বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও স্বাগতিক মেক্সিকো। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত আজতেকা স্টেডিয়ামের কঠিন পরিবেশ ইংল্যান্ডের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইংল্যান্ড শেষ বত্রিশে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। কঙ্গোর বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ ১৫ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় থ্রি লায়ন্সরা। ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে কঙ্গো এগিয়ে গেলেও কেইনের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে রক্ষা পায় ইংল্যান্ড। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শক্ত অবস্থানে আছেন ইংলিশ অধিনায়ক।
তবে জয় পেলেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম অন-টার্গেট শট নিতে তাদের লেগেছিল ৩০ মিনিট। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা। ফলে কোচ থমাস টুখেলের দলের সামনে এবার আরও বড় পরীক্ষা।
অন্যদিকে স্বাগতিক মেক্সিকো দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। শেষ বত্রিশে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর এল ত্রি। হুলিয়ান কুইনোনেস প্রথম গোল করার পর রাউল জিমেনেজকে দিয়ে দ্বিতীয় গোল করান। এই জয়ে ৪০ বছরের নকআউট অভিশাপ কাটিয়েছে মেক্সিকো; ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ জিতেছে তারা।
পরিসংখ্যানও মেক্সিকোর পক্ষেই কথা বলছে। টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে চার জয়, এখনো কোনো গোল হজম করেনি দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় জয়ের পাশাপাশি ১২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রয়েছে তারা। আরও বড় শক্তি তাদের ঘরের মাঠ আজতেকা। এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেক্সিকো কখনো হারেনি। ১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ ড্র তাদের দখলে।
তবে মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। দুই দলের সর্বশেষ চার দেখায় জয় পেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। যদিও ২০১০ সালের পর আর মুখোমুখি হয়নি এই দুই দল।
দলগত পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের কিছু দুশ্চিন্তা রয়েছে। ডেকলান রাইস কঙ্গোর বিপক্ষে ক্র্যাম্প নিয়ে মাঠ ছাড়লেও গুরুতর চোট নয় বলে জানা গেছে। তবে রিস জেমস ও জারেল কোয়ানশার অনুপস্থিতি রক্ষণে প্রভাব ফেলতে পারে। আক্রমণে বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডন শুরুর একাদশে জায়গার দাবিদার।
মেক্সিকো শিবিরে অবশ্য স্বস্তির বাতাস। ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা ইতিহাস গড়ে নকআউট ম্যাচে প্রথম একাদশে নেমে নজর কাড়েন। কিংবদন্তি পেলের পর সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা করে নেন তিনি। কোচ হাভিয়ের আগুইরে এবার তরুণ মোরার ওপর আস্থা রাখবেন, নাকি অভিজ্ঞ বিকল্প বেছে নেবেন–তা দেখার বিষয়।
ইংল্যান্ডের টমাস টুখেল বলেন, মেক্সিকোর বিপক্ষে আমাদের সামনে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। শুধু প্রতিপক্ষ নয়, উচ্চতার কারণে পরিবেশও একটা বড় ফ্যাক্টর।
অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেন, আমরা জানি মেক্সিকোর মাঠে খেলা কত কঠিন হবে। কিন্তু বড় ম্যাচের জন্য আমরা প্রস্তুত। নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ কম। মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, ইংল্যান্ড বিশ্বমানের দল। তাদের দলে একাধিক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। তবে আমরা আমাদের শক্তি সম্পর্কে জানি। ভয়হীন ফুটবল খেলতে চাই। সুযোগ এলে তা কাজে লাগাতে হবে।
মেক্সিকোর অধিনায়ক এডসন আলভারেজ বলেন, এই ম্যাচ শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়। পুরো দেশের আবেগ জড়িয়ে আছে। আমরা ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছি। ইংল্যান্ডকে আমরা সম্মান করি, তবে ভয় পাই না।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাই অপেক্ষা করছে হাড্ডাহাড্ডি এক দ্বৈরথ। একদিকে ইংল্যান্ডের তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড, অন্যদিকে স্বাগতিক সমর্থন ও আজতেকার অজেয় রেকর্ড– সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য জমজমাট এক লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত।