ধামরাইয়ে মাদককারবারি ও মাদকসেবীদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ তমিজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, অপরাধীদের প্রথম সতর্ক করা হলেও দ্বিতীয়বার আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। সরাসরি আইনের আওতায় আনা হবে।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সভাপতিত্বে আয়োজিত ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ এর মতবিনিময় ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধামরাই থানা কম্পাউন্ডে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তমিজ উদ্দিন বলেন, পুলিশের যদি পুলিশের জনসম্পৃক্ততা না থাকে তাহলে সমাজ থেকে মাদক, জুয়াসহ সব অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টায় হবে না, আমাদের সবার সহযোগিতা করতে হবে।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, অপরাধী কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, কোনো সংগঠনের কর্মী নয়। তাদের জন্য কোনো প্রকার তদবির চলবে না। ধামরাই উপজেলায় ৪৩৮টি গ্রামে প্রায় ৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছে মাত্র ১৫০ জনের মতো। এতো অল্প জনবল দিয়ে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি আপনারা সহযোগিতা না করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশ বক্স করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করব। পুলিশ ফাঁড়ির বিষয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করব- কোথায় পুলিশ ফাঁড়ি করা যায়। আমাদের জনবল কম, সেই সঙ্গে গাড়িসংকট। ধনীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন। সাভারে পুলিশি কার্যক্রম সঠিক ভাবে চালাতে বিত্তবান ব্যক্তিরা দুটি গাড়ি দিয়েছেন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশানের সঞ্চালনায় কমিউনিটি পুলিশ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম, ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান ও ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, নয়া দিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক আনিস উর রহমান স্বপন, বাংলাভিশনের সাংবাদিক লোকমান হোসেন, সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রুস্তম, কুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান প্রমুখ।
এ সময় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমাণ্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল আমিন/খাদিজা রুমি/