ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আমরাও হাত নোংরা করতে জানি: এমবাপ্পে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন চবিতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সামান্তা-পুলক হালান্ডকে আটকানোর কৌশল জানা আছে ব্রাজিলের হাঁড়িভাঙা আমের দেশে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প, ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণে ট্রপিক্যাল হোমস-বার্জার পেইন্টসের চুক্তি সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন ‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেকুয়ায় অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ বিএনপির মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা পড়ে পাওয়া গল্পের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩০ পল্লবীতে সন্ত্রাসী ‘রেড মুন্না’ গ্রেপ্তার সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক করতে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: রাষ্ট্রপতি

নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স)

নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়নের সরকারি বরাদ্দ টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব দীপক কুমার বর্মণের (প্রিন্স) বিরুদ্ধে। 

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তুষার দাস নামে এক যুবক।

জানা যায়, নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দির। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেওয়া নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল এই মন্দিরের নামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শীতলাবাড়ি মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীপক কুমার বর্মনকে সভাপতি, সঞ্জয় ধরকে সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিশান দাস পার্থ, সজয় দাস ও তুষার দাসকে সদস্য করে ৫ সদস্যের কমিটি দাখিল করা হয়। 

পরবর্তীতে গত ৫ এপ্রিল নরসিংদী পৌর প্রশাসক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এই কমিটির অনুমোদনও দেওয়া হয়। পরে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দীপক কুমার বর্মনের নামে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার চেক ইস্যু হয়। পরে গত ১১ মে চেকটি নিয়ে নিজ ব্যাংক হিসেবে জমা দিয়ে টাকা আর মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির এই নেতা মন্দিরের নামে বরাদ্দ পুরো অর্থই আত্মসাৎ করেছেন। নিজের বানানো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে নিজের আত্মীয়-স্বজনসহ কমিটি করে নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতিও করেছেন তিনি।

চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের পরও সুশীল চন্দ্র দাস ও অখিল দাসসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে বরাদ্দের টাকা পাওয়া যায়নি বলে অস্বীকার করেন দীপক।

মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় হতবাক মন্দির কমিটিসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

অভিযোগের বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক অখিল দাস জানান, মন্দিরের উন্নয়ন কাজের জন্য নরসিংদী পৌরসভায় অনুদানের আবেদন করেছিলেন, তবে এ পর্যন্ত মন্দিরের নামে কোনো সরকারি অর্থ তারা পাননি।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগকারী তুষার দাস বলেন, ‘অভিযুক্ত দীপক কুমার বর্মন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবিত ফর্মে আমাকে না জানিয়ে আমার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। এমনকি আমার স্বাক্ষরও জাল করে উক্ত ফর্মে আবেদন করে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। এমনকি টাকা উত্তোলনের পর প্রিন্স মন্দিরে কোনো টাকাও জমা দেননি। যদি টাকা জমা দিত তবে স্বাক্ষর জাল বা আমাকে না জানানোও কোনো সমস্যা ছিল না।’

‘তবে টাকা যেহেতু আত্মসাৎ করেছে, সে ক্ষেত্রে আমি এর বিচার চাই’ বলেন তুষার দাস।

পাশাপাশি জনস্বার্থে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা, আত্মসাৎ করা সরকারি টাকা উদ্ধার করে মন্দিরের তহবিলে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দীপক কুমার বর্মণ সাংবাদিকদের  বলেন, ’বরাদ্ধের টাকার কথা মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস জানেন। আপনার কোনো কিছু জানতে হলে ওনার সাথে যোগাযোগ করেন।’

মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, কে বা কারা আমাদের মন্দিরের বরাদ্ধকৃত টাকা স্বাক্ষর করে নিয়ে এসেছে। তবে এখনো আমরা কোনো অনুদানের টাকা পাইনি।’

মন্দিরের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিন্দনীয় উল্লেখ করে জেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ বলেন, ‘মসজিদ-মন্দিরসহ উপাসনালয়গুলোতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। মন্দিরে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির নামে চেক ইস্যু করা। পরে তিনি নিজের ব্যাংক হিসেবে চেক জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করবেন। তবে টাকা পাওয়ার পর কবে মন্দির কমিটিকে বুঝিয়ে দেবেন বা নেবেন এটা ওনাদের ব্যাপার।’

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

শাওন শাহিন/খাদিজা রুমি/

মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল মেঘনা নদীর কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সকাল থেকেই হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আসা যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে নদীতে তীব্র ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো ফেরি, সি-ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী ট্রলার ঘাট ছেড়ে যেতে পারেনি।

ফেরি মহানন্দা-এর মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন জানান, উপকূলীয় এলাকায় ৩নং স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকায় প্রশাসনের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।।

হাতিয়া উপকূলীয় নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌরুটে চলাচলকারী সব সরকারি নৌযানসহ অন্যান্য নৌযানের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হানিফ সাকিব/খাদিজা রুমি/

পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম
পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় টমটমের (ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক) ধাক্কায় মো. মাছন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেনের বড় ভাই। 

শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভোলাইয়াঘোনা এলাকার রাস্তার মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার জানায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি টমটম মো. মাছনকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

নিহতের ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এর আগেও এই স্থানটিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে একটি স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ আমার ভাইকে এভাবে প্রাণ হারাতে হলো।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পেকুয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের টমটম ও অটোরিকশা চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। লাইসেন্সবিহীন এসব চালক বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি জব্দ করেছি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রকিবুল হাসান/অদিতি/ 

নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স)

নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়নের সরকারি বরাদ্দ টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব দীপক কুমার বর্মণের (প্রিন্স) বিরুদ্ধে। 

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তুষার দাস নামে এক যুবক।

জানা যায়, নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দির। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দেওয়া নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল এই মন্দিরের নামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শীতলাবাড়ি মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীপক কুমার বর্মনকে সভাপতি, সঞ্জয় ধরকে সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিশান দাস পার্থ, সজয় দাস ও তুষার দাসকে সদস্য করে ৫ সদস্যের কমিটি দাখিল করা হয়। 

পরবর্তীতে গত ৫ এপ্রিল নরসিংদী পৌর প্রশাসক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এই কমিটির অনুমোদনও দেওয়া হয়। পরে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দীপক কুমার বর্মনের নামে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার চেক ইস্যু হয়। পরে গত ১১ মে চেকটি নিয়ে নিজ ব্যাংক হিসেবে জমা দিয়ে টাকা আর মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির এই নেতা মন্দিরের নামে বরাদ্দ পুরো অর্থই আত্মসাৎ করেছেন। নিজের বানানো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে নিজের আত্মীয়-স্বজনসহ কমিটি করে নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতিও করেছেন তিনি।

চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের পরও সুশীল চন্দ্র দাস ও অখিল দাসসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে বরাদ্দের টাকা পাওয়া যায়নি বলে অস্বীকার করেন দীপক।

মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় হতবাক মন্দির কমিটিসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

অভিযোগের বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক অখিল দাস জানান, মন্দিরের উন্নয়ন কাজের জন্য নরসিংদী পৌরসভায় অনুদানের আবেদন করেছিলেন, তবে এ পর্যন্ত মন্দিরের নামে কোনো সরকারি অর্থ তারা পাননি।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগকারী তুষার দাস বলেন, ‘অভিযুক্ত দীপক কুমার বর্মন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবিত ফর্মে আমাকে না জানিয়ে আমার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। এমনকি আমার স্বাক্ষরও জাল করে উক্ত ফর্মে আবেদন করে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। এমনকি টাকা উত্তোলনের পর প্রিন্স মন্দিরে কোনো টাকাও জমা দেননি। যদি টাকা জমা দিত তবে স্বাক্ষর জাল বা আমাকে না জানানোও কোনো সমস্যা ছিল না।’

‘তবে টাকা যেহেতু আত্মসাৎ করেছে, সে ক্ষেত্রে আমি এর বিচার চাই’ বলেন তুষার দাস।

পাশাপাশি জনস্বার্থে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা, আত্মসাৎ করা সরকারি টাকা উদ্ধার করে মন্দিরের তহবিলে হস্তান্তরের অনুরোধ জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দীপক কুমার বর্মণ সাংবাদিকদের  বলেন, ’বরাদ্ধের টাকার কথা মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস জানেন। আপনার কোনো কিছু জানতে হলে ওনার সাথে যোগাযোগ করেন।’

মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, কে বা কারা আমাদের মন্দিরের বরাদ্ধকৃত টাকা স্বাক্ষর করে নিয়ে এসেছে। তবে এখনো আমরা কোনো অনুদানের টাকা পাইনি।’

মন্দিরের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিন্দনীয় উল্লেখ করে জেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ বলেন, ‘মসজিদ-মন্দিরসহ উপাসনালয়গুলোতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। মন্দিরে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির নামে চেক ইস্যু করা। পরে তিনি নিজের ব্যাংক হিসেবে চেক জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করবেন। তবে টাকা পাওয়ার পর কবে মন্দির কমিটিকে বুঝিয়ে দেবেন বা নেবেন এটা ওনাদের ব্যাপার।’

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

শাওন শাহিন/খাদিজা রুমি/

সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫
বিজিবির অভিযানে জব্দ বারকি। ছবি: খবরের কাগজ
সিলেটে বালুমহালে যন্ত্রদানব ড্রেজিংয়ের দাপটে যন্ত্রবিহীন পরিবেশবান্ধব বারকি নৌকা আবার অবৈধ কাজে ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ৮৬ লাখ টাকার চোরাইপণ্যের সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ১৫টি বারকি।
 
এবার বর্ষার শুরুতেই বারকি জব্দের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সনাতন পদ্ধতিতে বালু-পাথর আহরণে এই নৌযানটির ব্যবহার ক্রমে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বারকি ‘বিপথে’ চলছে।
 
শনিবার (৪ জুলাই) বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
 
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ জুলাই গোপন সংবাদে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, সোনালীচেলা, বিছনাকান্দি, সোনারহাট, প্রতাপপুর, পান্থুমাই, শ্রীপুর এবং মিনাটিলা বিওপি কর্তৃক চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এতে বিপুল পরিমান ভারতীয় গরু, মহিষ, জিরা, সুপারি, চকলেট, সবজি, এয়ার রাইফেল, আঙ্গুর, মদ এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে বাংলাদেশি শিং মাছ, অবৈধ বালু-পাথর বহনকারী বারকি নৌকা আটক করে। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক সিজারমূল্য ৮৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
 
এ বিষয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, 'সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চোরাই মালামাল জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
বিজিবির পৃথক দুটো অভিযানে বারকি জব্দের চিত্রে দেখা গেছে, সীমান্তের সোনালীচেলা ফাঁড়িতে ১১টি বারকি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। আর সিলেটের শ্রীপুরে চারটি। মোট ১৫টি বারকি ব্যবহার করা হয়েছে অবৈধ কাজে।  
 
উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চলে জলপথে হাতে বাওয়া নৌযান বারকির প্রচলন প্রায় ৩০০ বছরের। স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তনকালে জলপথে চুন পরিবহনে ব্যয়বহুল জাহাজের বিপরীতে হাতে বাওয়া লম্বা আকৃতির এ নৌযানটি ‌'জন বারকি' নামক একজন ব্রিটিশ নৌ-কারিগর প্রথম তৈরি করেছিলেন। পরে তার নামে নৌযানটির নামকরণ ‘বারকি’ প্রতিষ্ঠা পায়। বর্ষা মৌসুমে একটি বারকি নৌকায় অন্তত চারজন শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হয়।
 
বারকি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদ-নদী ও বালু-পাথরমহলে লক্ষাধিক বারকি নাও চলাচল করে। এ নাওয়ের শ্রমিকেরা বারকিশ্রমিক হিসেবে পরিচিত। বালুমহালে ড্রেজিংয়ের ব্যাপক দাপটে বারকির ব্যবহার কমে যাওয়ার পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতে পাথরমহাল চালু না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
 
আজহার/

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ভারতে অনুপ্রবেশের সময় অসীম বিশ্বাস (৪৩) নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে বোদা থানায় হস্তান্তর করে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়শশী ক্যাম্পের সদস্যরা।

বিজিবি জানায়, নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়শশী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তের মেইন পিলার ৭৭৮ এর ৭নম্বর সাব পিলার থেকে ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অমরখানা এলাকা দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন অসীম বিশ্বাস। পরে বিজিবির টহল দল তাকে আটক করে। 

কাজের সন্ধানে তিনি ভারতে অবৈধ উপায়ে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। 

বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজওয়ানুল হক মন্ডল খবরের কাগজকে বলেন, আটক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা করেছে বিজিবি। দুপুরে তাকে পঞ্চগড় আদালতে তোলা হবে।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের টহল দল সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় অসীম বিশ্বাস ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে আমরা তাকে ধরে ফেলি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সীমান্তে কোনো কিছু পাচার, অবৈধ সীমান্ত পারাপার, মাদক, গরুসহ সকল চোরাচালান রোধে সদা তৎপর।

রনি/থিওটোনিয়াস