বলে দাবি করেন।

এর পর মমতা ব্যানার্জীর অনুগত নেতারা তৃণমূল ভবনে ছুটে যান এবং এই অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, যার ফলে ভবনটির চারপাশে বিপুল সংখ্যক সিআরপিএফ ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ম্যাকডোনাল্ডস-বাস টার্মিনাল এখন ক্লিনিক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ম্যাকডোনাল্ডস-বাস টার্মিনাল এখন ক্লিনিক
ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁ অস্থায়ী ক্লিনিকে রূপান্তর। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্যোগকবলিত এলাকার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁকে অস্থায়ী ক্লিনিকে রূপান্তর করা হয়েছে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার জন্য এসব অস্থায়ী কেন্দ্রে ভিড় করছে। 

দেশটিতে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই জোড়া ভূমিকম্প লা গুয়াইরা রাজ্যে আঘাত হানে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ২,৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণে হাসপাতালগুলো দ্রুতই চাপের মুখে পড়ে।

দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রমে কর্মরত ৩৩ বছর বয়সী শল্যচিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবক কার্লিস ফিগুয়েরা এএফপিকে জানান, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারাবালেদা এলাকার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁকে অস্থায়ী ক্লিনিকে রূপান্তর করা হয়েছে  এবং এখান থেকে ‘উচ্চ রক্তচাপ, দুশ্চিন্তা, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, অস্থায়ী এই কেন্দ্রটি এখন একটি ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে। এখানে রোগীদের প্রাথমিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য একটি ফার্মেসি, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংরক্ষণের স্থান, পাশাপাশি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পশুচিকিৎসার জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফিগুয়েরার মতো ৩০ জনেরও বেশি চিকিৎসক সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, যে কাউন্টারে একসময় বিখ্যাত হ্যামবার্গার পরিবেশন করা হতো, সেখানে এখন ত্রাণ হিসেবে পাওয়া আরেপাস ও স্যান্ডউইচ বিতরণ করা হচ্ছে। আর রেস্তোরাঁর আইসক্রিম কর্নারকে উদ্ধার করা প্রাণীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে।

ক্যাটিয়া লা মারের একটি বাস টার্মিনালের ভেতরে স্থাপিত আরেকটি অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৪,০০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সুত্র এএফপি’র।

রিফাত/

খামেনির দাফন, ট্রাম্পের কটাক্ষ আর ‘রফা’ প্রসঙ্গে নতুন বিতর্ক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
খামেনির দাফন, ট্রাম্পের কটাক্ষ আর ‘রফা’ প্রসঙ্গে নতুন বিতর্ক
ছবি: এআই

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে চলছে তার দাফন কার্যক্রম। এমন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, খামেনির দাফন সম্পন্ন করার জন্য তেহরানকে কিছুটা সময় বা ‘ছুটি’ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে মাউন্ট রাশমোরে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তৃতায় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। দীর্ঘ সেই ভাষণে তিনি মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব, কমিউনিজমের হুমকি এবং বিশ্বজুড়ে তার দেশের সামরিক শক্তির বিষয়ে বেশ বড়াই করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে বলেন, আমরা ভেনিজুয়েলাকে একদিনে হারিয়েছি এবং ইরানকে একেবারে তছনছ করে দিয়েছি। তারা এখন সমঝোতা করার জন্য ছটফট করছে; তারা খুব খারাপভাবে একটি রফা চাইছে।

নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের দাফনকাজের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি, কারণ আমরা দয়ালু।’ তার এই মন্তব্যকে অনেকেই ব্যঙ্গাত্মক ও বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন।

 আল জাজিরা/এসএন