বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধাগুলো খুব সহজে পেরিয়ে এসেছিল আর্জেন্টিনা। তবে নকআউটের প্রথম পর্বেই কঠিন চ্যালেঞ্জ জয় করতে হলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। বলা যায়, কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনের দুয়ারে চলে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় লড়াইয়ে জয় পায় আর্জেন্টিনা। যে জয়ে বড় অবদান লিসান্দ্রো মার্তিনেজের।
বাংলাদেশ সময় গতকাল (৪ জুলাই) ভোরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে লিওনেল মেসি প্রথম জাল খুঁজে নেন। যে গোলটিতে বড় অবদান মার্তিনেজের। মধ্য মাঠ থেকে তার লং পাসেই তৈরি হয় গোলের সুযোগ। এরপর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে নিজে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা। কেপ ভার্দে যদিও সেই গোল পরিশোধ করে স্কোর লাইন ২-২ করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের উচ্ছ্বাস ছিল অন্য রকম। তিনি এই জয়টি নিজের স্ত্রী ও কন্যাকে উৎসর্গ করেন। এর কারণও আছে। গুরুতর চোটের ধাক্কায় এক সময় ফুটবলই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার কন্যা যখন পৃথিবীতে এল, সেই সময়টায় দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায় মার্তিনিজের। ম্যাচ শেষে মার্তিনেজ বলেন, ‘ওদের ছাড়া আমি হয়তো আজ এখানে থাকতে পারতাম না। এই জয় ওদের দুজনের জন্য। চোটের কারণে খুব কঠিন সময় পার করতে হয়েছে আমাকে। ওই সময়টাই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। এরপর আমার মেয়ের জন্ম হলো, সবকিছু যেন বদলে গেল। আমি আমার স্ত্রীকে সন্তান জন্ম দিতে দেখেছি। তার সেই সংগ্রাম আমাকে ভাবিয়েছে—আমি কেন লড়াই চালিয়ে যাব না?’
লিসান্দ্রো মার্তিনেজ অনুপ্রেরণা নিয়েছেন মেসির জীবন থেকেও। ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারের কথায়, ‘লিও মেসির গল্প আমার জন্য বিশাল অনুপ্রেরণা। পুরো ক্যারিয়ারে তিনি অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন, অনেক ব্যর্থতা দেখেছেন, কিন্তু কখনো হাল ছাড়েননি। আজ ৩৯ বছর বয়সেও তিনি একই আবেগ নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন। তিনি সবকিছু জিতেছেন। প্রমাণ করার মতো আর কিছুই বাকি নেই। আমার কাছে তিনি শুধু ফুটবলের নয়, সব খেলাধুলার ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরা। সর্বকালের সেরা যদি এতটা আবেগ নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে আমাদেরও তার পথ অনুসরণ করতেই হবে।’
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি মার্তিনেজ। একই সঙ্গে কঠিন পরীক্ষায় উতরে যাওয়ায় সতীর্থদেরও কৃতিত্ব দেন তিনি। ‘আমাদের দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো- কখনো হাল না ছাড়া। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। নকআউট ম্যাচ এমনই হয়। এখানে একটুও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। কেপ ভার্দে অসাধারণ খেলেছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানিয়েছি। তারা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস, আমরা প্রাপ্য দল হিসেবেই জিতেছি। এই দলের অংশ হতে পেরে আমি খুব গর্বিত।’– বলেন মার্তিনেজ।