ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চীনের অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচে কে এই মুসলিম রেফারি? বিশ্বকাপ কাঁপানো ভোজিনহাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি! নিরাপত্তা যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না সরায়: প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সামনে ভাত বিক্রি, আটক সোহানী শিফা আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে শোক জানিয়েছে বাংলা একাডেমি ও ঢাবি হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে ফিরছে ‘বাংলার রসনা বিলাস ২.০’ ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০ ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচেও ব্রাজিলের জয় দেখছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু ব্রাজিলই ফেভারিট: নরওয়ে কোচ প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী তীজন বাঈ আর নেই নরসিংদীতে ইয়াবাসহ যুবদলের সাবেক সভাপতির ছেলে আটক হালান্ড-গ্যাব্রিয়েল দ্বৈরথ এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র পটিয়ায় মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার মাঠের লড়াই শেষে কথার লড়াই, বিতর্কে এমবাপ্পে জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি কতটুকু পূরণ করবে? রাঙামাটিতে সাবেক চেয়ারম্যানসহ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার যুদ্ধাপরাধ এবং স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতি ছিনতাইয়ের অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু হাতে কামড় দিয়ে বখাটের কবল থেকে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী আমের নাম যেভাবে এল শাবিপ্রবির আশরাফুলের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৬০ লাখ টাকা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র সিলেটে দেশের প্রথম থানা ভিত্তিক ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ উদ্বোধন

আমল ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, প্রতিদিন সকালে এই সুস্থতার জন্য আমাদের কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সাদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সাদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সাদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদকা, আল্লাহু আকবর বলা সাদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সাদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সাদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়।

যান্ত্রিক জীবনে একটু সময় বের করে এই আমলটি করলে একদিকে যেমন সুন্নতের অনুসরণ হয়, অন্যদিকে সারা দিনের কাজের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। তাই সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আমল ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, প্রতিদিন সকালে এই সুস্থতার জন্য আমাদের কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সাদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সাদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সাদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদকা, আল্লাহু আকবর বলা সাদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সাদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সাদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়।

যান্ত্রিক জীবনে একটু সময় বের করে এই আমলটি করলে একদিকে যেমন সুন্নতের অনুসরণ হয়, অন্যদিকে সারা দিনের কাজের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। তাই সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়–কেউ নতুন ফ্যাশনের অংশ হিসেবে, কেউ আবার দুঃখ বা মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলছেন। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা আধুনিকতার প্রকাশ মনে করেন। কিন্তু একজন মুসলিম নারীর জীবনে কি এ সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান?

ইসলাম নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো তার চুল। এ কারণেই অধিকাংশ ইসলা ফকিহ নারীদের মাথা মুণ্ডন বা সম্পূর্ণ টাক করাকে বৈধ মনে করেননি।

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন। যদিও এ বর্ণনাটি দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত, তবু এর অর্থকে সমর্থন করে ইসলামের অন্যান্য দলিল ও ফকিহদের মতামত রয়েছে। এ কারণেই হজ বা উমরার সময়ও নারীরা মাথা মুণ্ডন করেন না; বরং চুলের অগ্রভাগ থেকে সামান্য অংশ কাটেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৮৫)

অন্যদিকে, শোক বা বিপদের কারণে চুল মুণ্ডন করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছেন যে, উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারিণী, কাপড় বিদীর্ণকারিণী এবং মাথা মুণ্ডনকারিণীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪০)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করে। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪১)
এ ছাড়া নারীদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পোশাক-আশাক, চালচলন কিংবা চুলের ধরনে পুরুষদের অনুকরণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের ওপর লা‘নত করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৭০)

অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যচর্চা, শোক প্রকাশ কিংবা নিছক ফ্যাশনের কারণে নারীদের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলা বা টাক করা জায়েজ নয়। একজন মুমিন নারীর জন্য আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যই প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সেই সৌন্দর্যই তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প—০৩ ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার তপ্ত প্রান্তর। একটি অসহায় পরিবারকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে মাখজুম গোত্রের নির্যাতকরা। বৃদ্ধ বাবা ইয়াসির, মা সুমাইয়া, তরুণ ছেলে আম্মার। তাদের ‘অপরাধ’–তারা এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছেন। গোত্রহীন, প্রভাবহীন, দরিদ্র এই পরিবারকে রক্ষা করার মতো দুনিয়ায় কেউ নেই।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু সেই মুহূর্তে নির্যাতন থামানোর সাধ্য তার নেই। তিনি যা দিতে পারেন তা পৃথিবীর যেকোনো সম্পদের চেয়ে দামি–একটি প্রতিশ্রুতি: ‘সবর করো, হে ইয়াসির পরিবার! তোমাদের প্রতিশ্রুত ঠিকানা জান্নাত।’ (মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস ৫৬৪৬; ইমাম হাকিম বর্ণনাটিকে সহিহ বলেছেন, ইমাম জাহাবি তা সমর্থন করেছেন)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণাকারী প্রথম সাতজনের মধ্যে ছিলেন আম্মার ও তার মা সুমাইয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৫০)। বুড়ো বয়সের সেই মাকে আবু জাহেল ভয় দেখাল, প্রলোভন দিল, নির্যাতন করল। সুমাইয়া অটল। শেষ পর্যন্ত পাষণ্ড আবু জাহেল বর্শা দিয়ে আঘাত করে তাকে শহিদ করে দিল। বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকে ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, ‘আম্মারের মা সুমাইয়া ইসলামের প্রথম শহিদ।’ (তাবাকাতে ইবনে সাদ–ঐতিহাসিক বর্ণনা)

ভেবে দেখুন, ইসলামের ইতিহাসে শাহাদাতের যে মিছিল, তার প্রথম পতাকাটি আল্লাহ তুলে দিলেন একজন নারীর হাতে। একজন দাসী, একজন বৃদ্ধা, একজন মা। দুনিয়ার চোখে যিনি ছিলেন ‘সবচেয়ে দুর্বল’, আল্লাহর দরবারে তিনিই হলেন অগ্রগামী।

আজ আমরা সামান্য সমালোচনার ভয়ে হিজাব নিয়ে সংকোচ করি, নামাজ নিয়ে লজ্জা পাই, হক কথা বলতে দ্বিধা করি। সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাদের প্রশ্ন করেন–তোমার ঈমানের মূল্য কত? তার কাছে এর মূল্য ছিল জীবনের চেয়ে বেশি। হে আল্লাহ! সুমাইয়ার উত্তরসূরি আমাদের মা-বোনদের ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন, আর আমাদের সবাইকে দ্বীনের জন্য ত্যাগের তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 আজ ৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.মিনিট

আসর

.৪৩ মিনিট

মাগরিব

.৫৪ মিনিট

এশা

.২০ মিনিট

ফজর (৬ জুলাই)

.৫০ মিনিট

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন এক অদ্ভুত একাকিত্ব আর অজানা ভয় আমাদের ঘিরে ধরে। শুধু রাতের অন্ধকারই নয়, জীবনের নানা টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আর চারপাশের নেতিবাচকতা আমাদের প্রতিনিয়ত মানসিক অশান্তিতে রাখে। আমরা এমন এক পরম আশ্রয়ের খোঁজ করি, যিনি কখনো আমাদের ছেড়ে যাবেন না, যার কোনো ক্লান্তি নেই। সৃষ্টির এমনই এক চিরন্তন সত্য আর পরম নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত–আয়াতুল কুরসি (সুরা আল-বাকারাহ, ২৫৫)।

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ও মানসিক অস্থিরতার মাঝে এ আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা কেউ একা নই; এক মহাসত্তা প্রতিক্ষণ আমাদের দেখভাল করছেন। আয়াতে আল্লাহকে আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম বা চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী সত্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার সবকিছুর শেষ আছে, কিন্তু তিনি অবিনশ্বর। সবচেয়ে বড় আশার বাণী হলো, তাকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। যখন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে, তখনো মহাবিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী আমাদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টের খবর রাখেন।

আসমান ও জমিনের সবকিছু তারই মালিকানাধীন। মানুষ নিজের চেষ্টায় আল্লাহর জ্ঞানের বিন্দুমাত্রও আয়ত্ত করতে পারে না, যতক্ষণ না তিনি নিজে ইচ্ছা করেন। তার কুরসি বা ক্ষমতা ও সাম্রাজ্য পুরো আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। এত বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালনা ও হেফাজত করা তাকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত বা বিচলিত করে না। তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ও মহান। রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন (মুসলিম)।

সাহাবি উবাই বিন কাব, আবু আইয়ুব আনসারি ও আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, মানুষের কুচক্র, দুষ্ট জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এই আয়াত।

বাস্তব জীবনে এর দুটি বিশেষ আমল আমাদের সুরক্ষা দেয়–

১. ঘুমানোর আগে এটি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সুরক্ষাকারী ফেরেশতা নিযুক্ত হন, যা সকাল পর্যন্ত সব ধরনের অপশক্তির ভয় দূর করে (বুখারি)।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না (সিলসিলাহ সহিহাহ)।

লেখক: চেয়ারম্যান, ক্যারিয়ার আপ অ্যাকাডেমি