বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাতে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে তারা এগিয়ে থাকলেও প্যারাগুয়ের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙা সহজ হয়নি। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি ফরাসিরা, ফলে বিরতিতে ম্যাচ থাকে গোলশূন্য।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই চাপ বাড়ায় ফ্রান্স। ৫১ মিনিটে বল পেয়ে দারুণ গতিতে ছুটে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলেও এগিয়ে যান তিনি। তবে বল নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গতি কমাতেই সময়মতো ট্যাকল করে প্যারাগুয়েকে বিপদমুক্ত করেন হুয়ান কাসেরেস। শেষ পর্যন্ত কর্নার আদায় করে নেয় ফ্রান্স। দ্রুত কর্নার নিলেও সেখান থেকে সুবিধা করতে পারেনি তারা।
এরপর ৫৫ মিনিটে দূরপাল্লা থেকে জোরালো শটে গোলের চেষ্টা করেন মানু কোনে। তবে দারুণ নৈপুণ্যে সেটি ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৫ মিনিটে। প্যারাগুয়ের তিন ডিফেন্ডারকে দারুণভাবে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন দেজিরে দুয়ে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে ডিয়েগো গোমেজ পা বাড়িয়ে তাকে ফেলে দেন। শুরুতে রেফারি খেলা চালিয়ে গেলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি। স্পট কিকে দায়িত্ব নেন অধিনায়ক এমবাপ্পে। ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ৭০ মিনিটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় গত আসরের রানার্সআপরা।
এর পরপরই ডিফেন্সে ডায়ট উপামেকানো ভুল করে বসেন। সেই সুযোগে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন মৌরিসিও, তবে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক ম্যাগনান চমৎকার সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
৮৯ মিনিটে এমবাপ্পে আবারও সুযোগ তৈরি করলেও দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া তার শট ঠেকিয়ে দেন গিল। ইনজুরি টাইমে (৯০+৭) ফ্রান্স দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। দুয়ে বাম দিক থেকে দারুণ পাস বাড়ান এমবাপ্পের দিকে। প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন গিল, রিবাউন্ডেও আবার শট নিলেও অসাধারণ ডাইভে সেটিও রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এই জয়ে তারা উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে, আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় প্যারাগুয়ে।
এসজি/