বিশ্বমঞ্চে আবারও আগুন ঝরাতে প্রস্তুত দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। একপাশে গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড, অন্য পাশে ব্রাজিলের রক্ষণদুর্গ গ্যাব্রিয়েল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বহুবার উত্তাপ ছড়ানো এই দ্বৈরথ এবার গড়াচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ-বিশ্বকাপে। তাই শেষ ষোলোর ব্রাজিল–নরওয়ে লড়াই শুধু দুই দলের নয়, কোটি দর্শকের চোখ থাকবে দুই তারকার ব্যক্তিগত লড়াইয়েও।
চলমান বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর বিপক্ষে।
সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্রিস সাটনের মতে, চলতি বিশ্বকাপে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াই। তার ভাষ্যে, ‘মেসি, এমবাপ্পে, কেইন কিংবা হালান্ডের মতো তারকাদের গোলের লড়াই আমরা দেখেছি। কিন্তু মাঠের ভেতর এমন ব্যক্তিগত দ্বৈরথ অনেক দিন দেখা যায়নি। এই লড়াই ম্যাচের ফল নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও একই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুজনের মধ্যেই প্রবল জেদ রয়েছে। তারা একে অপরকে পছন্দ করে না, আর সেটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।’
ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ একটি বিরল পরিসংখ্যান। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ইতিহাসে এখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি। দুই দলের চার দেখায় দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং বাকি দুটি জিতেছে নরওয়ে। ফলে ইতিহাস বদলের চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামবে সেলেকাওরা।
যেভাবে শুরু হালান্ড–গ্যাব্রিয়েল দ্বন্দ্ব
হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের উত্তপ্ত সম্পর্কের সূচনা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের ম্যাচে। নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার পর ম্যাচ শেষে হালান্ড বল ছুড়ে মারেন গ্যাব্রিয়েলের মাথার দিকে। পরে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাকে উদ্দেশ করে ‘স্টে হাম্বল’ মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।
এর জবাব আসে কয়েক মাস পর। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৫–১ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচে গোল উদযাপনের সময় হালান্ডের মুখের সামনে গিয়ে চিৎকার করেন গ্যাব্রিয়েল। পরে তিনি জানান, আগের ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই এমনটি করেছিলেন।
এরপরও থামেনি উত্তেজনা। মাঠে একাধিকবার বাকবিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়েছেন দুজন। এমনকি গোল উদযাপন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বার্তা দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তারা।
সব মিলিয়ে ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচটি কেবল শেষ ষোলোর আরেকটি লড়াই নয়। এটি হতে যাচ্ছে হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের বহুল আলোচিত ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়। বিশ্বকাপের আলোয় এই দ্বৈরথ কতটা উত্তাপ ছড়ায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
পাপ্পু/রিফাত/