ভারতের প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী এবং পাণ্ডবাণী ধারার কিংবদন্তি তীজন বাঈ মারা গেছেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর রবিবার (৫ জুলাই) রায়পুরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নন্দিত এই শিল্পী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এর আগে গত ২৭ মে শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। এরপর থেকে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তীজন বাঈর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রখ্যাত পাণ্ডবাণী শিল্পী তীজন বাঈ তার অনন্য পরিবেশনার মাধ্যমে ছত্তীসগড়ের এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিলেন। তার মৃত্যু শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইও এই কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
পাণ্ডবাণী লোকগানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন তীজন বাঈ। ছত্তীসগড়ের এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পকে নিজের অসাধারণ কণ্ঠ, অভিনয়শৈলী এবং পরিবেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেন তিনি। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণ—দেশের তিনটি মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত করে। এই শিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় সংগীতাঙ্গণে।