জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং সরকার ঘোষিত নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বরগুনায় তিন দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষ হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) আলোচনা সভা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, কবিতা নাট্য, নজরুলসংগীত, নৃত্য এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা, সাম্য, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শ তুলে ধরা।
তিন দিনের কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, কবিতা, নাট্য, বিতর্ক, নজরুলসংগীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা জাতীয় কবির সাহিত্য, দর্শন ও জীবনবোধ সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাম্য, ন্যায়, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার যে বার্তা নজরুল তার সাহিত্য ও জীবনদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
তারিক বিন আনসারি সুমন ও ইফরাত ইমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিভিল সার্জন আবুল ফাত্তাহ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, পাবলিক প্রসিকিউটর নূরুল আমিন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন অর রশিদ রিংকুসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন।
উৎসবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, এ আয়োজন কেবল জন্মবার্ষিকী উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা এবং নজরুলের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমাজে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, তিন দিনের এই উৎসব বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে। এ ধরনের ধারাবাহিক আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাতীয় কবির আদর্শ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
মহিউদ্দিন/নাঈম