বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে পরাজয়ের পরও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ও গর্বিত কোচ গুস্তাভো আলফারো। তার মতে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘সিংহের মতো’ লড়াই করেছে।
ম্যাচ শেষে আলফারো বলেন, ‘ফ্রান্স আমাদের রক্ষণভাগ ভাঙার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং ভিএআরের মাধ্যমে পাওয়া একটি পেনাল্টিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। স্বাভাবিক খেলায় তারা আমাদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।’
ম্যাচের ৭০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স, যারা কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে।
২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই ছিল দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য। এবারও সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখলেও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
পুরো ম্যাচে প্যারাগুয়ের শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল ফ্রান্সকে চাপে রাখে। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে একাধিকবার প্রতিপক্ষের কঠোর মার্কিংয়ের মুখে পড়েন। এদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে মৌখিক কটূক্তির অভিযোগ তুললেও আলফারো তা গুরুত্ব দেননি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বকাপে ফিরতে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অন্যদিকে এমবাপ্পে প্রথম বিশ্বকাপেই শিরোপা জিতেছে, দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলেছে এবং এবারও সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে রয়েছে। তারপরও আমার খেলোয়াড়রা কোনো ভয় না পেয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে।’
আলফারোর বিশ্বাস, ‘এই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে প্যারাগুয়ের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। তার ভাষায়, বিদায় অবশ্যই কষ্টের, কিন্তু এই টুর্নামেন্ট আমাদের ফুটবলের জন্য বড় শিক্ষা এবং অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
পাপ্পু/অনিক/