দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর সড়ক। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে যাত্রীদের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ।
হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর সড়কটি বিস্তীর্ণ দক্ষিণ বানিয়াচংয়ের লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। উপজেলার মক্রমপুর, সুজাতপুর, মন্দরী, মুরাদপুর ও পৈলারকান্দি ইউনিয়ন ছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের জন্য প্রায় পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচ, ভেঙে পড়েছে সড়কের এজিং। বর্ষায় এসব গর্তে জমে থাকে কাদা-পানি। ফলে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
রাস্তাটি নিয়ে হিয়ালা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের সড়কের এমন অবস্থা প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে। অনেক কষ্ট করে জেলা সদরে যাওয়া লাগে। রাস্তার অবস্থা এমন যে, একজন রোগী অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে আরও অসুস্থ হয়ে যায়। এছাড়া রাতের বেলা কোনো গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে না।’
একই এলাকার অলম মিয়া বলেন, ‘এমন একটা দিন নাই, যেদিন দুই-তিনটা দুর্ঘটনা ঘটে না। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। কয়েকদিন আগেও একটি টমটম ইজিবাইক উল্টে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া যেখানে ভাড়া ৪০ টাকা, সেখানে আমাদের কাছ থেকে চালকরা নিচ্ছেন ৮০ টাকা। না দিয়েও উপায় নেই, আমরা নিরুপায়।’
ইকরাম এলাকার বাসিন্দা ইমন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এত বড় একটা এলাকা। এই রাস্তা দিয়ে ৬-৭টি ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষ চলাচল করি। কিন্তু সরকার আমাদের জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচ করতে পারে না। এই ১৬ কিলোমিটার সড়কের জন্য আমরা স্থানীয় এমপি ও এলজিইডি অফিসে কত ধর্না দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সবাই আমাদের শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন।’
ইকরাম বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফরহাম হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তার কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। হবিগঞ্জ থেকে মালামাল নিয়ে আসতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। আবার গাড়ি না উল্টালেও ঝাঁকুনিতে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। আমার মনে হয় না, সারাদেশে এমন খারাপ অবস্থার আর কোনো রাস্তা আছে।’
টমটম ইজিবাইক চালক শাহেদ মিয়া বলেন, ‘পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত। এতে প্রায়ই ছোট যানবাহনগুলো উল্টে যাচ্ছে। এছাড়া ঝাঁকুনির কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দুই দিন পরপরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিন এক হাজার টাকা রোজগার করলে, পরেরদিন গাড়িতে ৫০০ টাকার কাজ করাতে হয়।’
সিএনজি অটোরিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, ‘সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। এছাড়া শ্রমিক নেতারা পদযাত্রা কর্মসূচিও পালন করেছেন। এরপরও আমাদের সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না। নেতারা আছে শুধু টাকা খাওয়ার ধান্দা নিয়ে। তাদের কি আমাদের কষ্ট দেখার সময় আছে?’
হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘হবিগঞ্জ-ইকরাম সড়কটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিওএম মেটেরিয়াল মেইনটেন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটারের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। রাস্তাটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিপাতের কারণে কাজটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে ঠিকাদার পুরোদমে কাজ শুরু করবেন।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, সড়কের একাংশের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। বাকি অংশের কাজও দ্রুত শুরু হবে।
কাজল/খাদিজা রুমি/