ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কোথায় সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার? দিনাজপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল বায়ু দূষণের শীর্ষে নয়া দিল্লি, ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় নরসিংদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত সাম্বার ছন্দ নাকি ভাইকিং ঝড়? হবিগঞ্জ ও সিলেটে ‘দুরন্ত স্পোর্টস গ্যালারি’ এর নতুন শোরুম চালু বিশ্বকাপে ১৫০ গোল স্পর্শ করল ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্রনীতি থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই: কিয়ার স্টারমার জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার ঢাকাসহ দেশের ৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রে ‘কমিউনিস্ট হুমকির’ সমালোচনা ট্রাম্পের বরিশালে তরুণদের ঘিরে মাদকের বিস্তার ২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ ইউক্রেনের কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের দাবি রাশিয়ার, জেলেনস্কির নাকচ সারজিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেন জুলাই শহিদের মা সর্বাধিক গোল দিয়ে মেসির সমকক্ষ হলেন এমবাপ্পে রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ উত্তরা মোটর্স নিয়ে এলো নতুন ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস উচ্চতার চ্যালেঞ্জে ইংল্যান্ড, দুর্দান্ত ছন্দে মেক্সিকো ভারতে জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন আধ্যাত্মিক ট্রেন্ড ‘ভজন ক্লাবিং’ সুশাসন চর্চা থেকে অবিচল আস্থা: ব্র্যাক ব্যাংক কয়লার ময়লায় টিকে থাকার সংগ্রাম বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা সেতুর বদলে মেলে শুধু আশ্বাস কুষ্টিয়ায় পানির অভাবে বিপাকে পাটচাষিরা ‘ওপেন সিক্রেট’ মাদক ৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৭৯৭৫ কোটির প্রকল্পে ২৮৪ কোটি টাকা অনিয়ম

কয়লার ময়লায় টিকে থাকার সংগ্রাম

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কয়লার ময়লায় টিকে থাকার সংগ্রাম
কয়লা খনির পাশ দিয়ে প্রবাহিত কালো পানি ড্রেন থেকে ডাস্ট সংগ্রহ করছেন কয়েকজন নারী। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

দূর থেকে মনে হবে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে মাছ ধরা হচ্ছে, কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো বস্তু খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু কাছে গেলেই পাল্টে যাবে ধারণা। বুকসমান ময়লাযুক্ত পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বাঁশের মাথায় জাল বেঁধে কয়লার ডাস্ট সংগ্রহ করছেন একদল নারী।

এই চিত্র দেখা যায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাশ দিয়ে প্রবাহিত ময়লাযুক্ত পানি নিষ্কাশনের ড্রেনে। জীবিকার তাগিদে সমাজের কটূক্তি আর রোগ-ব্যাধিকে সঙ্গী করেই প্রতিদিন চলছে নারীদের এ বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খনির মূল ফটকের পশ্চিমের প্রাচীর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এই কালো পানির ড্রেনে প্রতিদিন রাত ৮টার পর শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। চলে পরদিন রাত ৮টা পর্যন্ত। এভাবে সাতটি দলে বিভক্ত দুই শতাধিক হতদরিদ্র নারী সপ্তাহে একদিন করে পালাক্রমে পানিতে নেমে সারা রাত কয়লার ডাস্ট সংগ্রহ করেন, যেখানে প্রতিটি দলে ২০ থেকে ৩৫ জন নারী কাজ করে থাকেন।

জানা গেছে, পানির স্রোতে ভেসে আসা কয়লার গুঁড়া বাঁশের সঙ্গে বাঁধা জালে সংগ্রহ করার পর তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। একজন নারী সপ্তাহে একদিন কাজ করে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এ ডাস্ট সংগ্রহকারী অধিকাংশ নারীই কয়লা খনির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা মাথায় পুরোনো কাপড় বেঁধে নেমে পড়েন কালো পানিতে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই মুখ লুকান।

দীর্ঘ সময় দূষিত পানিতে থাকার কারণে চর্মরোগ, পায়ে ঘা, সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এসব নারী। কিন্তু তাদের জন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা নেই, নেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিংবা শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি।

স্বামীর আয়ে সংসার চলে না কয়লার ডাস্ট সংগ্রহ করতে আসা মাজেদা বেগমের। অভাবের সংসার। তাই ঝুঁকি নিয়েই সপ্তাহে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার আশায় এ কাজ করতে বাধ্য হন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেয় কিংবা নিরাপদ কোনো কাজের ব্যবস্থা করে, তাহলে এই কষ্টের জীবন থেকে মুক্তি পেতাম।’

প্রায় ১৪ বছর ধরে ডাস্ট সংগ্রহের কাজ করছেন শারমিন বেগম। দীর্ঘ সময় পানিতে থেকে কাজ করায় হাত-পায়ে চুলকানি, ঘা ও নানা রোগ হচ্ছে। তারপরও পরিবারের জন্য তাকে এ কাজ করে যেতে হচ্ছে।

সেখানে থাকা বাকি সদস্যরা জানান, রাতভর পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। শীতে শরীর কাঁপে, বর্ষায় স্রোত বাড়ে, তবুও কাজ বন্ধ করা যায় না। কারণ, ঘরে তাদের ছোট ছোট সন্তান অপেক্ষা করে। অনেক সময় একদিনের আয় দিয়েই পুরো সপ্তাহের বাজার করতে হয়। কাজ না করলে পরিবার না খেয়ে থাকবে, তাই নিরুপায় হয়েই এ কালো পানিতে নামতে হয়।

বড়পুকুরিয়া পাতরা পাড়া বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখানে যে নারীরা কাজ করছেন তারা সমাজের বোঝা নন, বরং সংগ্রামী নারী। সরকার যদি তাদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, তাহলে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।’

দিনাজপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘নিরাপদ কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো একদিন এই কালো পানি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বড়পুকুরিয়ার সংগ্রামী কর্মজীবী নারীরা।’

নরসিংদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
নরসিংদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত
নিহত সাবেক ছাত্রদল নেতা মাসেকুর রহমান লিটন/ ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুলের মিটিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা মাসেকুর রহমান লিটন ভূঁইয়া (৩৮) নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের নোয়াদিয়া এলাকায় চাঁন মিয়া স্টোরের পাশে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসেকুর রহমান লিটন বিন্নাবাইদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, 'রাত প্রায় ৯টার দিকে নোয়াদিয়া এলাকায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে লিটন ভূঁইয়া নিহত হন। মরদেহের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালককে আটক করা হয়েছে।

শাওন খন্দকার শাহিন/তামান্না রুপা/

বরিশালে তরুণদের ঘিরে মাদকের বিস্তার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
বরিশালে তরুণদের ঘিরে মাদকের বিস্তার
প্রতীকী ছবি

বরিশালের তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মাদকের সহজলভ্যতা, বন্ধুমহলের প্রভাব, কৌতূহল, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক হতাশা এবং সহজে অর্থ উপার্জনের প্রবণতার কারণে অনেক কিশোর-তরুণ এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এর প্রভাব ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর অন্তত অর্ধশত স্থানে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি এবং সেবন করা হয়। বিশেষ করে কাউনিয়া, ভাটিখানা, ত্রিশ গোডাউন, বেলস পার্কের হেলিপ্যাড, কেডিসি, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রসুলপুর, পলাশপুর, বেলতলা, লামছড়ি, রূপাতলী, সাগরদী, বাংলাবাজার, ভাটারখাল, স্টেডিয়াম কলোনি, ওয়াপদা কলোনি, কাশিপুর বাজার, চর কাউয়া ও কর্ণকাঠি চৌমাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত এক বছরে চার থানায় ৪৮৭টি মাদক মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ১ হাজার ৯০৭টি মাদক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১ হাজার ৭৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সাতটি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৬৪১ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খান বলেন, ‘মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় নেতাদেরও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও মনোযোগী হতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তাদের অনেকাংশে দূরে রাখা সম্ভব।’

দ্য নিউ লাইফ মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মর্তুজা জুয়েল জানান, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারজন নতুন মাদকাসক্ত চিকিৎসার জন্য তাদের কেন্দ্রে আসেন। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের প্রায় ৯০ শতাংশই তরুণ।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক রোগীর আসক্ত হওয়ার পেছনে আলাদা গল্প রয়েছে। সেই কারণগুলো চিহ্নিত করে কাউন্সেলিং ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এতে আশানুরূপ ফলও মিলছে।’

সেভ দ্য লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন মিঠু জানান, তাদের কেন্দ্রে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের বেশির ভাগই পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকেছেন।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আবাসিক চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ নয়; এটি একটি মানসিক, সামাজিক ও জনস্বাস্থ্যগত সমস্যা। তাই শাস্তির পরিবর্তে ভুক্তভোগীদের বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।’

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. তপন কুমার সাহা বলেন, ‘পারিবারিক, সামাজিকসহ নানা কারণে অনেক তরুণ মানসিক হতাশা, বিষণ্নতা, একাকিত্ব ও সঙ্গ দোষের প্রভাবে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই কেবল আসক্তির চিকিৎসা নয়, একজন ব্যক্তি কেন মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন, সেই কারণও চিহ্নিত করতে হবে। সময়মতো কাউন্সেলিং, থেরাপি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরিবারের সহযোগিতা পেলে অধিকাংশ মাদকাসক্তকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা নগরীকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’

সেতুর বদলে মেলে শুধু আশ্বাস

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
সেতুর বদলে মেলে শুধু আশ্বাস
নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে দেওনাই নদীর ওপর নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল ঠেলে পার হচ্ছেন এক ব্যক্তি। খবরের কাগজ

প্রতিশ্রুতি মিলেছে বহুবার। কিন্তু মেলেনি একটি পাকা সেতু। ফলে নীলফামারীর দেওনাই নদীর ওপর নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকোই এখন ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের বসুনিয়ারডাঙ্গা এলাকায় দেওনাই নদীর ওপর স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেন। সেই থেকে প্রতিবছর পুরোনো বাঁশ বদলে ও সংস্কার করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাঁকোটি টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।

প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এই সাঁকোই এখন সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন ও জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এই সাঁকো না থাকলে নীলফামারী শহরে যেতে প্রায় ২০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। অথচ এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে মাত্র ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েই শহরে পৌঁছানো সম্ভব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসুনিয়ারডাঙ্গা গ্রামের এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল ঠেলে এবং হেঁটে পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক যুগ ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে শুধু আশ্বাস মিলেছে। কিন্তু আজও নির্মাণ হয়নি একটি পাকা সেতু। বর্ষা এলেই বাড়ে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শঙ্কা। এই সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকেই নদীতে পড়ে আহত হন। অনেক সময় মোটরসাইকেল ও কৃষিপণ্যও নদীতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এলাকাবাসী জানান, নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ, কাচারী, শিশাতলী, জংলীপাড়া, দুবাছুরি, বল্লমপাঠ, কচুয়া, দাঁড়িহারা ও রামগঞ্জ এবং জলঢাকা উপজেলার ডিয়াবাড়ী, শিমুলবাড়ীসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করে নীলফামারী জেলা শহর, ডোমার ও জলঢাকা উপজেলায় যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি একমাত্র ভরসা।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। রোগীদের কাঁধে বা পিঠে করে সাঁকো পার করিয়ে অপর পাশ থেকে গাড়িতে তুলতে হয়। উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে কাঁধে করে বহন করতে হয়।

জংলীপাড়ার বাসিন্দা বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘শুকনা মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার করা গেলেও বর্ষায় নদীতে স্রোত বাড়লে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাইনি।’

বসুনিয়ারডাঙ্গা গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই এই এলাকায় সেতুর দাবি শুনে আসছেন। কিন্তু ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি এলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।’

ষাটোর্ধ্ব ধীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় পুরো এলাকা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছে। দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ মোটরসাইকেল আরোহী বিপ্লব রায় বলেন, ‘আমার বাসা নদীর ওই পাড়ে তাই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পার হওয়া যায় না।’
লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন এই সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন। ব্রিজটি হলে হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আমি এলজিইডি অফিসে অনেকবার যোগাযোগ করেছি।’

নীলফামারী স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ কবির হোসেন বলেন, ‘একটি প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই স্থানে একটি সেতু করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি খুব দ্রুত হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে নীলফামারী-২ সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘নীলফামারী সদর আসনের সব কটি ব্রিজ তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ।’ 

কুষ্টিয়ায় পানির অভাবে বিপাকে পাটচাষিরা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
কুষ্টিয়ায় পানির অভাবে বিপাকে পাটচাষিরা
প্রতীকী ছবি।

আষাঢ় মাসের শেষ দিকেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পাটচাষিরা। পানির অভাবে কেটে রাখা পাট সময়মতো জাগ দিতে না পারায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

তারা জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসের খরা কাটিয়ে অনেক কষ্টে তারা পাটের আবাদ করেছেন। এখন পাট কাটার ভরা মৌসুমেও খাল, বিল, নদী-নালা সব শুকিয়ে আছে। কোথাও পাট জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, এ বছর ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৩৩ হেক্টর বেশি। ফলনও হয়েছে ভালো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাট কাটার মৌসুম চলছে। কৃষকরা পাট কেটে মাঠে স্তূপ করে রেখেছেন। রোদ আর গরমে পাটগাছ শুকিয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে, যা আঁশের গুণগত মান কমিয়ে দেবে। ফলে বাজারে পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তারা।

স্থানীয় কৃষক সুনীল মন্ডল বলেন, ‘পরের জমি বর্গা নিয়ে পাটের আবাদ করেছি। পাট দেখতে সুন্দর হয়েছে।’ আব্দুস সাত্তার নামে ওই এলাকার আরেক কৃষক বলেন, ‘পাট জাগ (পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা) দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই। খরচের তুলনায় পাটের দাম ও ফলন নিয়ে শঙ্কিত আছি।’ একই দাবি করেন ওই এলাকার কৃষক আনন্দ কুমার।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে ‘রিবন রেটিং’ বা ছালকরণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল ছাড়িয়ে ছোট চৌবাচ্চা বা পলিথিন বিছানো গর্তে অল্প পানিতেই পচানো সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চাষিদের প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে এসে বিকল্প উপায়ে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। খোকসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।

সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার রশিদপুর গ্রামে পারিবারিক সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে নজরুল ইসলাম (৭০) নামে এক সালিশদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তারই নাতি আশিকের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলার নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর  গ্রামের হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসায় শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফারুকের চাচা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

সালিশ চলাকালে আয়েশা বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আয়েশা মোবাইল ফোনে ঢাকায় অবস্থানরত ছেলে আশিককে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আশিক এলাকায় এসে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি নজরুল ইসলামের বাম হাতের কব্জির ওপর বিদ্ধ হয়। ঘটনার পর থেকেই আশিক পলাতক রয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত আশিকের বাবা ইসমাইল হোসেন ফারুক বলেন, “আমার ছেলে আশিক আমার চাচাকে গুলি করেছে। সে ঢাকায় ছিল। তার মা তাকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনেছে। এখন সে আমাকেও গুলি করার হুমকি দিচ্ছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ভাতিজা ফারুক আমাকে সালিশে ডেকে নিয়েছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে ফারুকের স্ত্রী আয়েশা বেগম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি কারও কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সন্ধ্যায় আশিক বাড়িতে এসে আকস্মিক আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শামীম মোহাম্মদ আফজাল সাংবাদিকদের জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক্স-রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে শরীরে গুলি রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/এসএন