প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল তাদের জনপ্রিয় ল্যাপটপ ম্যাকবুক প্রো-এর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের ম্যাকবুক প্রো ল্যাপটপে এই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী বছরের প্রথমার্ধে এই নতুন প্রযুক্তির ডিভাইস বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক মার্ক গুরম্যানের এক নতুন প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বেসলাইন বা প্রাথমিক স্তরের ম্যাকবুক প্রো বাজারে ছাড়তে পারে অ্যাপল। ১৪ ইঞ্চির এই ল্যাপটপটিতে সম্পূর্ণ নতুন একটি চমৎকার নকশা দেখা যাবে। এই নকশাটি মূলত অ্যাপলের উচ্চপ্রযুক্তির ও দামি অন্যান্য কম্পিউটারের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হবে। বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, নতুন এই ল্যাপটপ লাইনআপে অ্যাপল তাদের ইতিহাসে প্রথম টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির ম্যাকবুক যুক্ত করতে পারে। এর আগে এম৬ মডেলের ল্যাপটপে এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের জোর গুঞ্জন ছিল।
নতুন ম্যাকবুক প্রো-এর পাশাপাশি অ্যাপল বর্তমানে চারটি নতুন আইপ্যাড প্রো মডেলের পরীক্ষামূলক কাজ চালাচ্ছে। যদিও এই নতুন ট্যাবলেটগুলোর সুনির্দিষ্ট কারিগরি তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন আইপ্যাডগুলো মূলত ডিভাইসের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি জোর দেবে। এই নতুন ট্যাবলেটগুলো বর্তমান মডেলগুলোর মতোই ১১ ইঞ্চি এবং ১৩ ইঞ্চি পর্দাবিশিষ্ট আকারে বাজারে পাওয়া যাবে।
সাধারণত বসন্তকালে অ্যাপল তাদের সাশ্রয়ী ও প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন পণ্যের ঘোষণা দিয়ে থাকে। কখনো কখনো এই সময়ে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু চমকপ্রদ নতুন পণ্যও উন্মোচন করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের বসন্তে অ্যাপল মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকবুক প্রো-এর পাশাপাশি নতুন ‘ম্যাকবুক নিও’ বাজারে এনেছিল।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের বসন্তকালও অ্যাপলের নতুন পণ্যের খবরে পুরোপুরি মুখর থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্মার্টফোনের বাজারে তখন আইফোন ১৮-এর মূল মডেল এবং আইফোন এয়ারের নতুন সংস্করণ আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া অ্যাপল তাদের প্রচলিত প্রসেসর সংস্করণের ধারা ভেঙে সরাসরি এম৭ সিলিকন চিপ প্রযুক্তিতে চলে যেতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য আগামী বছরটি তাই বেশ আকর্ষণীয় ও উদ্দীপনাপূর্ণ হতে চলেছে।