যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই দেশটির রাজধানীজুড়ে ধারাবাহিক মিছিলের আয়োজন করেছে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী 'প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট'-এর সদস্যরা। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই সাদা কাপড়ের মাস্ক এবং সানগ্লাস পরে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, খাকি প্যান্ট, খাকি বেসবল ক্যাপ এবং গাঢ় নীল শার্ট পরা পুরুষদের সারি ওয়াশিংটন ডিসির ভূগর্ভস্থ রেল ব্যবহার করছেন। বিক্ষোভকারীদের রাজধানী-সংলগ্ন এলাকার রাস্তায় সুশৃঙ্খলভাবে মার্চ করতে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু অংশ সরাসরি ইউএস ক্যাপিটল ভবনের সামনেও জড়ো হয়।
মিছিলকারীদের হাতে মার্কিন পতাকা, ড্রাম এবং ঢাল ছিল; কারও কারও হাতে কনফেডারেট পতাকাও দেখা গেছে- যা কেউ কেউ দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহ্যের প্রতীক মনে করলেও অধিকাংশ মানুষই একে বর্ণবাদী ঘৃণা ও দাসপ্রথার প্রতীক হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়ে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ৪ জুলাইয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে ৪০০-রও বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নেবেন বলে আশা করা হয়েছিল। তারা ড্রামের তালে তালে 'আমেরিকাকে পুনরুদ্ধার করো' স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সংগঠনটির ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবেই 'ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত' ব্যক্তিদের তাদের 'সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার অধিকার' প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির 'প্রোগ্রাম অন এক্সট্রিমিজম'-এর বিশেষজ্ঞরা প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টকে একটি ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্য একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
এই মিছিলের ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প 'গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরির (একটি ভিত্তিহীন বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, যেখানে দাবি করা হয় শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানদের সরিয়ে সংখ্যালঘুদের স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে) মতো বক্তব্যের প্রচার ঘটিয়ে এই ধরনের উগ্রপন্থি দলগুলোকে উৎসাহিত করছেন।
২০১৭ সালের আগস্টে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে সহিংস 'ইউনাইট দ্য রাইট' সমাবেশের পর এই প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট গঠিত হয়। ওই সমাবেশে এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারী হেদার হায়ারকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করেছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই ঘটনার পর 'উভয় পক্ষেই খুব ভালো মানুষ ছিল' বলে মন্তব্য করে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েছিলেন।
শনিবারের এই বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এড মার্কি সরকারি কর্মকর্তাদের এই দলটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কি লিখেছেন, 'আমাদের দেশের রাজধানীতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিলের মুখে আমরা চুপ থাকতে পারি না। ম্যাসাচুসেটস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি- কোথাও ঘৃণা ও ধর্মান্ধতার কোনো স্থান নেই। সূত্র: আল জাজিরা
আজহার/