ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতার কাছে রেলওয়ের দেওয়া লিজের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) সহসভাপতি শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি দখল ও রেলওয়ে থেকে লিজ নেওয়া জমি দখলে রাখার অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া ওই জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন পৌর জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, একটি পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানা নামে একটি মাদরাসা পরিচালনা হয়ে আসছে। বর্তমানে তিনি ওই মাদরাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব রয়েছেন।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে ১৯৯৩ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ আবুল কাশেম মাহমুদের নামে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে, বোয়ালমারী স্টেশন এলাকায় পৃথক জায়গায় কৃষিজমি হিসেবে এক একর ও ৬৬ শতক জমি লিজ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিচলনা পর্ষদের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন তারা। সেখানে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে মাদরাসায় ব্যয় করেন।
এ ভাবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এক একর জমির খাজনা পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে রেলওয়ে থেকে খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। যা কিছুদিনের মধ্যে শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু দখলে নেন এবং পরবর্তীতে ওই জমিতে দোকান তুলে কৌশলে অন্যদের হস্তান্তর করেন।
এ ছাড়া বাকি ৬৬ শতক জমি তাদের লিজে থাকলেও, বর্তমানে ওই জমিতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। যদিও ২০২৭ সাল পর্যন্ত জমির খাজনা পরিশোধ রয়েছে বলে কাগজপত্র উত্থাপন করেন।
এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু বলেন, ‘সেখানে অভিযোগকারীদের কোনো লিজের জমি নেই। আমার পূর্ব-পুরুষের জমি আমরাই রেলওয়ের মাধ্যমে দখলে আছি। এটা নিয়ে ওরা একবার মামলা করে এবং আদালত খারিজ করে দেয়। এরপর ২০০৫ সালে ওদের নামে লিজ বাতিল করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বাকি ৬৬ শতক জায়গা যদি লিজ নিয়ে থাকে রেলওয়ে সেটা ওদের বুঝিয়ে দিক। ওরা শুধু মিথ্যা কথা বলে।’
এনকেবি নয়ন/থিওটোনিয়াস/