ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন ‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেকুয়ায় অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ বিএনপির মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা পড়ে পাওয়া গল্পের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩০ পল্লবীতে সন্ত্রাসী ‘রেড মুন্না’ গ্রেপ্তার সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক করতে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: রাষ্ট্রপতি উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ জন গ্রেপ্তার ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ রাজধানীজুড়ে একদিনে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৮ জুনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৪৩৮, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে বেশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় শি জিনপিং ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী নিউইয়র্কে পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শতভাগ ফিট না হলেও নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে রাফিনহা হাতিয়ায় রুপালি ইলিশের আকাল, শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

কেপ ভার্দেকে স্যালুট

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ এএম
কেপ ভার্দেকে স্যালুট
ছবি: সংগৃহীত

এবারের বিশ্বকাপ সত্যিই দারুণভাবে উপভোগ করছি। বিশেষ করে যেসব দলকে ছোট হিসেবে ধরা হচ্ছিল, তারা হট ফেবারিটদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এটাই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আর এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেপ ভার্দে।

রাউন্ড অব বত্রিশে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের যে লড়াই, তা অনেক দিন ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে। ফুটবল ইতিহাসে যেসব দলকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হিসেবে ধরা হয়, যাদের ক্যাবিনেটে রয়েছে অসংখ্য শিরোপা—সেই দলগুলোকেই কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেই নকআউট পর্বে ওঠা এবং বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়ে যাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।

শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারলেও, কেপ ভার্দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফুটবলের প্রকৃত সৌন্দর্য ও লড়াকু মানসিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ফুটবলের প্রতি তাদের খেলোয়াড়দের নিবেদন, ফিটনেস এবং লক্ষ্যপানে অবিচল মানসিকতা মুগ্ধ করার মতো। দলটির সব খেলোয়াড়ই নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছে। এই ফুটবলের জন্য আমি তাদের স্যালুট জানাই।

আফ্রিকার ছোট্ট একটি দেশ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের আগে যে দেশের নাম আমিসহ বিশ্বের অনেক মানুষই তেমনভাবে জানত না। সেই দেশই এখন ফুটবলের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এখন বিশ্বজুড়ে তাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে।

গ্রুপ পর্বে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে নিজেদের মিশন শুরু করেছিল। তখন এটিকে অনেকেই চমক হিসেবে দেখলেও, পরবর্তীতে আরেক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা প্রমাণ করে দেয়—এটি কোনো অঘটন নয়, বরং তাদের সামর্থ্যেরই প্রতিফলন। এরপর সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে রাউন্ড অব বত্রিশে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে।

এই তিনটি ম্যাচেই তারা সবার হৃদয় জয় করে নেয়। নকআউট পর্বের প্রথম ধাপেই তাদের মুখোমুখি হতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। লিওনেল মেসিদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে যে লড়াই তারা করেছে, তা সত্যিই রূপকথার মতো।

তারা যে এমন ফুটবল উপহার দেবে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমার মনে হয়, অন্যদের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন। আসলে চেষ্টা করলে যে সবই সম্ভব, এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে সেটাই দেখাল। আমরা কিন্তু তাদের থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারি। মাত্র ৫ লাখ মানুষের একটি ছোট্ট দেশ হয়েও বিশ্বকাপে যে ফুটবল তারা খেলেছে, আমরা এত বড় দেশ, এত জনসংখ্যার দেশ হয়ে কেন পারব না? কেপ ভার্দের থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। সেই শিক্ষাটা নিতে হবে আমাদের।

ফেবারিট দলের তকমা নিয়ে যারা বিশ্বকাপে এসেছিল, তাদের মধ্যে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস ইতোমধ্যে ছিটকে গেছে। তবে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন বেশ ভালোভাবে রেসে আছে। এদের সঙ্গে আমি পর্তুগালের নামটাও বলব। এরা অনেক নামিদামি খেলোয়াড় নিয়ে দল গড়েছে এবং এখন পর্যন্ত তারা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করে যাচ্ছে।

নকআউটে এরই মধ্যে রাউন্ড অব বত্রিশ শেষ হয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিন শুরু হয়ে গেছে। এই লেখা পাঠকের হাতে যেতে যেতেই যেমন শেষ ষোলোর দুটি ম্যাচ হয়ে যাওয়ার কথা। এখন ধীরে ধীরে দল কমে আসবে এবং ফাইনাল ঘনিয়ে আসবে। তাতে রোমাঞ্চও বাড়তে থাকবে। কার হাতে শিরোপা উঠে, সেটার জন্য অবশ্য আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

তবে এখন পর্যন্ত দলগুলোর পারফরম্যান্সে আমি ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখব। টোটাল ফুটবলের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি আক্রমণ, পাসিং এবং ফিনিশিং—সব বিভাগেই দারুণ ভারসাম্য দেখাচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী দল।

কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেরা গতরাতেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে খেলেছে। এই লেখাটি অবশ্য সেই খেলার বেশ আগে লেখা। ফলে ফ্রান্সকে নিয়ে কিছু লেখার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ছিল। সেই ঝুঁকি সত্ত্বেও লিখতে হলো। কারণ এই ফ্রান্সকে নিয়ে অল্প কিছু না বললে যে লেখাটা অপূর্ণ থেকে যায়।

লেখক: জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার

ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম
ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে পরাজয়ের পরও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ও গর্বিত কোচ গুস্তাভো আলফারো। তার মতে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘সিংহের মতো’ লড়াই করেছে।

ম্যাচ শেষে আলফারো বলেন, ‘ফ্রান্স আমাদের রক্ষণভাগ ভাঙার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং ভিএআরের মাধ্যমে পাওয়া একটি পেনাল্টিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। স্বাভাবিক খেলায় তারা আমাদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।’

ম্যাচের ৭০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স, যারা কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে।

২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই ছিল দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য। এবারও সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখলেও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

পুরো ম্যাচে প্যারাগুয়ের শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল ফ্রান্সকে চাপে রাখে। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে একাধিকবার প্রতিপক্ষের কঠোর মার্কিংয়ের মুখে পড়েন। এদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে মৌখিক কটূক্তির অভিযোগ তুললেও আলফারো তা গুরুত্ব দেননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বকাপে ফিরতে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অন্যদিকে এমবাপ্পে প্রথম বিশ্বকাপেই শিরোপা জিতেছে, দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলেছে এবং এবারও সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে রয়েছে। তারপরও আমার খেলোয়াড়রা কোনো ভয় না পেয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে।’

আলফারোর বিশ্বাস, ‘এই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে প্যারাগুয়ের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। তার ভাষায়, বিদায় অবশ্যই কষ্টের, কিন্তু এই টুর্নামেন্ট আমাদের ফুটবলের জন্য বড় শিক্ষা এবং অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

পাপ্পু/অনিক/

‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা এবং ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ব্রুনো গুইমারায়েস। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, দলের লক্ষ্য একটাই- জয়।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ব্রুনো বলেন, ‘ম্যাচটি কঠিন হবে, তবে আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আগেও বলেছি, পরের রাউন্ডে উঠতে হলে প্রয়োজনে মাঠে মরতেও আমরা প্রস্তুত। যেকোনো মূল্যে এই জয় আমাদের চাই।’

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে তীব্র গরম। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের সময় তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বজ্রঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে ম্যাচ এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা।

গরমের প্রভাব নিয়ে ব্রুনো বলেন, ‘এই আবহাওয়া দুই দলের জন্যই সমান চ্যালেঞ্জ। কেউ যদি বলে সে এই গরমে অভ্যস্ত, তাহলে সেটা সত্য নয়। ম্যাচে শারীরিক সক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখবে। তাই শক্তিশালী স্কোয়াড এবং কার্যকর বেঞ্চ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের সময় বদলি খেলোয়াড়রাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে, যেমনটি গত ম্যাচে মার্তিনেল্লি করেছিল।’

চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসা গুইমারায়েস। ইতোমধ্যে চারটি অ্যাসিস্ট করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতাদের একজন।

নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবনে আমি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে পরিপূর্ণ মনে করি। পেশাদার ক্যারিয়ারে এখন কেবল বিশ্বকাপ জেতাটাই বাকি। এটি আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি। জাতীয় দলের জন্য প্রয়োজন হলে মাঠে মরতেও প্রস্তুত আমি। আমি সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলতে চাই এবং দলকে সফল করতে চাই।’

পাপ্পু/অনিক/

শতভাগ ফিট না হলেও নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে রাফিনহা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
শতভাগ ফিট না হলেও নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে রাফিনহা
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রাফিনহা। শতভাগ সুস্থ না হয়েও দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘রাফিনহার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সে এখনো পুরোপুরি ফিট নয়, তবে বেঞ্চে থাকার মতো অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে কয়েক মিনিট খেলতে পারবে এবং ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সে দ্রুত সেরে উঠছে, যা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। কারণ রাফিনহা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’

এর আগে গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার এই তারকা। চোটের কারণেই মিস করতে হয়েছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ এবং নকআউটের একটি ম্যাচ।

তবে দলের অনুশীলনে রাফিনহা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেন এবং সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনেও অংশ নিতে দেখা যায় তাকে।

রাউন্ড-১৬ নরওয়ে বাধা পেরোনের আগে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ফিরেছে।

পাপ্পু/এএফ

ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যেই!

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যেই!
ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৪ সালের পর আবারও উত্তর আমেরিকায় ফিরছে ফিফা বিশ্বকাপ। তবে এবারের আসরটি শুধু দলসংখ্যা বা বড় আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টুর্নামেন্টে পরিণত হতে যাচ্ছে। জনপ্রিয় ফুটবল ভিত্তিক গণমাধ্যম 'গোল ডটকম'-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি টিকিটের তুলনামূলক চিত্র।

ফিফার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে সেকেন্ডারি বা পুনর্বিক্রয় বাজারগুলোতে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচ এবং স্বাগতিক দেশগুলোর ম্যাচের টিকিট পেতে ফুটবলপ্রেমীদের পকেট থেকে গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের মূল্য

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের জন্য পুনঃবিক্রয় বাজারে খরচ করতে হচ্ছে ৫ হাজর ৯০০ ডলার থেকে শুরু করে ৩৮ হাজার ডলার (প্রায় সাড় ৪৪ লাখ টাকা) পর্যন্ত। মাঠের একদম কাছের প্রিমিয়াম বা ফ্রন্ট ক্যাটাগরির টিকিটগুলোর দাম ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের কারণে ফিফা অফিশিয়ালিই সর্বোচ্চ ৩২,৯৭০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।

সেমিফাইনাল ডালাস এবং আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনাল ম্যাচগুলোর টিকিটের বর্তমান বাজারমূল্য ১,৫০০ থেকে ৯,৫০০ ডলার।

আজহার/

কোথায় সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ এএম
কোথায় সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার?
ছবি: সংগৃহীত

লিওনেল মেসির দেশের সমর্থকেরা প্রায়ই বলে থাকেন, ‘আর্জেন্টিনা কখনোই ম্যাচ সহজ করে জেতে না।’ গতকাল শনিবার ভোরে আরও একবার সেই কথার প্রতিফলন দেখা গেছে। গোল করে এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করার প্রবণতা থেকে কিছুতেই বের হতে পারছে না আর্জেন্টিনা।

বিস্তারিতভাবে বললে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চারটি ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করেছিল। প্রতিপক্ষ সমতা ফিরিয়েছিল। 

শুরুটা হয়েছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার পরও সৌদি আরব দুটি গোল করে ম্যাচ জিতে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও ম্যাচ ২-২ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিততে হয় আর্জেন্টিনাকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেও আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। পরে ম্যাচ ২-২ হয় এবং টাইব্রেকারে জিতে ট্রফি হাতে তোলে তারা।

একই চিত্র দেখা গেছে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও। কেপ ভার্দের রক্ষণ সংগঠিত এবং দুর্দান্ত গোল করার সামর্থ্যের জন্য দলটির সুনাম রয়েছে। তাদের বিপক্ষে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা যেন হঠাৎই ‘সুইচ অফ’ হয়ে গিয়েছিল এবং গোল হজম করে। দ্বিতীয় গোলের পরও একই ঘটনা ঘটে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ না থাকলে কেপ ভার্দে অতিরিক্ত সময়ে এগিয়েও যেতে পারত।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, আজ আমরা অনেকগুলো আঘাত হজম করেছি। অনেকেই হয়তো ভেবেছিল খুব সহজে ম্যাচটা জিতে নেব। আমরা কিন্তু সেটা ভাবিনি।

খুব সহজে ম্যাচ জয়- স্কালোনি হয়তো ঠিক বলেননি। কিন্তু শক্তিমত্তায় অনেকটা পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনাকে এত কষ্ট করে জিততে হবে কেন? অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ক্লান্তি, কৌশলগত দুর্বলতা নাকি মানসিক চাপ- প্রশ্ন উঠতেই পারে।

এ দিনের ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গিয়ারে খেলেই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। এমনিতেই এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব দলগুলোর জন্য শারীরিক ধকল সামলানোর পরীক্ষা। 

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পাঁচটি নকআউট ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। ফলে পরের রাউন্ডের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে দলগুলো চাইবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শক্তি বাঁচাতে গিয়ে খেলার গতি মন্থর হয়ে গেলে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলতে হলে সেটি উল্টো সমস্যাই তৈরি করে। আর্জেন্টিনা ঠিক সেই ভুলটাই করেছে।

আর্জেন্টিনার বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা ম্যাচ শেষে উল্লেখ করেছেন স্কালোনি। মিশরের বিপক্ষে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মাত্র তিন দিন সময় পাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে যে আর্জেন্টিনা খেলেছিল, তার তুলনায় এ দিনের প্রথম একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন ছিল।

বিষয়টি শুধু শারীরিক ফিটনেসের নয়। ইউরোপীয় দলগুলোর তুলনায় আর্জেন্টিনার খেলার ধরন আলাদা। তারা একটানা আগ্রাসী ফুটবল খেলে না। সেটি মেনে নিয়েছেন মেসিও। 

তিনি বলেন, আমরা ওদের চাপে রাখতে পারিনি। সব সময় বলের পেছনে ওদের একজন বাড়তি ফুটবলার ছিল। তার সঙ্গে আমরা তাল মেলাতে পারিনি। এই কারণেই ওদের পায়ে বল বেশি ছিল এবং আমাদের বেশি দৌড়াতে হয়েছে।

মেসির পক্ষে এ ধরনের কৌশলগত মন্তব্য বিরলই বলা যায়। আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা সাধারণত আচমকা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ভেঙে দেওয়া। যেমন ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পাস থেকে মেসির গোলটি- যা আগে থেকে কেউ অনুমান করতে পারেনি। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন আগ্রাসী ফুটবল খেলা শুরু করে, তখনই আর্জেন্টিনা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে।

নিজেদের বক্সে রক্ষণের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা খুব খারাপ নয়। তবে এ দিন তারা বল ক্লিয়ার করতে বেশি সময় নিয়েছে। ফলে কেপ ভার্দে সহজেই আর্জেন্টিনার রক্ষণের ফাঁক খুঁজে পেয়েছে। প্রথমে দুয়ার্তে সমতা ফেরান, পরে সিডনি লোপেজ অসাধারণ শটে গোল করেন।

আর্জেন্টিনার হাতে সব ধরনের শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা কেন প্রতি-আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলে না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। প্রতিপক্ষ আগ্রাসী খেললে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে পাল্টা গোল করার প্রবণতা আর্জেন্টিনার খেলায় খুব বেশি দেখা যায় না। মেসি গোল করা ও সুযোগ তৈরিতে অসামান্য। তবে তার বয়সের কথা বিবেচনায় রেখে বারবার প্রতি-আক্রমণ তার পা থেকে শুরু হবে- এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ফলে আর্জেন্টিনাকে নির্ভর করতে হবে লাউতারো মার্তিনেজ বা জুলিয়ান আলভারেজের ওপর।

তবে এটাও মানতে হবে, এ দিন দুই বার গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কখনোই ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তারা বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। দুই সেন্টারব্যাক সেটপিস থেকে গোল করেছেন। ফলে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে না- এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। প্রশ্ন হলো, তারা কতটা সময় এবং কতটা ধারাবাহিকভাবে চাপ ধরে রাখতে চায়।

স্কালোনিও এ দিন সেই প্রসঙ্গ তুলেছেন। তার ভাষায়, আমার মনে আছে, কাতারে যে ম্যাচগুলো অতিরিক্ত সময়ে গিয়েছিল, আজও ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ছেলেরা আক্রমণ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। এক-এক সময় মনে হচ্ছিল, সৌদি আরব ম্যাচের মতোই কোনো একটি ম্যাচ খেলছি। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে যেমন খেলেছিলাম, তার চেয়ে আজ ভালো খেলেছি। কারণ এই দলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার