ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খামেনির শেষকৃত্যে মোজতবা ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অন্য ৩ ছেলে নারীর জীবনে এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার ধেয়ে আসছে নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী লাখো মানুষের ‘কষ্টের দৈর্ঘ্য’ ১৬ কিলোমিটার আমরাও হাত নোংরা করতে জানি: এমবাপ্পে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন চবিতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সামান্তা-পুলক হালান্ডকে আটকানোর কৌশল জানা আছে ব্রাজিলের হাঁড়িভাঙা আমের দেশে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন: ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণে ট্রপিক্যাল হোমস-বার্জার পেইন্টসের চুক্তি সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন ‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেকুয়ায় অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ বিএনপির মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক

মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। 

প্রত্যয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে কোনোভাবেই ধান জমা নেওয়া হচ্ছে না।

কৃষক ফারুক আহমদ অভিযোগ করেন, আমার কৃষি কার্ড আছে, আমি একজন প্রকৃত কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রও সংগ্রহ করেছি। এমনকি খাদ্য গুদাম থেকে ধান দেওয়ার জন্য বস্তাও দেওয়া হয়েছিল। সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও আমার ধান নেওয়া হয়নি। 

কৃষক মোজাম্মেল সরকার বলেন, খাদ্য গুদামে সরকারি ভ্যাট, বস্তা ও শ্রমিক খরচের কথা বলে প্রতি বস্তা ধানের জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আমি ৬৫ বস্তা ধান সরবরাহ করেছি। সে হিসেবে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

কৃষক সুদর্শন চন্দ্র জানান, খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে তাকে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অন্য কৃষকদের কাছ থেকেও আরও বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অথচ প্রকৃত কৃষকরা সব ধরনের কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ধান বিক্রি করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা খোলা বাজারে কম দামে ধান বিক্রি করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খালেদা আক্তার বলেন, ৭৫ মণ ধান বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ভ্যাট বাবদ ৫৪০ টাকা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার বিধান নেই। যদি কেউ এর বাইরে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৩০০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ৪০০ জন কৃষককে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভ্যাট (আইটি) ছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না। কোনো কৃষক যদি অফিস সহকারীকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম আহমেদ জানান, কৃষি অফিসের প্রত্যয়নের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের থেকেই ধান নিতে হবে, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাহাদাত হোসেন/অদিতি/

গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
গোপালগঞ্জে ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা
ছবিঃ খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে পাট চাষে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল পাটের জাত ‘বিনা তোষাপাট-১’।

চলতি মৌসুমে এই নতুন জাতের পাটের বাম্পার ফলন এবং মানসম্মত বীজ উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। 

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশেই এই জাতের পাটের বীজ উৎপাদন করলে একদিকে যেমন কমবে আমদানি নির্ভরতা, অন্যদিকে ভারতীয় বীজ কেনা বাবদ দেশের অন্তত ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। 

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুচিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সমীর মজুমদার। বিগত কয়েক বছর ধরে বাজার থেকে বীজ কিনে করছিলেন পাটের চাষ। তবে সার, কীটনাশক ও সেচ দিয়েও সেসব বীজ থেকে আশানুরূপ ফলন পাননি তিনি। ফলে গুণতে হয়েছিল লোকসান। এরপর বিনা উপকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে পাটের বীজ নিয়ে নিজের তিন বিঘা জমিতে আবাদ করেন ‘বিনা তোষাপাট-১’। এবছর তার জমির পাট অনেক ভালো হয়েছে। ফলে এ বছর লাভের আশা দেখছেন তিনি।   

শুধু সমীর মজুমদার নয়, আরও ২৫জন কৃষক বিনা উপকেন্দ্র থেকে পাটের বীজ নিয়ে রোপন করছেন। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি তারা।  

প্রচলিত অন্যান্য জাতের তুলায় ‘বিনা তোষাপাট-১’ লম্বায় বড় হওয়ার পাশাপশি এতে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ অনেক কম। এ জাতের আঁশের ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.২ টন থেকে প্রায় ৪ টন। এই পাটের জীবনকাল মাত্র ১০০ থেকে ১০৭ দিন হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। 

প্রতি বছর তোষাপাটের বীজের জন্য একটি বড় অংশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। এছাড়া সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ না পাওয়া এবং চড়া মূল্যের কারণে প্রায়শই প্রান্তিক কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়েন। 

‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাট থেকে হেক্টর প্রতি প্রায় ১ হাজার কেজি বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। সেই সাথে পাটের পাতার ক্লোরোফিল এর ঘনত্ব বেশি থাকায় এই জাতের পাটের আঁশ ও বীজ উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা অর্থিকভাবে লাভবান হবেন। 

কৃষকরা যদি নিজেদের প্রয়োজনীয় বীজ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারেন, তবে বিদেশ থেকে পাটবীজ আমদানির আর প্রয়োজন হবে না। 

বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ‘বিনা তোষাপাট-১’ এর চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিনা উপকেন্দ্র গোপালগঞ্জে মাঠ দিবসের আয়োজন করে। 

মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রহমান। 

বিনা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে বিনা ময়মনসিংহের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুননবী মজুমদার, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: হাবিবুর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তারসহ কৃষি কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।  

সুচিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাজী শাবান বলেন, বিগত দিনে বিভিন্ন ধরনের পাট বীজ রোপন করে লোকসানের মুখোমুখি হয়েছি। তাই এবার বিনার কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাটের আবাদ করেছি। বর্তমানে ক্ষেতের পাটের ফলন ব্যাপক হয়েছে। পাট গাছ লম্বা হয়েছে ও আঁশ ও অনেক মোটা হয়েছে। আশা করি এবার লাভবান হবো।   

সুকতাইল ইউনিয়নের ১নং ইউপি সদস্য মান্নান শেখ মান্নু বলেন, ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের পাট অনেক ভালো হয়েছে। এতে কৃষকেরা আগামী মৌসুমেও এই জাতটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। 

বিনা উপকেন্দ্র, গোপালগঞ্জ এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাত একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। ৫২ শতাংশের বিঘায় অন্যান্য জাতের তুলনায় ৪ থেকে ৫ মন ফলন বেশি হয়। তাই আমরা কৃষকদের ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাত চাষে পরামর্শ দিচ্ছি এবং বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করছি। এ জাতের পাটের জীবনকাল মাত্র ১০০ থেকে ১০৭ দিন। ফলে কৃষকরা তাদের ফসল আগাম ঘরে তুলতে পারবেন, সেই সাথে একই জমিতে আরো ৪টি ফসল করতে পারবে।    

বিনা ময়মনসিংহ এর উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বলেন, এক সময় যখন পাটের দুর্দিন চলছিলো তখন গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের কৃষকদের জন্য ভারত থেকে বীজ আনা হতো। এ জাতের পাট চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাট বীজের আমদানি নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় আসার পাশাপশি ১০০ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।   

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ২৫ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ পাটের বীজ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এতে অনেক সময় পাটের বীজের মান ভালো থাকে না। ফলে এ বছর বিনার পক্ষ থেকে “বিনা তোষাপাট-১” জাতের বীজ কৃষকদের দেয়া হয়। অন্যান্য জাতের তুলনায় এই জাতের পাট ভালো হয়েছে।  

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ‘বিনা তোষাপাট-১’ জাতের বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে দেশের সোনালী আঁশের গৌরব ফিরে আসবে বলেও মনে করেন তিনি। পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমবে ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

বাদল সাহা/অদিতি/

ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন, গাছের চারা, মরিচ এবং শাক-সবজি আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার বীজ বিতরণের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকদের মাঝে কৃষিপণ্য বিতরণ করা হয়ে।

কৃষিপণ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমাদুল হাসান। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পর্যায়ক্রমে ৪ হাজর ৬৪৪ জনের কৃষক মাঝে বিতরণ করা হবে।

বীজ ও সার সহায়তা হিসাবে প্রত্যেক কৃষক পাবেন ডিএপি-১০ কেজি, এমওপি-১০ কেজি ও ধানের বীজ ৫ কেজি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান। এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মমতাজ বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো.মনোয়ার হোসেন, সুষ্মি সাহা, বিআরবি চেয়ারম্যান হারুন অররশিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েল রানা/এএফ

গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী কৃষি-প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী কৃষি-প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন
ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ মেলার আয়োজন করে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ১২টি স্টল করা হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত মেলা চলবে। এতে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও পৌরসভার শতাধিক কৃষক অংশ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড়, কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার বক্তব্য রাখেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষির বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই পুরনো কৃষি ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে স্মার্ট কৃষিতে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।'

বাদল সাহা/তামান্না রুপা/

ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের
ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় কৃষক আবুল কালামের সবজির জমি। ছবি: খবরের কাগজ

ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে আধুনিক কৃষির এক অনন্য দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। সেখানে মালচিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় সফল চাষী আবুল কালাম।

মাত্র ২০ শতাংশ জমি দিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ করছেন। সনাতন পদ্ধতিকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহারে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে এসেছে আশাতীত অর্থনৈতিক সাফল্য।

আবুল কালাম কেবল নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেননি, সৃষ্টি করেছেন অন্যের কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তার সবজি ক্ষেতে প্রতিদিন ৬০০ টাকা হাজিরায় নিয়মিত কাজ করছেন আরও ছয়জন কৃষক। আধুনিক ও নিরাপদ সবজি চাষে তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো ধামরাইয়ের কৃষকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন অনেক বেশি হয়। এই প্রযুক্তিতে চাষাবাদে খরচ কম কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, মালচিং পদ্ধতিতে ‘গ্যাপ ফসলে পার্টনার সিস্টেম’ ব্যবহার করে একই জমিতে আরও বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগ জানায়, মালচিং পেপার ব্যবহারের কারণে জমিতে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। পাশাপাশি সঠিক সময়ে সেচ ও জৈব সার প্রয়োগের ফলে সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্থানীয় কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাটির ওপর মালচিং পেপার বিছানোসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব সার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আবুল কালাম বলেন, ২০ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতায় বর্তমানে তিনি ১২ বিঘা জমিতে কৃষি আবাদ করছেন। প্লাস্টিক মালচিং পেপার দিয়ে জমি ঢেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তিনি জমির  বিভিন্ন অংশে পরিকল্পিতভাবে চাষ করেছেন নানা ধরনের সবজি। ​করলা, শশা ​,ধুন্দল ​ও লাউ চাষ করে লাভবানও হয়েছেন তিনি। এবার সবজি চাষে সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, নরমাল পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক ​মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জমিতে আগাছা জন্মাতে পারছে না, মাটির আর্দ্রতা সঠিকভাবে বজায় থাকছে এবং সার ও সেচের অপচয় অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে পদ্ধতিগত চাষাবাদ এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণে প্রতিটি ফসলের গাছই বেশ সতেজ এবং ভালো ফলন দিচ্ছে। তার এমন চাষ দেখে অনেক শিক্ষিত যুবকও সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। 

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জামান বলেন, “গতবার আবুল কালাম দুটি জমিতে করলা চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মালচিং ছাড়া জমি থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করলেও, আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা জমি থেকে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেন। এই পদ্ধতিতে খরচ ও পোকার আক্রমণ কম, কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি।”

ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আরিফুল ইসলাম বলেন, “নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষক আবুল কালামের প্রজেক্টে আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার নিশ্চিত করেছি, এমনকি তাকে জৈব সার তৈরি করাও শিখিয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই জমিতে ধূমপান ও পানাহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের হ্যান্ডগ্লাভস ও নির্দিষ্ট পোশাক পরে কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়া সুরক্ষার জন্য পুরো জমি নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “মালচিং ও পার্টনার পদ্ধতিতে একই জমিতে সারাবছর কীভাবে বেশি লাভজনক ও নিরাপদ ফসল ফলানো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আবুল কালামের মতো কৃষকদের মাধ্যমে আমরা বেকার শিক্ষিত যুবকদেরও কৃষিতে উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করছি।”

রুহুল/এএফ

সোনারগাঁয় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
সোনারগাঁয় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় বিনামূল্যে বীজ, সার, গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা কৃষি অফিস মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। 

পরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ’কৃষক দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের সুফল যেন প্রকৃত কৃষকেরা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে আউশ ও আমন ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি অধিক ফলন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. জফলুল হক (ফজলু) মেম্বার এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. অলিউল্লাহ খান।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের হাতে বীজ, সার, গাছের চারা ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

 ইমরান/খাদিজা রুমি/