ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
নারীর জীবনে এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার ধেয়ে আসছে নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী লাখো মানুষের ‘কষ্টের দৈর্ঘ্য’ ১৬ কিলোমিটার আমরাও হাত নোংরা করতে জানি: এমবাপ্পে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন চবিতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সামান্তা-পুলক হালান্ডকে আটকানোর কৌশল জানা আছে ব্রাজিলের হাঁড়িভাঙা আমের দেশে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন: ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণে ট্রপিক্যাল হোমস-বার্জার পেইন্টসের চুক্তি সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন ‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেকুয়ায় অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ বিএনপির মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা

পোলাওয়ের চালের দামে নৈরাজ্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

পোলাওয়ের চালে অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় ভোক্তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। সম্প্রতি খবরের কাগজের বাজারদর তদারকিতে পণ্যটির কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতির জন্য মিলমালিক, করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করছেন। কিছু শিল্পগ্রুপ ও মিলমালিক মিলে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে পণ্যটির বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এর প্রভাব এখন বাজারে পড়ছে। অন্যদিকে করপোরেট গ্রুপের মালিকরা সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। তারা বলছেন, সরকার রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। তাই সব চাল রপ্তানি হয়েছে। চিনিগুঁড়া চালের উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়। তাই এই চাল রপ্তানিতে অনেক সময় সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাঝে মাঝে বছরে এক থেকে দুবার নির্ধারিত পরিমাণ চিনিগুঁড়া চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়। বিদেশে এ চালের ভালো চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ায় এই চালের চাহিদা বেশি। তারা বলছেন, করপোরেটদের হাতে চালের বাজার যায়নি। পুরো বাজারে ২ থেকে ৩ শতাংশ চাল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। বাংলাদেশের চালের বাজারে কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে। লাইসেন্সিং, রিপোর্টিংয়ের ইস্যু আছে। খাদ্য অধিদপ্তরকে সবকিছুর হিসাব দিতে হয়।

অন্যদিকে খুচরা চাল বিক্রেতা ও রাইস মিলমালিকরাও চিনিগুঁড়া চালের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় অবাক হয়েছেন। তাদের অভিযোগ করপোরেটরা প্যাকেটজাত করে ভালো মানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে চরম নৈরাজ্য চলছে। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি চায় ক্যাব। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার এ সংগঠনটির নেতারা।

কোরবানির ঈদের পর থেকে চিনিগুঁড়া চালের দাম বাড়ছে। আকিজ, স্কয়ার, প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির এই প্যাকেটজাত চাল ১৯০ টাকা ও বস্তার চাল ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম আরও বেড়ে ২১০ টাকা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন কারওয়ান বাজার ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দিনাজপুর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পোলাওয়ের ধান বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে না। ধানের দাম বাড়েনি। কয়েক মাস আগে কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা মণ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, যেভাবে চালের দাম বাড়ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। করপোরেট প্যাকেটজাতের নামে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছে। এটা হতে পারে না। বেশি দাম নেওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে। সেটা মনে রাখতে হবে। বাজার কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই। লুটপাট শুরু হয়েছে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বে যারা আছেন তারা কী করছেন?

পোলাওয়ের চালের দামে নৈরাজ্য ভাঙতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাজারে শক্তিশালী করপোরেট সিন্ডিকেটের বিষয়ে যে অভিযোগ এসেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকার বাজার তদারকি না করলে সমস্যা আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এ ছাড়া কৃষক পর্যায়ে ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে; যাতে ভোক্তারা কম দামে চাল কিনতে পারেন। আশা করছি, সরকার চালের নৈরাজ্য ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে।

বর্ষার আগেই বিপৎসংকেত জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন

রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক দিন সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অলি-গলিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলজটে কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, আবার কোথাও হাঁটুসমান পানিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন নগরবাসী। পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত বর্জ্যব্যবস্থাপনাকে দায়ী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাপ্ত হিসাব মতে, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ উৎপন্ন হয়, এর প্রায় ১৫ শতাংশই প্লাস্টিকজাত। এসব প্লাস্টিক, পলিথিন অন্য বর্জ্যের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত গিয়ে জমা হয় ড্রেন, নালা খালে। ফলে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে। অনেক স্থানে ড্রেনের অস্তিত্ব থাকলেও পলি ময়লার স্তূপে সেগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গত দেড় দশকে একের পর এক প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানির নিচে তলিয়ে যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু খাল খনন বা ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ঢাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার পুরো শৃঙ্খলই বিভিন্ন স্থানে বাধাগ্রস্ত। সড়কের ক্যাচপিট থেকে শুরু করে ড্রেন, খাল, স্লুইসগেট, পাম্প স্টেশন এবং নদীতে পানি প্রবাহের প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। কোথাও অবৈধ দখল, কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, আবার কোথাও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পুরো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে। ফলে একটি অংশ সংস্কার করা হলেও অন্য অংশের সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষেত্রে নগরপরিকল্পনাবিদ   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার কারণ শুধু অবকাঠামোগত দুর্বলতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বয়হীন ব্যবস্থাপনা।

পরিকল্পনাবিদ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক . আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, ঢাকায় সম্প্রতি মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বর্ষা মৌসুমে ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত আমাদের দেশের জন্য স্বাভাবিক। সাধারণ বৃষ্টিতেই নগরজীবন অচল হয়ে পড়া প্রমাণ করে, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো সমন্বিত কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ওয়াসার প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান সিটি করপোরেশনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর আর হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়হীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। টেকসই সমাধানের জন্য আধুনিক মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিতে খাল সংস্কার, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। তাই এসব প্রকল্পের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে কারা দায়ী সেসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে জবাবদিহি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। তা না হলে জনগণের অর্থের অপচয় চলতে থাকবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে ধরনের জলাবদ্ধতা রাজধানীবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে টেকসই দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে। আশা করছি, সরকার একটি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে

দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নিয়মিত অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলার পরও থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। শহর থেকে গ্রামে- সবখানেই ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিল সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এই মরণ নেশায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছে কিশোর ও তরুণরা। ফলে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক অস্থিরতা। মূলত সীমান্তঘেঁষা অবস্থান, পাচারের সহজ রুট আর দুর্বল সামাজিক প্রতিরোধের সুযোগ নিয়ে গোটা সীমান্তবর্তী জেলা মাদকের ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত বাহক ও খুচরা কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও পাচারকারী চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বড় একটি অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ফলে সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও থামছে না পাচার, বরং নতুন নতুন রুট ও কৌশলে বিস্তৃত হচ্ছে অবৈধ এই নেটওয়ার্ক।

তথ্যমতে, গত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১৮ হাজার ২১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বন্ধ না হওয়ার নেপথ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ কারণের কথা উল্লেখ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, মাদকের প্রবল চাহিদা ও সহজলভ্যতা, ভৌগোলিক ট্রানজিট, গডফাদাররা অধরা থাকা, সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকের বিস্তার ও অপকৌশল, আইনি ফাঁকফোকর এবং পুনর্বাসনের অভাব থেকেই সমাজে মাদকের ব্যাপক বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। মাদক মামলার আসামিরা সহজেই আইনি সুযোগ নিয়ে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ খবরের কাগজকে বলেন, মাদক আইনের মামলার ক্ষেত্রে অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা খুব জরুরি। রাজধানী ঢাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, রাজধানীর চারপাশের এলাকাগুলো এবং নিম্ন আয়ের বসতি বা বস্তি-মহল্লাগুলোয় মাদক তৎপরতা ভয়ানক রূপ নিয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, দেশে মাদকের আগ্রাসন তীব্র হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেমন এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে, তেমনি পরিবার ও সমাজেরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রথম নিয়ন্ত্রণটা পরিবার ও সমাজ থেকে আসা জরুরি।

মাদক নির্মূলে সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রুখতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোতে হবে সরকারকে। পরিবারের অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের নেতৃস্থানীয় সবাইকে এ ব্যাপারে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্বার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা চলছে, যার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। এরই মধ্যে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে অসন্তুষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমএফ। এনবিআরের কাছে ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। রাজস্ব আদায়ের এ ঘাটতিতে ঋণচুক্তি নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষি শুরু করতে পারে আইএমএফ–এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী মাসের মাঝামাঝি আইএমএফের একটি প্রাক-মিশন ঢাকা সফরে আসবে। সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন আলোচনায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভ্যাট সংস্কার, করছাড় কমানো এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন গুরুত্ব পাবে।  গত সোমবার জাতীয় সংসদে বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হয়নি; বরং পূর্ববর্তী সরকার এমন কিছু শর্তে ঋণ নিতে সম্মত হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি ছিল। এ কারণে বর্তমান সরকার ওই কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইএমএফের শর্ত মেনে সরকারকে এ ঋণ নিতে হবে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে অন্যতম শর্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। রাজস্ব জিডিপির হার আগের থেকে কমেছে। চলতি অর্থবছর শেষে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৮৮ হাজার কোটি টাকা। আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নিম্ন রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতকে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ভবিষ্যতে ঋণচুক্তি নিয়ে সংস্থাটি আরও কঠোর হতে পারে। 
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত ১১ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, ঘাটতির হার ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। 
লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এনবিআরকে শেষ মাসে (জুন) চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে আদায় করা রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ আয় করতে হবে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪১ শতাংশ বেশি। চলতি জুনে আরও ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার কথা থাকলেও এনবিআর তা পারেনি। জুনের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। সে হিসাবে ২০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। গত ২৯ জুন পর্যন্ত আদায়ের পর সাময়িক হিসাবে ঘাটতি প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামষ্টিক অর্থনীতির পুনর্গঠন, চরম মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগের নেতিবাচক ধারা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে রাজস্ব আদায়ে ধস দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেও আদায়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি। এমন অবস্থায় আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছি। অর্থনীতির এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ১১ মাসের মতো শেষ মাসে অর্থাৎ জুনে ১০ শতাংশ রাজস্ব আদায় বেশি হলেও রাজস্ব ঘাটতি থাকবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।

দেশে রাজস্ব আদায়ের জন্য বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ জরুরি। সাধারণত এনবিআর তিনটি খাত থেকে রাজস্ব আদায় করে থাকে। এগুলো হলো আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর। এগুলো নিয়মিত পরিসরে আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয় করে থাকে। বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এনবিআরকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। এক কথায় এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান এনবিআরের যে জনবল এবং দক্ষতার অভাব রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। কর ব্যবস্থাপনা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অর্থনীতিবিদদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি কমিয়ে আনা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অপরাধ থামাতে পুলিশকে কঠোর হতে হবে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
অপরাধ থামাতে পুলিশকে কঠোর হতে হবে

দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গতি না থাকায় খুন, জখম, অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, জনসমক্ষে ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। শুধু পেশাদার অপরাধী বা আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীদের মধ্যে এসব সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক কোন্দল এবং অস্থিরতার কারণেও এ ধরনের নৃশংস ও নির্মম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। দেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, প্রায় সব ধরনের অপরাধী এখন অনেকটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। প্রকাশ্যে খুন-জখম করতেও তারা দ্বিধা করছে না। আসামি ধরতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। কে কখন কোথায় কীভাবে এ ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবেন, সেই দুশ্চিন্তা তাড়া করছে রাজধানীবাসীসহ শহর-নগরাঞ্চলের মানুষকে। মাঠপর্যায়ে কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও পেশাদার সন্ত্রাসী চক্র পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আবার অনেক আসামি জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে যুক্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

পুলিশের মধ্যে একধরনের শৈথিল্য ভাব আর এর সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ঘটনা গণমাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় হয় না। ফলে পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী চক্র একের পর এক ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো একটা অপরাধের ঘটনা ঘটলে মূল পরিকল্পনাকারী বা নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। অনেক সময় মূল পরিকল্পনাকারীরা দেশের বাইরে অবস্থান করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মাঠপর্যায়ে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করলেও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থাপনের মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যায় না। ফলে মূল নির্দেশদাতারা আড়ালেই থেকে যায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত পাঁচ মাসে সারা দেশে খুন হয়েছেন ১ হাজার ৪৪৪ জন। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৪৩৭টি। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৯১০টি। ২৬৮ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। 
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সারা দেশে রাজনৈতিক হত্যার শিকার হয়েছেন ৫৫ জন, আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩৬ জন। নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৩৯ জন। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ৬৮ জন ও ধর্ষণের শিকার হন ২৭১ জন। ধর্ষণসংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ঘটে ২৮টি এবং ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন ৮৫ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার নেপথ্যে সাধারণত বাহিনীর শিথিলতা বা দুর্বল তৎপরতার বিষয়গুলোই সামনে আসে। যদিও সেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা প্রেক্ষাপটের দায় থাকে। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অপরাধীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এ সময় পুলিশও একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাজ করে গেছে। সেদিক থেকে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাবও পুলিশকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে বা করছে। দেশে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাই পুলিশকে অপরাধ দমনে শক্তভাবে হাল ধরতে হবে। পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। আইনের মধ্য থেকে যেখানে যে ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, ঠিক তেমনটাই করতে হবে। 
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শিথিলতায় দেশে অপরাধ থামছে না। পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় করতে হবে। পেশাদার অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অপরাধ থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের যৌথ ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত সংলাপ চালুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বাড়বে।  তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় বেইজিংয়ের ডিরেক্ট কানেকটিভিটি বা সরাসরি সংযোগের প্রস্তাব। বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তুলতে চায় বেইজিং। এই করিডরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো এবং বহুমুখী পরিবহনব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করা। এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় ও সময় কমবে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাও রয়েছে। এই সফরের ফলে সেই সহযোগিতাগুলো নতুন মাত্রা পাবে। নতুন নতুন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়বে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ উদ্যোগের আওতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মায়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। মায়ানমারের ওপর দিয়ে এই সংযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ সরাসরি যুক্ত হবে চীনের মূল অর্থনীতি এবং আসিয়ান জোটের শক্তিশালী বাজারগুলোর সঙ্গে।

চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডর প্রস্তাবের বিষয়ে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক বৃহৎ কানেকটিভিটি। অর্থনৈতিক কানেকটিভিটিকে কাজে লাগানোর উপায় নিয়ে আগে থেকে ভাবতে হবে। এর সঙ্গে মায়ানমারের রাখাইনের অর্থনৈতিক উন্নয়নও জড়িত। এটি হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, সেগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার, তাহলে সফরকে ইতিবাচক বলা যাবে। আর যদি অন্য পরাশক্তির চাপে বাস্তবায়ন না করতে পারে, তাহলে সফরকে ইতিবাচক বলার সুযোগ নেই। এখানে চীন দেখার চেষ্টা করছে, বাংলাদেশ সরকার এসব চুক্তি বাস্তবায়ন করতে কতটা সক্ষম। বাংলাদেশ সরকার যদি সেই সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই সফর কতটা সফল বা ব্যর্থ, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে; তেমনি বিশেষজ্ঞ পর্যায়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই সফরে ঢাকা-বেইজিং কতটা কাছাকাছি এল বা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ হলো, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। বাংলাদেশকে এ নিয়ে নেতৃত্বের দক্ষতা ও সক্ষমতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চলতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, কূটনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ কাজে লাগানো যেতে পারে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা করতে পারে সরকার। ইতোপূর্বে ভারতের করিডর ব্যবহার করে নেপালে পণ্য পরিবহনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে তাদের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় হোক, সেটিই প্রত্যাশা।