ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ গোলহীন প্রথমার্ধে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ১৬ বছরের জট খুলল স্পেনের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশে পরিবর্তন শেষ ষোলোতে স্পেনের প্রতিপক্ষ কারা? আর্জেন্টিনাকে কেপ ভার্দে কোচের হুঁশিয়ারি অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী কেন বাতিল হলো কুকুরেয়ার গোল? ওয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে বিরতিতে স্পেন স্পেন-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১ ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান

চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল
ছবি সিএমজি বাংলা

প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে চীনা উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ চাং চেংথাও  দীর্ঘদিনের রোবটিক্স গবেষণাকে ব্যবহারিক উদ্ভাবনে রূপ দিয়েছেন। দক্ষ শিল্প রোবট থেকে শুরু করে দর্শকদের নজর কেড়ে নেওয়া একটি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যান্ড—সবই তার প্রতিষ্ঠিত চোংখে হুইলিং রোবটিক্সের উদ্ভাবনের অংশ।

প্রতিষ্ঠানটির রোবট ব্যান্ড ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ড্রামস, কিবোর্ড, লিড গিটার ও বেস গিটার নিয়ে গঠিত এই ব্যান্ডের পরিবেশনার পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম গতিনিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত পরিচালনা এবং দেহধারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বহু বছরের গবেষণা।

চাংয়ের মতে, রোবট ব্যান্ড তার বৃহত্তর স্বপ্নের একটি ছোট অংশ মাত্র। রোবটিক্স গবেষক হিসেবে তিনি ২০২৩ সালে চোংখে হুইলিং রোবটিক্স প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে গবেষণাগারের প্রযুক্তিকে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করা যায়।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এসব প্রযুক্তি উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে জুতা তৈরির কারখানায় দক্ষ হাতযুক্ত রোবটগুলো মানুষের কাজ পর্যবেক্ষণ করে সূক্ষ্ম সংযোজনের কৌশল শিখছে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করছে। সূত্র: সিএমজি

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট
ছবি সিসিটিভি।

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পের জন্য তৈরি উচ্চ-তাপমাত্রার একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা চুম্বকের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এই মাইলফলকটি পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করল।

চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই ফিউচার সায়েন্স সিটিতে অবস্থিত ‘বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ নামের একটি ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রের জন্য এই ম্যাগনেটটি তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় একে বলা হয় ‘সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট’। বিজ্ঞানীরা একে গাড়ির ইঞ্জিনের ‘স্পার্ক প্লাগ’-এর সাথে তুলনা করছেন। এটি প্লাজমার মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালনা করে ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ম্যাগনেটটি ৬০ কিলোঅ্যাম্পিয়ার স্থিতিশীল বৈদ্যুতিক প্রবাহ বহন করতে সক্ষম এবং এটি ৬ দশমিক শূন্য ৩ মেগাজুল শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় বিশ্বজুড়ে অর্জিত সাফল্যের মধ্যে এর মূল কর্মক্ষমতা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা ফিজিক্স ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিন চিংকাং বলেন, সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট হলো সবচেয়ে জটিল অপারেটিং কন্ডিশনের একটি যন্ত্র। এর কর্মক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে ফিউশন ডিভাইসটি চালু থাকবে কি না এবং স্থিতিশীল থাকবে কি না। এটিই সেই মূল উপাদান, যা ফিউশনকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে ব্যবহারিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্ধারণকারী ভূমিকা পালন করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘এই ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রটির নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যেই এর মাধ্যমে পারমাণবিক ফিউশন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন। সূত্র: সিএমজি

প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?
ছবি: সংগৃহীত

পোষা প্রাণীর মৃত্যু সব সময় কষ্টদায়ক। অনেকে মনে করেন,  মৃত্যু সম্পর্কে কেবল মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববিজ্ঞানে মৃত্যু একটি সর্বজনীন বিষয়। অনেক প্রাণী তাদের সঙ্গীর মৃত্যুতে নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর প্রাণীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ওরাল মেলানোমায় আক্রান্ত হয়ে কুকুরটির মৃত্যুর পর তিনি অন্য কুকুরদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

মৃত্যুর সবচেয়ে প্রাথমিক ধারণা হলো একটি প্রাণী বুঝতে পারে যে, অন্য প্রাণীর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে এবং সে আর ফিরে আসবে না। প্রাণিজগতে সঙ্গীর মৃত্যুতে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু প্রাণী বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে মরার ভান করে। যেমন–ওপোসাম নামের প্রাণী শিকারির হাত থেকে বাঁচতে এই কৌশল নেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় থ্যানাটোসিস বলা হয়। কিছু পাখি, সাপ ও কীটপতঙ্গের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়।

গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যেও শোক প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, কাছের সঙ্গী কুকুর বা বিড়ালের মৃত্যুতে অনেক সময় বিড়াল খাওয়া, ঘুমানো বা বিচরণ কমিয়ে দেয়। ডলফিনের মতো সামুদ্রিক প্রাণীরা মৃত শাবকের প্রতি গভীর মনোযোগ দেখায় এবং দিনের পর দিন তাদের বহন করে। ২০১৮ সালে একটি স্ত্রী অর্কা তার মৃত শাবককে ১৭ দিন ধরে বহন করেছিল। এছাড়া হাতি, প্রাইমেট এবং পাখিদের মধ্যেও মৃত সঙ্গীর প্রতি মানুষের মতো শোক প্রকাশের আচরণ করতে দেখা গেছে।

সব প্রাণীর প্রতিক্রিয়া আবেগতাড়িত নয়। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি কেবলই বেঁচে থাকার তাগিদ। যেমন–মৌমাছিরা মৃত সঙ্গীর গন্ধ বা মরদেহ থাকা ফুল এড়িয়ে চলে। মূলত শিকারির হাত থেকে বাঁচতে তারা এমন আচরণ করে। আবার লাল পিঁপড়ারা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে মৃত সঙ্গীদের বাসা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলে। এগুলো তাদের সম্পূর্ণ সহজাত আচরণ। অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিদের মতো উন্নত বুদ্ধিমত্তার প্রাণীর আচরণ অনেকটা মানুষের শোকের কাছাকাছি। তারা মৃত সঙ্গীর শরীর পরিষ্কার করে ও শাবকের মরদেহ দীর্ঘ সময় আগলে রাখে।

গবেষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর নিজের অন্য কুকুরদের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মৃত কুকুরটিকে ঘাসের ওপর রাখার পর দেখেন, অন্য কুকুরগুলো সেটিকে শুঁকে দেখে চলে গেলেও বার্টি নামের একটি কুকুর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মৃত সঙ্গীর পাশে বসে ছিল। সে তার বন্ধুকে শুঁকে ও চেটে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, প্রাণীরাও নিজেদের মতো করে মৃত্যু উপলব্ধি করতে পারে। মানুষের মতো হয়তো তাদের শোক প্রকাশের ভাষা নেই, তবে সঙ্গীর মৃত্যুতে তাদের সামাজিক ও মানসিক আচরণে পরিবর্তন আসে।

যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড
ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন মিসরীয়দের তৈরি গিজার গ্রেট পিরামিড আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির অভাব সত্ত্বেও কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, তা কয়েক দশক ধরে গবেষকদের বিস্মিত করেছে। তবে সম্প্রতি এই রহস্যের সমাধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষক ভিসেন্তে লুইস রোসেল রোইগ। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় তিনি গাণিতিক প্রমাণসহ দেখিয়েছেন যে, পিরামিডটি তৈরিতে একটি বিশেষ সর্পিল ও খাঁজকাটা র‍্যাম্প বা ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিশাল এই কাঠামোটি খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৬০ অব্দে মিসরের ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। এটি মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিড। এতে আনুমানিক ২৩ লাখ পাথরের ব্লক রয়েছে, যার প্রতিটির ওজন আড়াই থেকে ১৫ টন। ফারাও খুফুর ২৭ বছরের শাসনকালের মধ্যে এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ শেষ করতে হলে গড়ে প্রতি তিন মিনিটে একটি করে পাথর স্থাপন করতে হতো। এই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে এত বড় কাঠামো তৈরি সম্ভব হলো, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

কিছু গবেষকের মতে, পাথর ওপরে তোলার জন্য পিরামিডের বাইরে ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের পথ তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণ উপকরণের প্রয়োজন হতো এবং এর কোনো স্পষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অন্য একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, পিরামিডের ভেতরে একটি সর্পিল পথ তৈরি করা হয়েছিল, যা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওপর থেকে নিচে ভরাট করে দেওয়া হয়। কিন্তু রোইগের গাণিতিক মডেল বলছে, মাত্র একটি পথ ব্যবহার করে পিরামিডটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় অর্ধশতক সময় লেগে যাওয়ার কথা।

এর পরিবর্তে রোইগ দাবি করেন, পিরামিডের চারপাশজুড়ে একই সঙ্গে চারটি খাঁজকাটা সর্পিল পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। এগুলোর প্রতিটি পিরামিডের ভিত্তির কাছাকাছি ভিন্ন ভিন্ন বিন্দু থেকে শুরু হয়েছিল। মূল কাঠামোটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এই পথগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়। তার কম্পিউটার-জেনারেটেড মডেল অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে কাজ করায় মাত্র ২৭ বছরের মধ্যে পিরামিডটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছিল।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইজিপ্টোলজির রিডার ড. রোল্যান্ড এনমার্চ বলেন, ‘পিরামিড নির্মাণের এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার ব্যাখ্যা। তবে এই তত্ত্ব প্রমাণের জন্য আরও প্রমাণের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে কোণের অংশগুলোয় স্ক্যান করে দেখতে হবে, যেখানে ঢালু পথগুলো হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, এই ব্যাখ্যা খুব যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে। গিজার গ্রেট পিরামিডটি একমাত্র পিরামিড নয়, তাই এই তত্ত্ব অন্যান্য পিরামিড কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, সে সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারে।

মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?
ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বে আমরা কত দ্রুত চলছি, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ, বিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী গতি সব সময় আপেক্ষিক। একটি বস্তুর গতি অন্য একটি বস্তুর সাপেক্ষে পরিমাপ করা হয়। তাই মহাশূন্যে আমরা ঠিক কত বেগে ভ্রমণ করছি, তা সরাসরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে পৃথিবীর অবস্থান ও ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এই গতির একটি ধারণা দিয়েছেন।

পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর প্রতিনিয়ত ঘুরছে। এই ঘূর্ণনের কারণে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের গতি তার অক্ষাংশের ওপর নির্ভর করে। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রের সাপেক্ষে এই গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আবার পৃথিবী যখন সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে, তখন তার গতি আরও বেড়ে যায়। সূর্যের কক্ষপথে পৃথিবীর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কিলোমিটার।

আমাদের সৌরজগৎ আবার স্থির নয়। এটি সেকেন্ডে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই হিসেবে সৌরজগতের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার কিলোমিটার। যেহেতু এসব গতি ভিন্ন ভিন্ন অভিমুখে কাজ করে, তাই সাধারণ নিয়মে যোগ করে মানুষের মোট গতি বের করা সম্ভব নয়।

তবে মহাবিশ্বের ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ (সিএমবি)-এর সাপেক্ষে এই গতি পরিমাপ করা সম্ভব। সিএমবি হলো বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট থাকা বিকিরণ। এই বিকিরণের সাপেক্ষে আমাদের বর্তমান গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার। এই গতিতে আমরা মহাকাশের ‘লিও’ নক্ষত্রমণ্ডলীর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

আবার ছায়াপথের কেন্দ্রের চারদিকে সূর্যের ঘূর্ণন এবং মহাবিশ্বে ছায়াপথের নিজস্ব গতির দিক প্রায় বিপরীত। ফলে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথটি ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে।

গতিটি আপাতদৃষ্টিতে অনেক বেশি মনে হলেও এটি আলোর গতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের এই গতি আলোর গতির মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশের কাছাকাছি। বিজ্ঞানের টাইম ডাইলেশন তত্ত্ব অনুযায়ী, এই গতির কারণে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের সময় কিছুটা ধীরগতির হয়। হিসাব অনুযায়ী, সিএমবি কাঠামোর তুলনায় আমাদের পৃথিবীতে সময় প্রতি বছরে প্রায় ৭ সেকেন্ড ধীরগতিতে চলে।

অ্যানিমেশনের ক্যানভাসে পাহাড় জয়ের গল্প

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
অ্যানিমেশনের ক্যানভাসে পাহাড় জয়ের গল্প
ছবি: খবরের কাগজ

রূপকথার গল্পের মতো কল্পনা আর বাস্তবতার মিশেলে তৈরি অ্যানিমেশনের জগতটা কেমন হয়। সেই জগতের খোঁজ দিতেই রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় শুরু হলো এক দারুণ প্রদর্শনী।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় ‘দ্য সেকেন্ড স্টুডিও’ নামে এক তরুণ শিল্পগোষ্ঠীর আয়োজনে লা গ্যালারিতে পর্দা উঠল ‘দ্য সেকেন্ড স্টুডিও ফিচারিং বেস্ট শো এভারেস্ট’-এর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অনেক শিল্পী, শিক্ষার্থী আর অ্যানিমেশন ভালোবাসেন এমন সব মানুষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব এবং বাংলাদেশে ফ্রান্স দূতাবাসের সাংস্কৃতিক অ্যাটাশে মঁসিয়ে বাতিস্ত ল্যব্রে।

প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে শিল্পী ঐশিক জাওয়াদ, জুনায়েদ ইকবাল ইশমাম এবং রাকিব রাজ্জাকের নানা সৃজনশীল কাজ। অ্যানিমেটেড সিরিজের গল্প, ভিডিও গেম, স্কেচ আর ছবি- কীভাবে একটি আইডিয়া থেকে দারুণ সব কাজ তৈরি হয়, তা এখানে সরাসরি দেখা যাচ্ছে।

প্রদর্শনীর অন্যতম মূল আকর্ষণ ‘বেস্ট শো এভারেস্ট’। মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের বাস্তব অভিজ্ঞতায় অনুপ্রাণিত এই অ্যানিমেটেড মিনিসিরিজটির পাইলট পর্ব প্রদর্শনের মাধ্যমেই সূচনা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বন্ধুত্ব, সাহস আর অ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে নির্মিত এই প্রজেক্টের কনসেপ্ট আর্ট ও সেট ডিজাইন দর্শকদের নিয়ে যাচ্ছে কল্পনার এক উচ্চতায়।

পাশাপাশি ঢাকা শহরের নারীদের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৈরি ইনফিনিট রানার ভিডিও গেম ‘ঢাকা সারভাইভার’ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়ার সক্ষমতাকে নতুন করে জানান দিচ্ছে। এছাড়াও ‘ইএমকে অ্যানিমেশন কার্নিভাল’-এর প্রমোশনাল কাজ এবং অসমাপ্ত প্রকল্প ‘আনটাইটেলড অ্যান্ড ক্যানসেলড প্রজেক্ট: কমিকস মেলা’-র স্কেচগুলো সৃজনশীল প্রক্রিয়ার বাস্তব সীমাবদ্ধতাকেও তুলে ধরেছে শিল্পীদের কণ্ঠে।

আগামীকাল শুক্রবার থাকছে ‘মিট দ্য সেকেন্ড স্টুডিও’; যেখানে শিল্পীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়। শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত হবে ‘সেকেন্ড স্টুডিও ব্যাকইয়ার্ড সেশন’। এটি মূলত শিল্পী ও অ্যানিমেশনপ্রেমীদের একটি মিলনমেলা। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ফ্র্যাঙ্কলিনের গানের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই প্রদর্শনী।  শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীর দুয়ার খোলা থাকবে সবার জন্য।

জয়ন্ত সাহা/ আমান