দেশের সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি বড় অংশই ঘটছে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে। গেল জুন মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৫৪ শতাংশের বেশি ঘটেছে এই দুই ধরনের সড়কে। আর পুরো মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন।
রবিবার (৫ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক প্রতিবেদনে জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার এই চিত্র পাওয়া এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে মহাসড়কের চেয়ে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনার প্রবণতা বেশি ছিল। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯৪টি (৪১ দশমিক ১০ শতাংশ) ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া গ্রামীণ সড়কে ঘটেছে ৬৪টি (১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ)। অর্থাৎ, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কেই ঘটেছে মোট দুর্ঘটনার ৫৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অন্যদিকে জাতীয় মহাসড়কে ১৫১টি (৩২ শতাংশ), শহরের সড়কে ৫৭টি (১২ দশমিক ০৭ শতাংশ) এবং অন্যান্য স্থানে ৬টি (১ দশমিক ২৭ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, মাসজুড়ে দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮ জনের মধ্যে ৪৪ জন নারী এবং ৫৬ জন শিশু রয়েছেন। বরাবরের মতোই প্রাণহানির একটি বড় কারণ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া ৯১ জন পথচারী এবং ৫৭ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতের তালিকায় মোটরসাইকেলের পরেই রয়েছে থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা)। এসব যানবাহনের ১১২ জন যাত্রী (২৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ) নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাসের যাত্রী ২৭ জন এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপের ৩৭ জন আরোহী মারা গেছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। একক শহর হিসেবে রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত ৭১৩টি যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল (১৫৭টি) এবং থ্রি-হুইলার (১৪১টি)। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ২৩ দশমিক ০৯ শতাংশ।
সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা, এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণের সুপারিশ করেছে তারা।
সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়াও জুন মাসে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন এবং ২১টি রেল ট্র্যাকে দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জয়ন্ত সাহা/তামান্না রুপা/