আক্ষরিক অর্থে না হলেও রূপকভাবে চাঁদে পৌঁছানোর সুযোগ এসেছে! নাসা মানুষকে ইতিহাসের অংশ হওয়ার জন্য ছোট কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ একটি সুযোগ দিচ্ছে।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা বিশ্বজুড়ে মানুষকে একটি সাইন-আপের মাধ্যমে আসন্ন আর্টেমিস-II মিশনে নাম পাঠানোর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত এই মিশনটি চারজন নভোচারীকে চাঁদের চারপাশে ১০ দিনের ভ্রমণে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গেই ওরিয়ন মহাকাশযানের ভিতরে একটি মেমোরি কার্ডে জনসাধারণের জমা দেওয়া হাজার হাজার নাম থাকবে।
যে কেউ এই পদক্ষেপের অংশ হতে পারবেন; এমনকি আপনি আপনার বন্ধুবান্ধব, পরিবার বা পোষা প্রাণীর নামও যোগ করতে পারবেন।
ওরিয়নের মেমোরি কার্ডে নাম যুক্ত করার জন্য, নাসা go.nasa.gov/artemisnames নামের যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে তাতে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত নাম নিবন্ধন করা যাবে।
go.nasa.gov/artemisnames নাসার নামের এই সাইটে একবার সাইন আপ করলে, নাসা আপনাকে স্মারক হিসেবে একটি ডিজিটাল "বোর্ডিং পাস" ডাউনলোড করতে দেবে। সেখানেই নিজের নাম যুক্ত হয়ে যাবে।
এ সম্পর্কে নাসার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বিস্তারিত লেখা আছে।
আর্টেমিস II মিশন ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে শুরু হচ্ছে। আর্টেমিস II ক্রুতে নাসার মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কোচের পাশাপাশি কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেনও রয়েছেন। তারা ইতিহাসের প্রথম মানুষ হতে চলেছেন যারা শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেট এবং ওরিয়ন মহাকাশযানে চড়ে উড়বেন।
তারা ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণ এবং মঙ্গল গ্রহে অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সিস্টেম পরীক্ষা করবেন।
উড্ডয়ন পরিকল্পনায় মহাকাশযানটি চাঁদের দূরবর্তী অংশের চারপাশে চিত্র-আট পথ ঘুরে পৃথিবী থেকে ২৩০,০০০ মাইলেরও বেশি দূরে ভ্রমণ করবে। ওরিয়ন চাঁদের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে প্রায় ৪,৬০০ মাইল দূরে উড়ে ফিরে আসবে।
মিশনটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে দ্রুতগতিতে পুনঃপ্রবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। তারপর সান দিয়েগোর কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি স্প্ল্যাশডাউন হবে। পরে নাসা এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের পুনরুদ্ধার দলগুলো ক্রু এবং ক্যাপসুলকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনবে।
সুলতানা দিনা/