ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ছিনতাইয়ের অভিযোগে মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু হাতে কামড় দিয়ে বখাটের কবল থেকে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী আমের নাম যেভাবে এল শাবিপ্রবির আশরাফুলের চিকিৎসায় প্রয়োজন ৬০ লাখ টাকা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র সিলেটে দেশের প্রথম থানা ভিত্তিক ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’ উদ্বোধন নরওয়েকে কখনোই হারাতে পারেনি ব্রাজিল জনবল নেবে ওয়ান ব্যাংক সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে জাককানইবির শিক্ষক বরখাস্ত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর আগেই মর্মান্তিক পরিণতি একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ঐতিহ্যের টানে বরেন্দ্র জাদুঘরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজশাহীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার কুইরোজকে রেখে দেওয়ার পক্ষে জর্ডান আইয়ু বোয়ালমারীতে সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার লিজের জমি দখলের অভিযোগ সৃজন পাঠচক্রে ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই আসছে নতুন ডিজাইনের ম্যাকবুক প্রো আবারও চালু হলো সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট, প্রবাসীদের ফুল দিয়ে বরণ মুম্বাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে রেড অ্যালার্ট জারি তিন সন্তানকে পাশে নিয়ে তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে ‘আসিয়ান উইকেন্ড থিম নাইট’ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে নিউইয়র্কে গোলাগুলি, আহত ৮ খামেনির শেষকৃত্যে মোজতবা ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অন্য ৩ ছেলে নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত? কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক মাদককারবারি ও মাদকসেবীদের ছাড় নয়: এমপি তমিজ উদ্দিন পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার

নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়–কেউ নতুন ফ্যাশনের অংশ হিসেবে, কেউ আবার দুঃখ বা মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলছেন। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা আধুনিকতার প্রকাশ মনে করেন। কিন্তু একজন মুসলিম নারীর জীবনে কি এ সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান?

ইসলাম নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো তার চুল। এ কারণেই অধিকাংশ ইসলা ফকিহ নারীদের মাথা মুণ্ডন বা সম্পূর্ণ টাক করাকে বৈধ মনে করেননি।

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন। যদিও এ বর্ণনাটি দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত, তবু এর অর্থকে সমর্থন করে ইসলামের অন্যান্য দলিল ও ফকিহদের মতামত রয়েছে। এ কারণেই হজ বা উমরার সময়ও নারীরা মাথা মুণ্ডন করেন না; বরং চুলের অগ্রভাগ থেকে সামান্য অংশ কাটেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৮৫)

অন্যদিকে, শোক বা বিপদের কারণে চুল মুণ্ডন করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছেন যে, উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারিণী, কাপড় বিদীর্ণকারিণী এবং মাথা মুণ্ডনকারিণীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪০)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করে। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪১)
এ ছাড়া নারীদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পোশাক-আশাক, চালচলন কিংবা চুলের ধরনে পুরুষদের অনুকরণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের ওপর লা‘নত করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৭০)

অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যচর্চা, শোক প্রকাশ কিংবা নিছক ফ্যাশনের কারণে নারীদের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলা বা টাক করা জায়েজ নয়। একজন মুমিন নারীর জন্য আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যই প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সেই সৌন্দর্যই তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়–কেউ নতুন ফ্যাশনের অংশ হিসেবে, কেউ আবার দুঃখ বা মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলছেন। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা আধুনিকতার প্রকাশ মনে করেন। কিন্তু একজন মুসলিম নারীর জীবনে কি এ সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান?

ইসলাম নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো তার চুল। এ কারণেই অধিকাংশ ইসলা ফকিহ নারীদের মাথা মুণ্ডন বা সম্পূর্ণ টাক করাকে বৈধ মনে করেননি।

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন। যদিও এ বর্ণনাটি দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত, তবু এর অর্থকে সমর্থন করে ইসলামের অন্যান্য দলিল ও ফকিহদের মতামত রয়েছে। এ কারণেই হজ বা উমরার সময়ও নারীরা মাথা মুণ্ডন করেন না; বরং চুলের অগ্রভাগ থেকে সামান্য অংশ কাটেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৮৫)

অন্যদিকে, শোক বা বিপদের কারণে চুল মুণ্ডন করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছেন যে, উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারিণী, কাপড় বিদীর্ণকারিণী এবং মাথা মুণ্ডনকারিণীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪০)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করে। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪১)
এ ছাড়া নারীদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পোশাক-আশাক, চালচলন কিংবা চুলের ধরনে পুরুষদের অনুকরণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের ওপর লা‘নত করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৭০)

অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যচর্চা, শোক প্রকাশ কিংবা নিছক ফ্যাশনের কারণে নারীদের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলা বা টাক করা জায়েজ নয়। একজন মুমিন নারীর জন্য আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যই প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সেই সৌন্দর্যই তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প—০৩ ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার তপ্ত প্রান্তর। একটি অসহায় পরিবারকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে মাখজুম গোত্রের নির্যাতকরা। বৃদ্ধ বাবা ইয়াসির, মা সুমাইয়া, তরুণ ছেলে আম্মার। তাদের ‘অপরাধ’–তারা এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছেন। গোত্রহীন, প্রভাবহীন, দরিদ্র এই পরিবারকে রক্ষা করার মতো দুনিয়ায় কেউ নেই।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু সেই মুহূর্তে নির্যাতন থামানোর সাধ্য তার নেই। তিনি যা দিতে পারেন তা পৃথিবীর যেকোনো সম্পদের চেয়ে দামি–একটি প্রতিশ্রুতি: ‘সবর করো, হে ইয়াসির পরিবার! তোমাদের প্রতিশ্রুত ঠিকানা জান্নাত।’ (মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস ৫৬৪৬; ইমাম হাকিম বর্ণনাটিকে সহিহ বলেছেন, ইমাম জাহাবি তা সমর্থন করেছেন)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণাকারী প্রথম সাতজনের মধ্যে ছিলেন আম্মার ও তার মা সুমাইয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৫০)। বুড়ো বয়সের সেই মাকে আবু জাহেল ভয় দেখাল, প্রলোভন দিল, নির্যাতন করল। সুমাইয়া অটল। শেষ পর্যন্ত পাষণ্ড আবু জাহেল বর্শা দিয়ে আঘাত করে তাকে শহিদ করে দিল। বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকে ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, ‘আম্মারের মা সুমাইয়া ইসলামের প্রথম শহিদ।’ (তাবাকাতে ইবনে সাদ–ঐতিহাসিক বর্ণনা)

ভেবে দেখুন, ইসলামের ইতিহাসে শাহাদাতের যে মিছিল, তার প্রথম পতাকাটি আল্লাহ তুলে দিলেন একজন নারীর হাতে। একজন দাসী, একজন বৃদ্ধা, একজন মা। দুনিয়ার চোখে যিনি ছিলেন ‘সবচেয়ে দুর্বল’, আল্লাহর দরবারে তিনিই হলেন অগ্রগামী।

আজ আমরা সামান্য সমালোচনার ভয়ে হিজাব নিয়ে সংকোচ করি, নামাজ নিয়ে লজ্জা পাই, হক কথা বলতে দ্বিধা করি। সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাদের প্রশ্ন করেন–তোমার ঈমানের মূল্য কত? তার কাছে এর মূল্য ছিল জীবনের চেয়ে বেশি। হে আল্লাহ! সুমাইয়ার উত্তরসূরি আমাদের মা-বোনদের ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন, আর আমাদের সবাইকে দ্বীনের জন্য ত্যাগের তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 আজ ৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.মিনিট

আসর

.৪৩ মিনিট

মাগরিব

.৫৪ মিনিট

এশা

.২০ মিনিট

ফজর (৬ জুলাই)

.৫০ মিনিট

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন এক অদ্ভুত একাকিত্ব আর অজানা ভয় আমাদের ঘিরে ধরে। শুধু রাতের অন্ধকারই নয়, জীবনের নানা টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আর চারপাশের নেতিবাচকতা আমাদের প্রতিনিয়ত মানসিক অশান্তিতে রাখে। আমরা এমন এক পরম আশ্রয়ের খোঁজ করি, যিনি কখনো আমাদের ছেড়ে যাবেন না, যার কোনো ক্লান্তি নেই। সৃষ্টির এমনই এক চিরন্তন সত্য আর পরম নিরাপত্তার বার্তা নিয়ে নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত–আয়াতুল কুরসি (সুরা আল-বাকারাহ, ২৫৫)।

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ও মানসিক অস্থিরতার মাঝে এ আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা কেউ একা নই; এক মহাসত্তা প্রতিক্ষণ আমাদের দেখভাল করছেন। আয়াতে আল্লাহকে আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম বা চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী সত্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার সবকিছুর শেষ আছে, কিন্তু তিনি অবিনশ্বর। সবচেয়ে বড় আশার বাণী হলো, তাকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। যখন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে, তখনো মহাবিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী আমাদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টের খবর রাখেন।

আসমান ও জমিনের সবকিছু তারই মালিকানাধীন। মানুষ নিজের চেষ্টায় আল্লাহর জ্ঞানের বিন্দুমাত্রও আয়ত্ত করতে পারে না, যতক্ষণ না তিনি নিজে ইচ্ছা করেন। তার কুরসি বা ক্ষমতা ও সাম্রাজ্য পুরো আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। এত বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালনা ও হেফাজত করা তাকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত বা বিচলিত করে না। তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ও মহান। রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন (মুসলিম)।

সাহাবি উবাই বিন কাব, আবু আইয়ুব আনসারি ও আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, মানুষের কুচক্র, দুষ্ট জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এই আয়াত।

বাস্তব জীবনে এর দুটি বিশেষ আমল আমাদের সুরক্ষা দেয়–

১. ঘুমানোর আগে এটি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সুরক্ষাকারী ফেরেশতা নিযুক্ত হন, যা সকাল পর্যন্ত সব ধরনের অপশক্তির ভয় দূর করে (বুখারি)।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না (সিলসিলাহ সহিহাহ)।

লেখক: চেয়ারম্যান, ক্যারিয়ার আপ অ্যাকাডেমি

স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব
ছবি: সংগৃহীত

একটি ছোট্ট ঘরে সন্ধ্যা নামে। চুলায় ভাতের ঘ্রাণ, শিশুর হাসি আর কাজ থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের ক্লান্ত মুখে স্বস্তির ছাপ–এই দৃশ্যটাই হয়তো একটি পরিবারের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা। কিন্তু এই সাধারণ দৃশ্যের পেছনে আছে একটি গভীর দায়িত্ব, যাকে ইসলাম শুধু সামাজিক কর্তব্য নয়, বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয় বলে ঘোষণা করেছে। আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, ভরণপোষণের প্রশ্ন এলে অবহেলার চাদরে ঢাকা থাকে। কেউ বলেন, আমি তো রোজগার করছি, এটাই তো যথেষ্ট। কেউ আবার সংসারের খরচ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন তর্ক করেন, যেন স্ত্রী-সন্তানের খাবার-পোশাক কোনো অনুগ্রহ, অধিকার নয়। ইসলাম এই ভুল ধারণাটি ভেঙে দেয় খুব স্পষ্টভাবে।

আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারায় বলেন, সন্তানের বাবার ওপর মায়েদের খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করা ন্যায়সংগতভাবে আবশ্যক। কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয় না। (সুরা বাকারা, ২৩৩)। এই একটি আয়াতেই ইসলাম পরিবারের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল নীতি বলে দিয়েছে। প্রথমত, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ পুরুষের ওপর ফরজ, এটি কোনো ঐচ্ছিক উদারতা নয়। দ্বিতীয়ত, এই দায়িত্ব হবে সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে তার সক্ষমতার বাইরে চাপ দেওয়া হবে না। সুরা তালাকে আরও বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে থাকো, সেখানেই তাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করো... সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুযায়ী ব্যয় করবে, আর যার রিজিক সীমিত, সে আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকেই ব্যয় করবে। (সুরা তালাক, ৬-৭)
কী অসাধারণ ভারসাম্য! আল্লাহ এখানে কোনো নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক বলে দেননি। বরং একটি নীতি দিয়েছেন–যার যেমন সামর্থ্য, সে তেমন দেবে। ধনী ব্যক্তি কৃপণতা করতে পারবে না, আর দরিদ্র ব্যক্তিকে অসম্ভব বোঝা বহন করতে হবে না।

একদিন এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, স্ত্রীর ওপর স্বামীর কী অধিকার? তিনি উত্তরে বললেন, তুমি নিজে যা খাও, তাকেও তাই খাওয়াবে; নিজে যা পরো, তাকেও তাই পরাবে। মুখে আঘাত করবে না এবং কুৎসিত কথা বলবে না। (আবু দাউদ, ২১৪২)। এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, ভরণপোষণ মানে শুধু খাবার-পোশাক দেওয়া নয়, এটি মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে দেওয়া। কেউ যদি স্ত্রীকে খাবার দেয় কিন্তু প্রতিটি লোকমার সঙ্গে অপমান জুড়ে দেয়, তাহলে সে নাফাকাহর প্রকৃত চেতনা পূরণ করল না। আরেকটি অসাধারণ ঘটনা আমাদের শেখায় কতটা গুরুত্বের সঙ্গে ইসলাম এ বিষয়টি দেখে। হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) নবিজির কাছে অভিযোগ করলেন, তার স্বামী আবু সুফিয়ান কৃপণ, পর্যাপ্ত খরচ দেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যা ন্যায়সংগতভাবে যথেষ্ট, তা গ্রহণ করো। (বুখারি, ৫৩৬৪)।

এই একটি ঘটনা থেকেই স্পষ্ট ভরণপোষণ না দেওয়া এত গুরুতর বিষয় যে, নবিজি স্ত্রীকে স্বামীর অগোচরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এটি কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনকে নবিজি (সা.) নিজের চরিত্রের মাপকাঠি বানিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম এবং আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। (তিরমিজি, ৩৮৯৫; ইবনে মাজাহ, ১৯৭৭)। এখানে একটা গভীর বার্তা আছে। আমরা প্রায়ই বাইরের মানুষের কাছে ভালো হওয়ার চেষ্টা করি, অথচ ঘরের মানুষের প্রতি অবহেলা করি। নবিজি (সা.) শিখিয়েছেন, সবচেয়ে বড় চরিত্র পরীক্ষা হয় ঘরের ভেতরে, যেখানে কেউ দেখছে না, যেখানে প্রশংসার আশা নেই।

আমাদের অনেকেই মনে করেন, সংসারের খরচ চালানো একটা বোঝা, একটা দায়। ইসলাম এই দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তুমি যা ব্যয় করো তোমার পরিবারের ওপর, তা-ও সদকাহ (দান) হিসেবে গণ্য হবে। (বুখারি, ৫৫)। ভাবুন একবার, সকালে অফিসে যাওয়ার আগে স্ত্রীর হাতে বাজারের টাকা দেওয়া, সন্তানের স্কুলের বেতন পরিশোধ করা এই সাধারণ কাজগুলোই আল্লাহর কাছে সদকার সমান সওয়াব নিয়ে আসে! এর চেয়ে বড় প্রেরণা একজন উপার্জনকারীর জন্য আর কী হতে পারে?

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন ব্যক্তির ব্যয় করা দিনারের মধ্যে সর্বোত্তম দিনার হলো সেটি, যা সে তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে (মুসলিম, ৯৯৪)। অর্থাৎ মসজিদে দান করা, গরিবকে সাহায্য করা–এসবের পাশাপাশি নিজের সন্তানের দুধের টাকা দেওয়াটাও সমান মর্যাদার আমল। কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন কেন এই দায়িত্বটি বিশেষভাবে পুরুষের ওপর? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইসলামের সামগ্রিক ন্যায়বিচারের কাঠামোয়। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সন্তান জন্মদান ও স্তন্যদানের শারীরিক ও মানসিক দায়িত্ব এমন একটি দায়িত্ব, যা কোনো পুরুষ বহন করতে পারে না। গর্ভধারণ, প্রসব, সন্তান পালনের প্রথম বছরগুলোর শারীরিক ক্ষয় এসব নারীর জীবনে এমন একটি সময় তৈরি করে, যখন তার অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

ইসলাম এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং বিনিময়ে পুরুষের ওপর অর্থনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে। এর সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসলামে স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ, উপার্জন বা উত্তরাধিকার সম্পূর্ণভাবে তার একান্ত মালিকানায় থাকে। স্বামী তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এমনকি স্ত্রী যদি স্বামীর চেয়েও ধনী হন, তবু স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেই। এটি প্রকৃতপক্ষে নারীর জন্য একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা তার নিজের সঞ্চয় তার নিজের থাকে, সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্ব নয়।

বাংলাদেশের সমাজে আমরা প্রায়ই দুটি বিপরীত চিত্র দেখি। একদিকে এমন পুরুষ আছেন, যারা সামান্য রোজগার থেকেও পরিবারের জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে দেন, নিজে কষ্ট করেন তবু সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চান। অন্যদিকে এমন পুরুষও আছেন, যারা যথেষ্ট রোজগার করেও স্ত্রী-সন্তানকে অবহেলা করেন, নিজের শখ-আহ্লাদে খরচ করেন অথচ সংসারের প্রয়োজনে কৃপণতা দেখান। এই দ্বিতীয় চিত্রটি ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন যে এই অবহেলাকে তিনি গুনাহের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিবারের ভরণপোষণে কৃপণতা করে, সে নিজের আমানতের খেয়ানত করছে।

লেখক: প্রধান শিক্ষক, তাহফিজুল কুরআন মাদরাসা, ঢাকা