ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
নারীর জীবনে এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার ধেয়ে আসছে নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী লাখো মানুষের ‘কষ্টের দৈর্ঘ্য’ ১৬ কিলোমিটার আমরাও হাত নোংরা করতে জানি: এমবাপ্পে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন চবিতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সামান্তা-পুলক হালান্ডকে আটকানোর কৌশল জানা আছে ব্রাজিলের হাঁড়িভাঙা আমের দেশে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন: ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণে ট্রপিক্যাল হোমস-বার্জার পেইন্টসের চুক্তি সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন ‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেকুয়ায় অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ বিএনপির মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা

২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
২৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহ
পৃথিবীর বাইরে বায়ুমণ্ডল এবং সূর্য। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির খবর দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘জিজে ৩৩৭৮বি’ নামের একটি গ্রহকে পৃথিবীর মতো পাথুরে এবং সম্ভাব্য বাসযোগ্য বলে মনে করছেন। গবেষকদের মতে, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের জন্য এটি অন্যতম সম্ভাবনাময় গ্রহ।

গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাকডোনাল্ড পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে হবি-এবারলি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগে ধারণার চেয়ে গ্রহটির ভর অনেক কম, যা এটিকে পৃথিবীর মতোই পাথুরে গ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো করেছে।

তবে গ্রহটি নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, জিজে ৩৩৭৮বি একটি ছোট লাল নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। ওই নক্ষত্রের তীব্র বিকিরণের কারণে সেখানে স্থায়ী বায়ুমণ্ডল টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। ফলে গ্রহটি সত্যিই প্রাণের উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

গবেষক পল রবার্টসন বলেন, ২৫ আলোকবর্ষ শুনতে অনেক দূরে মনে হলেও মহাজাগতিক হিসেবে এটি পৃথিবীর খুব কাছের প্রতিবেশী। কারণ আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ। সেই তুলনায় জিজে ৩৩৭৮বি কার্যত পৃথিবীর ‘মহাজাগতিক প্রতিবেশী’।

বিজ্ঞানীদের কাছে গ্রহটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২৪ সালে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, এর ভর পৃথিবীর প্রায় পাঁচ গুণ এবং এটি নিজ নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ২৪ দশমিক ৭ দিন। তবে নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গ্রহটির ভর পৃথিবীর মাত্র ২ দশমিক ৩ গুণ এবং এর কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে ২১ দিন। এ কারণেই গবেষকরা এটিকে ‘সুপার আর্থ’ শ্রেণির গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করছেন। গবেষকদের ভাষ্য, কোনো গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রথম শর্ত হলো সেখানে তরল পানির অস্তিত্ব। তাই এখন জিজে ৩৩৭৮বিতে পানির উপস্থিতি এবং বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জিজে ৩৩৭৮বির নক্ষত্রটি সূর্যের তুলনায় ছোট ও কম উজ্জ্বল। এ ধরনের লাল ছোট নক্ষত্র আমাদের ছায়াপথে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গবেষক মাইকেল এন্ডল জানান, মিল্কিওয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ নক্ষত্রই এ ধরনের। ফলে এসব নক্ষত্রকে ঘিরে পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহের সংখ্যাও অনেক হতে পারে। সেই কারণেই বিজ্ঞানীরা এসব গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এন্ডলের ভাষায়, ‘মহাবিশ্বে আমরা কি একাই বুদ্ধিমান প্রাণী, নাকি আমাদের মতো আরও কেউ রয়েছে–এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের গবেষণা। জিজে ৩৩৭৮বি সেই অনুসন্ধানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।’

তবে প্রযুক্তিগত বাস্তবতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান ‘ভয়েজার–১’ যদি এই গ্রহের উদ্দেশে যাত্রা করে, তা হলে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৪ লাখ ৪১ হাজার বছর। ফলে আপাতত দূরবর্তী টেলিস্কোপ ও আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেই জিজে ৩৩৭৮বির রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: স্পেস

চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল
ছবি সিএমজি বাংলা

প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে চীনা উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ চাং চেংথাও  দীর্ঘদিনের রোবটিক্স গবেষণাকে ব্যবহারিক উদ্ভাবনে রূপ দিয়েছেন। দক্ষ শিল্প রোবট থেকে শুরু করে দর্শকদের নজর কেড়ে নেওয়া একটি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যান্ড—সবই তার প্রতিষ্ঠিত চোংখে হুইলিং রোবটিক্সের উদ্ভাবনের অংশ।

প্রতিষ্ঠানটির রোবট ব্যান্ড ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ড্রামস, কিবোর্ড, লিড গিটার ও বেস গিটার নিয়ে গঠিত এই ব্যান্ডের পরিবেশনার পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম গতিনিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত পরিচালনা এবং দেহধারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বহু বছরের গবেষণা।

চাংয়ের মতে, রোবট ব্যান্ড তার বৃহত্তর স্বপ্নের একটি ছোট অংশ মাত্র। রোবটিক্স গবেষক হিসেবে তিনি ২০২৩ সালে চোংখে হুইলিং রোবটিক্স প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে গবেষণাগারের প্রযুক্তিকে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করা যায়।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এসব প্রযুক্তি উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে জুতা তৈরির কারখানায় দক্ষ হাতযুক্ত রোবটগুলো মানুষের কাজ পর্যবেক্ষণ করে সূক্ষ্ম সংযোজনের কৌশল শিখছে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করছে। সূত্র: সিএমজি

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট
ছবি সিসিটিভি।

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পের জন্য তৈরি উচ্চ-তাপমাত্রার একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা চুম্বকের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এই মাইলফলকটি পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করল।

চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই ফিউচার সায়েন্স সিটিতে অবস্থিত ‘বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ নামের একটি ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রের জন্য এই ম্যাগনেটটি তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় একে বলা হয় ‘সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট’। বিজ্ঞানীরা একে গাড়ির ইঞ্জিনের ‘স্পার্ক প্লাগ’-এর সাথে তুলনা করছেন। এটি প্লাজমার মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালনা করে ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ম্যাগনেটটি ৬০ কিলোঅ্যাম্পিয়ার স্থিতিশীল বৈদ্যুতিক প্রবাহ বহন করতে সক্ষম এবং এটি ৬ দশমিক শূন্য ৩ মেগাজুল শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় বিশ্বজুড়ে অর্জিত সাফল্যের মধ্যে এর মূল কর্মক্ষমতা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা ফিজিক্স ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিন চিংকাং বলেন, সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট হলো সবচেয়ে জটিল অপারেটিং কন্ডিশনের একটি যন্ত্র। এর কর্মক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে ফিউশন ডিভাইসটি চালু থাকবে কি না এবং স্থিতিশীল থাকবে কি না। এটিই সেই মূল উপাদান, যা ফিউশনকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে ব্যবহারিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্ধারণকারী ভূমিকা পালন করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘এই ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রটির নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যেই এর মাধ্যমে পারমাণবিক ফিউশন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন। সূত্র: সিএমজি

প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?
ছবি: সংগৃহীত

পোষা প্রাণীর মৃত্যু সব সময় কষ্টদায়ক। অনেকে মনে করেন,  মৃত্যু সম্পর্কে কেবল মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববিজ্ঞানে মৃত্যু একটি সর্বজনীন বিষয়। অনেক প্রাণী তাদের সঙ্গীর মৃত্যুতে নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর প্রাণীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ওরাল মেলানোমায় আক্রান্ত হয়ে কুকুরটির মৃত্যুর পর তিনি অন্য কুকুরদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

মৃত্যুর সবচেয়ে প্রাথমিক ধারণা হলো একটি প্রাণী বুঝতে পারে যে, অন্য প্রাণীর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে এবং সে আর ফিরে আসবে না। প্রাণিজগতে সঙ্গীর মৃত্যুতে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু প্রাণী বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে মরার ভান করে। যেমন–ওপোসাম নামের প্রাণী শিকারির হাত থেকে বাঁচতে এই কৌশল নেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় থ্যানাটোসিস বলা হয়। কিছু পাখি, সাপ ও কীটপতঙ্গের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়।

গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যেও শোক প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, কাছের সঙ্গী কুকুর বা বিড়ালের মৃত্যুতে অনেক সময় বিড়াল খাওয়া, ঘুমানো বা বিচরণ কমিয়ে দেয়। ডলফিনের মতো সামুদ্রিক প্রাণীরা মৃত শাবকের প্রতি গভীর মনোযোগ দেখায় এবং দিনের পর দিন তাদের বহন করে। ২০১৮ সালে একটি স্ত্রী অর্কা তার মৃত শাবককে ১৭ দিন ধরে বহন করেছিল। এছাড়া হাতি, প্রাইমেট এবং পাখিদের মধ্যেও মৃত সঙ্গীর প্রতি মানুষের মতো শোক প্রকাশের আচরণ করতে দেখা গেছে।

সব প্রাণীর প্রতিক্রিয়া আবেগতাড়িত নয়। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি কেবলই বেঁচে থাকার তাগিদ। যেমন–মৌমাছিরা মৃত সঙ্গীর গন্ধ বা মরদেহ থাকা ফুল এড়িয়ে চলে। মূলত শিকারির হাত থেকে বাঁচতে তারা এমন আচরণ করে। আবার লাল পিঁপড়ারা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে মৃত সঙ্গীদের বাসা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলে। এগুলো তাদের সম্পূর্ণ সহজাত আচরণ। অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিদের মতো উন্নত বুদ্ধিমত্তার প্রাণীর আচরণ অনেকটা মানুষের শোকের কাছাকাছি। তারা মৃত সঙ্গীর শরীর পরিষ্কার করে ও শাবকের মরদেহ দীর্ঘ সময় আগলে রাখে।

গবেষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর নিজের অন্য কুকুরদের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মৃত কুকুরটিকে ঘাসের ওপর রাখার পর দেখেন, অন্য কুকুরগুলো সেটিকে শুঁকে দেখে চলে গেলেও বার্টি নামের একটি কুকুর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মৃত সঙ্গীর পাশে বসে ছিল। সে তার বন্ধুকে শুঁকে ও চেটে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, প্রাণীরাও নিজেদের মতো করে মৃত্যু উপলব্ধি করতে পারে। মানুষের মতো হয়তো তাদের শোক প্রকাশের ভাষা নেই, তবে সঙ্গীর মৃত্যুতে তাদের সামাজিক ও মানসিক আচরণে পরিবর্তন আসে।

যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড
ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন মিসরীয়দের তৈরি গিজার গ্রেট পিরামিড আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির অভাব সত্ত্বেও কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, তা কয়েক দশক ধরে গবেষকদের বিস্মিত করেছে। তবে সম্প্রতি এই রহস্যের সমাধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষক ভিসেন্তে লুইস রোসেল রোইগ। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় তিনি গাণিতিক প্রমাণসহ দেখিয়েছেন যে, পিরামিডটি তৈরিতে একটি বিশেষ সর্পিল ও খাঁজকাটা র‍্যাম্প বা ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিশাল এই কাঠামোটি খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৬০ অব্দে মিসরের ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। এটি মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিড। এতে আনুমানিক ২৩ লাখ পাথরের ব্লক রয়েছে, যার প্রতিটির ওজন আড়াই থেকে ১৫ টন। ফারাও খুফুর ২৭ বছরের শাসনকালের মধ্যে এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ শেষ করতে হলে গড়ে প্রতি তিন মিনিটে একটি করে পাথর স্থাপন করতে হতো। এই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে এত বড় কাঠামো তৈরি সম্ভব হলো, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

কিছু গবেষকের মতে, পাথর ওপরে তোলার জন্য পিরামিডের বাইরে ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের পথ তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণ উপকরণের প্রয়োজন হতো এবং এর কোনো স্পষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অন্য একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, পিরামিডের ভেতরে একটি সর্পিল পথ তৈরি করা হয়েছিল, যা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওপর থেকে নিচে ভরাট করে দেওয়া হয়। কিন্তু রোইগের গাণিতিক মডেল বলছে, মাত্র একটি পথ ব্যবহার করে পিরামিডটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় অর্ধশতক সময় লেগে যাওয়ার কথা।

এর পরিবর্তে রোইগ দাবি করেন, পিরামিডের চারপাশজুড়ে একই সঙ্গে চারটি খাঁজকাটা সর্পিল পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। এগুলোর প্রতিটি পিরামিডের ভিত্তির কাছাকাছি ভিন্ন ভিন্ন বিন্দু থেকে শুরু হয়েছিল। মূল কাঠামোটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এই পথগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়। তার কম্পিউটার-জেনারেটেড মডেল অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে কাজ করায় মাত্র ২৭ বছরের মধ্যে পিরামিডটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছিল।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইজিপ্টোলজির রিডার ড. রোল্যান্ড এনমার্চ বলেন, ‘পিরামিড নির্মাণের এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার ব্যাখ্যা। তবে এই তত্ত্ব প্রমাণের জন্য আরও প্রমাণের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে কোণের অংশগুলোয় স্ক্যান করে দেখতে হবে, যেখানে ঢালু পথগুলো হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, এই ব্যাখ্যা খুব যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে। গিজার গ্রেট পিরামিডটি একমাত্র পিরামিড নয়, তাই এই তত্ত্ব অন্যান্য পিরামিড কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, সে সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারে।

মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?
ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বে আমরা কত দ্রুত চলছি, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ, বিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী গতি সব সময় আপেক্ষিক। একটি বস্তুর গতি অন্য একটি বস্তুর সাপেক্ষে পরিমাপ করা হয়। তাই মহাশূন্যে আমরা ঠিক কত বেগে ভ্রমণ করছি, তা সরাসরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে পৃথিবীর অবস্থান ও ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এই গতির একটি ধারণা দিয়েছেন।

পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর প্রতিনিয়ত ঘুরছে। এই ঘূর্ণনের কারণে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের গতি তার অক্ষাংশের ওপর নির্ভর করে। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রের সাপেক্ষে এই গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আবার পৃথিবী যখন সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে, তখন তার গতি আরও বেড়ে যায়। সূর্যের কক্ষপথে পৃথিবীর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কিলোমিটার।

আমাদের সৌরজগৎ আবার স্থির নয়। এটি সেকেন্ডে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই হিসেবে সৌরজগতের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার কিলোমিটার। যেহেতু এসব গতি ভিন্ন ভিন্ন অভিমুখে কাজ করে, তাই সাধারণ নিয়মে যোগ করে মানুষের মোট গতি বের করা সম্ভব নয়।

তবে মহাবিশ্বের ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ (সিএমবি)-এর সাপেক্ষে এই গতি পরিমাপ করা সম্ভব। সিএমবি হলো বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট থাকা বিকিরণ। এই বিকিরণের সাপেক্ষে আমাদের বর্তমান গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার। এই গতিতে আমরা মহাকাশের ‘লিও’ নক্ষত্রমণ্ডলীর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

আবার ছায়াপথের কেন্দ্রের চারদিকে সূর্যের ঘূর্ণন এবং মহাবিশ্বে ছায়াপথের নিজস্ব গতির দিক প্রায় বিপরীত। ফলে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথটি ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে।

গতিটি আপাতদৃষ্টিতে অনেক বেশি মনে হলেও এটি আলোর গতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের এই গতি আলোর গতির মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশের কাছাকাছি। বিজ্ঞানের টাইম ডাইলেশন তত্ত্ব অনুযায়ী, এই গতির কারণে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের সময় কিছুটা ধীরগতির হয়। হিসাব অনুযায়ী, সিএমবি কাঠামোর তুলনায় আমাদের পৃথিবীতে সময় প্রতি বছরে প্রায় ৭ সেকেন্ড ধীরগতিতে চলে।