পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গার খামারিরা। জেলার বিভিন্ন খামার ও গ্রামীণ পরিবারে দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু।
তবে এবার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। বিশেষ করে বড় গরুর আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৬টি গরু, ১১৬টি মহিষ, ১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি ছাগল এবং আড়াই হাজার ভেড়া। জেলার সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি পশু। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
ঈদ সামনে রেখে এখন পশু হাটে তোলার প্রস্তুতি ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে খামারিদের। তবে এবার তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে তাদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে পশুকে সুস্থ রাখতে ফ্যান চালানো, পানি ছিটানো ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করতে হওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খামারি শাহীন বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা ১৫০ থেকে ২০০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা খামারে আসেন গরু কিনতে। গরু দেখতে সুন্দর ও সুস্থ হওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। কিন্তু এবার অনেক ক্রেতাই কসাইখানার গরুর মতো কম দাম বলছেন। পরিচর্যা ও লালন-পালনের খরচের তুলনায় সেই দাম খুবই কম।’
খামারে কর্মরত শামসুল আলম বলেন, গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পশুর বাড়তি যত্ন নিতে হয়েছে। সারাক্ষণ ফ্যান চালানো, পানি ছিটানো ও খাবারের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়েছে। এতে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি শ্রমও বেশি দিতে হয়েছে।’
এদিকে পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের বাড়তি বিল ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় পশু পালন ব্যয় অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। তাই বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক আ হা ম শামিমুজ্জামান বলেন, ‘জেলার প্রায় ১০ হাজার খামারি এবার ২ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে, যেন তারা সুস্থ ও নিরাপদ পশু সহজে বাজারজাত করতে পারেন।’