ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ডেঙ্গুতে বাড়ছে রোগী, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৭১ জন তিন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার চীনের অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচে কে এই মুসলিম রেফারি? বিশ্বকাপ কাঁপানো ভোজিনহাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি! নিরাপত্তা যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না সরায়: প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সামনে ভাত বিক্রি, আটক সোহানী শিফা আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে শোক জানিয়েছে বাংলা একাডেমি ও ঢাবি হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে ফিরছে ‘বাংলার রসনা বিলাস ২.০’ ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০ ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচেও ব্রাজিলের জয় দেখছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু ব্রাজিলই ফেভারিট: নরওয়ে কোচ প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী তীজন বাঈ আর নেই নরসিংদীতে ইয়াবাসহ যুবদলের সাবেক সভাপতির ছেলে আটক হালান্ড-গ্যাব্রিয়েল দ্বৈরথ এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র পটিয়ায় মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার মাঠের লড়াই শেষে কথার লড়াই, বিতর্কে এমবাপ্পে জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি কতটুকু পূরণ করবে? রাঙামাটিতে সাবেক চেয়ারম্যানসহ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার যুদ্ধাপরাধ এবং স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতি ছিনতাইয়ের অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু হাতে কামড় দিয়ে বখাটের কবল থেকে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী আমের নাম যেভাবে এল শাবিপ্রবির আশরাফুলের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৬০ লাখ টাকা

সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে জাককানইবির শিক্ষক বরখাস্ত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে জাককানইবির শিক্ষক বরখাস্ত
কল্যাণাংশু নাহা

টেলিগ্রাম গ্রুপে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নিজ রাজনৈতিক আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠার করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রেসিভ টিচার্স সোসাইটি’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে গত ২৬ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের শীর্ষ নেতাদরে সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন কল্যাণাংশু নাহা। সেখানে তিনি নিজ রাজনৈতিক আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠার করণীয় তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনার কথাও ব্যক্ত করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্তের স্বার্থে কল্যাণাংশু নাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কল্যাণাংশু নাহা খবরের কাগজকে বলেন, ‘চিঠিটি আমার চারুকলা বিভাগে পৌঁছেছে বলে জেনেছি। আমি এখনও সেই চিঠি হাতে পাইনি। এ বিষয়ে বর্তমানে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

রাফি/রিফাত/

শাবিপ্রবির আশরাফুলের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৬০ লাখ টাকা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
শাবিপ্রবির আশরাফুলের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৬০ লাখ টাকা
মো. আশরাফুল আলম। ছবি: খবরের কাগজ

এই তো সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে কর্মজীবনে পদার্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল আলম।

তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দুইদিন আগে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে। বর্তমানে এটির ক্রিটিকাল লেভেল ১৩-১৫ এর মধ্যে উঠানামা করছে। ক্যাম্পাসের পরিচিত ও সকলের প্রিয়মুখ আশরাফুলের এমন সংবাদ স্তব্ধ পুরো শাবিপ্রবি পরিবার। 

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার দুটি কিডনি ডায়ালাইসিস ও দ্রুত ট্রান্সপ্লান্টে বিদেশে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তবে আশরাফুলের মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসারভার বহন করাম অসম্ভব। এতে আশরাফুল আলমের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে তার চিকিৎসা সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা। 

হৃদয় হরণ হওয়া এমন বার্তায় আশরাফুলের পরিবার, পরিজন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়র, শিক্ষক সকলেই মর্মাহত। সবার একটাই চাওয়া সর্বদা হাস্যেউজ্জল ও সর্বময় পরোপকারী ছেলেটা আবারো হাসিমুখে সকলের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক।

এ বিষয়ে আশরাফুলের সহপাঠী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আশরাফুল অত্যন্ত বিনয়ী, পরোপকারী এবং সম্ভাবনাময় একজন ছেলে। সে পরিচিত-অপরিচিত সকলের বিপদে-আপদে সবার আগেই এগিয়ে আসত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে যখন ক্যারিয়ার গড়ার সময়, তখনই সে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে! আমার দোয়া করি আমাদের বন্ধু সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।

লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান রূপক বলেন, মাত্র কয়েকবছর আগে আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছি। আমারও ২টি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। আমার চিকিৎসা সহযোগিতায় আশরাফুলরা দিনরাত পরিশ্রম করে আমাকে স্বাভাবিক জীনবে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেছে। ইনশাআল্লাহ আমার মতো ছোটভাই আশরাফুলও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

লোকপ্রশাসন বিভাগ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম বলেন, আশরাফুল আমাদের অত্যন্ত মেধাবী, পরোপকারী এবং বন্ধু প্রতীম একজন শিক্ষার্থী। তার জীবন বাঁচাতে আমাদের বিভাগ, অ্যালামনাইসহ সকলেই প্রত‍্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিক  সহযোগিতা নিয়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আশরাফুলের শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সমাজের সকল মানবিক ও বিত্তবান জনগোষ্ঠীকে তার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, আমার বিশ্বাস আমাদের শিক্ষার্থী আশরাফুল সুস্থ হয়ে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। বিভাগের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ফান্ড কালেকশনেসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও আশরাফুলের চিকিৎসার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

আশরাফুলের চিকিৎসার্থে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা
Account Number: 5632501010220
Account Name: Public Administration, Alumni Association, Bank: Sonali Bank, Branch: SUST, Sylhet Branch Code: 307, Swift Code: BSONBDDH, Routing No: 200913076

Account Number: 3181580353765
Account Name: ASHRAFUL ALAM, Bank: Dutch Bangla Bank, Branch: Station Road Branch-Mymensingh Branch Code: 00318, Swift Code: DBBLBDDH, Routing No: 090610213

DDBL VISA CARD NUMBER 4840610026586729, ASHRAFUL ALAM।

জরুরী প্রয়োজনে 01681023230 (রূপক) 01752929094 (নুরুল আমিন)।

এসএন/

চবিতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সামান্তা-পুলক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
চবিতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সামান্তা-পুলক
নবনির্বাচিত সভাপতি শাহিরুল ইসলাম পুলক ও সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া বাসার সামান্তা/ ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অধ্যয়নরত কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠন, চবি-এর ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শাহিরুল ইসলাম পুলক এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সুমাইয়া বাসার সামান্তা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

নবনির্বাচিত সভাপতি শাহিরুল ইসলাম পুলক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া বাসার সামান্তা ইতিহাস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

নবনির্বাচিত সভাপতি শাহিরুল ইসলাম পুলক বলেন, “কুষ্টিয়া জেলার সকল শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, সক্রিয় ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া বাসার সামান্তা বলেন, “সবার মতামতকে মূল্যায়ন করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সংগঠনকে আরও গতিশীল করে তুলতে কাজ করব। কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থেকে তাদের স্বার্থে কাজ করে যেতে চাই।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠন, চবি। নবগঠিত কমিটিও এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আল আরাফ/তামান্না রুপা/

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ বা শিষ্টাচার শেখানোর নামে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র‍্যাগিং) করার অভিযোগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

শনিবার (০৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪-২০২৫) ছাত্র। তারা হলেন- নাছিম উদ্দিন মজুমদার (শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হল), মোঃ মাহফুজুর রহমান অন্ত (আল-বেরুনী হল), আব্দুল্লাহ মাহদী (শহীদ রফিক-জব্বার হল), শুভাশীষ রায় প্রান্ত (শহীদ রফিক-জব্বার হল), মোঃ আবু আবতাহী অনিক (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ রায়হান খান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ নাঈমুল হাসান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ ইসফাক হাদী (আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল), নাঈম আহমেদ সজিব (শহীদ সালাম বরকত হল), কার্তিক চন্দ্র রায় (শহীদ সালাম বরকত হল), কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল (মওলানা ভাসানী হল) এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনান (মওলানা ভাসানী হল)।

অফিস আদেশে বলা হয়, ০৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কতিপয় শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২০২৬) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো ও ম্যানার শেখানোর নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে র‍্যাগিং করে।

এই ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ কিংবা অভ্যন্তরের যেকোনো জায়গায় টিজ, র‍্যাগিং বা নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের এই আদেশ জারি করা হয়।

আমানউল্লাহ খান/তামান্না রুপা/

‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী
ছবি: খবরের কাগজ

নতুন শহর, পড়াশোনা, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা চাকরির পরীক্ষার জন্য কোথাও গেলে সেখানে থাকার উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যার সমাধানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু পলাশ। তিনি তৈরি করেছেন ‘ঘর বাড়ি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ।

অ্যাপটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই জানতে পারবেন কোনো মেসে সিট খালি আছে কি না, কোনো বাসায় নতুন ভাড়াটিয়া নেওয়া হচ্ছে কি না কিংবা নতুন শহরে থাকার উপযুক্ত আবাসনের তথ্য। একই সঙ্গে মেস বা বাসার মালিকরাও খালি সিট বা কক্ষের তথ্য অ্যাপে প্রকাশ করতে পারবেন। ফলে শিক্ষার্থী ও আবাসনদাতাদের মধ্যে সহজ ও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাপটি বড় সুবিধা নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন উদ্ভাবক। এর মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই বিভিন্ন মেস বা বাসার নিরাপত্তা, খাবারের ব্যবস্থা ও অন্যান্য তথ্য দেখে সহজেই থাকার জায়গা নির্বাচন করতে পারবেন।

অ্যাপটির উদ্ভাবক আবু পলাশ বলেন, "আমি মূলত শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য এই অ্যাপটি তৈরি করেছি। আমার বন্ধু-বান্ধবরা প্রায়ই মেসে সিট খুঁজে পায় না বা কোথায় সিট খালি আছে সেটাও জানতে পারে না। বাসা খুঁজতে তাদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাসা খুঁজতে হয়। আবার অনেক বাসায় লিফলেট দেওয়া থাকলেও নম্বরে কল দিলে ফোনে পাওয়া যায় না, অথবা জানানো হয় সিট খালি নেই। মালিকদেরও বিভিন্ন শর্ত থাকে। তাই তারাও যেন খুব সহজে এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, সেই সুবিধাও রেখেছি। আমাদের বিভাগের বড় ভাই রনি ভাই একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন, সেখান থেকেই আমি অনুপ্রেরণা পাই।

তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকেই কোডিং জানতাম। আমাদের বিভাগে পাইথন কোডিংয়ের বিভিন্ন কোর্স ছিল, সেখান থেকেও শিখেছি। কারও সরাসরি সাহায্য ছাড়াই নিজের প্রচেষ্টায় অ্যাপটি তৈরি করেছি। তবে এআই এবং বিভিন্ন অনলাইন উৎস থেকে সহায়তা নিয়েছি। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই এই অ্যাপ বানানো। তারা যখন রংপুরে নতুন আসবে, তখন কোন মেসে সিট খালি আছে বা কোথায় থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যাবে, তা যেন সহজেই জানতে পারে এবং অযথা হয়রানির শিকার না হয়।

পলাশ বলেন, এটি সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কোনো ধরনের টাকা লাগবে না। আমি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করিনি, শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্যই করেছি। নতুন শহরে কেউ গেলে হোটেলগুলোর তথ্যও এখানে যুক্ত করা যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই কোথায় কী সুবিধা রয়েছে তা জানতে পারবে। এই অ্যাপটি শিক্ষার্থীদের কাজে আসুক, এটাই আমার উদ্দেশ্য।

প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত তথ্যকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী করে তুলবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আযম/নাঈম

অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা
একাডেমিক ভবন থেকে ক্যাফেটেরিয়া—সবখানেই নোংরা টয়লেট। ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন ভবনের টয়লেট ও ওয়াশরুমের বেহাল অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। 

অপরিষ্কার পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, ভাঙা বেসিন, পানির ট্যাপ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। 

সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন-৩সহ বিভিন্ন ভবনের কয়েকটি টয়লেট ও ওয়াশরুম দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার। বাথরুমের মেঝেতে কালো দাগ, পিচ্ছিল পরিবেশ এবং তীব্র দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। অনেক বেসিন ভাঙা, কোথাও পানির ট্যাপ নেই, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নষ্ট। কিছু টয়লেটে পানি বহনের পাত্র নেই। এছাড়া ব্যবহৃত টিস্যু, জমে থাকা নোংরা পানি এবং মশা-পোকামাকড়ের উপদ্রবও চোখে পড়ে। কয়েকটি টয়লেটের দরজায় ছিটকিনিও নেই।

শিক্ষার্থীরা জানান, টয়লেটগুলোর এমন বেহাল অবস্থার কারণে খুব প্রয়োজন না হলে আমরা সেগুলো ব্যবহার করি না। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন তিনটি আবাসিক হলে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সাতজন প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, ডরমিটরি, উপাচার্যের বাংলোসহ অন্যান্য স্থানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ হোসেন মিজি বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এমন নোংরা ওয়াশরুম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাবে ওয়াশরুমগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা দ্রুত স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানাই।

আরেক শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবনের অধিকাংশ ওয়াশরুমই অপরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, মেয়েদের অনেক টয়লেট ব্যবহারই করা যায় না। কোথাও ছিটকিনি নেই, কোথাও পানি আসে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার লোকমান হাকিম বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। টয়লেটের পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রকৌশল দপ্তরের বিষয়। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, কিছু টয়লেট অপরিষ্কার রয়েছে, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে এবং কয়েকজনের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বেসিন ভাঙা এবং পানির ট্যাপ নষ্ট রয়েছে। জুন মাসের আর্থিক হিসাব (জুন ক্লোজিং) শেষ হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর আগামী মাস থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

এসএন