লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার রশিদপুর গ্রামে পারিবারিক সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে নজরুল ইসলাম (৭০) নামে এক সালিশদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তারই নাতি আশিকের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলার নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসায় শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফারুকের চাচা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সালিশ চলাকালে আয়েশা বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আয়েশা মোবাইল ফোনে ঢাকায় অবস্থানরত ছেলে আশিককে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আশিক এলাকায় এসে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি নজরুল ইসলামের বাম হাতের কব্জির ওপর বিদ্ধ হয়। ঘটনার পর থেকেই আশিক পলাতক রয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত আশিকের বাবা ইসমাইল হোসেন ফারুক বলেন, “আমার ছেলে আশিক আমার চাচাকে গুলি করেছে। সে ঢাকায় ছিল। তার মা তাকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনেছে। এখন সে আমাকেও গুলি করার হুমকি দিচ্ছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ভাতিজা ফারুক আমাকে সালিশে ডেকে নিয়েছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে ফারুকের স্ত্রী আয়েশা বেগম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি কারও কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সন্ধ্যায় আশিক বাড়িতে এসে আকস্মিক আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শামীম মোহাম্মদ আফজাল সাংবাদিকদের জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক্স-রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে শরীরে গুলি রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/এসএন