কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ। গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) তারা শহরটি দখলের রাশিয়ার দাবি সরাসরি নাকচ করেন।
রাশিয়ার সেনাবাহিনী গত শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানায়, তাদের বাহিনী কোস্তিয়ান্তিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে মস্কো।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘অবশ্যই এটি সত্য নয়। এটি রাশিয়ার আরেকটি মিথ্যা এবং কৃত্রিমভাবে একটি সংবাদ তৈরির চেষ্টা।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোস্তিয়ান্তিনিভকা সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাহলে হয়তো সেখানে এসে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে পুতিনের কোনো আপত্তি থাকত না।’
ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জেনারেল স্টাফও এক বিবৃতিতে জানায়, কোস্তিয়ান্তিনিভকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইস্টার্ন গ্রুপিংয়ের ১৯তম আর্মি কোরের বিভিন্ন ইউনিট শহরের ভেতর এবং এর প্রবেশপথে নির্ধারিত প্রতিরক্ষা অবস্থানে থেকে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের চারটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত কোস্তিয়ান্তিনিভকা। শিল্পসমৃদ্ধ দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই শহরগুলোকে ঘিরেই ইউক্রেনের প্রধান প্রতিরক্ষা লাইন গড়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখল করতে পারলে রুশ বাহিনী উত্তর দিকে এই প্রতিরক্ষা বেষ্টনী বরাবর আরও অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবে। তাদের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য এটিই।
গত কিছুদিন ধরেই রাশিয়া দাবি করে আসছে, তারা কোস্তিয়ান্তিনিভকার কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শহরটি দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের বহুল আলোচিত ও সুরক্ষিত ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’-এর অন্যতম প্রধান নগরী।সূত্র: রয়টার্স