ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পদ্মফুলের গল্পে ভিজুক বর্ষা ফ্রান্সের কাছে হেরেও গর্বিত প্যারাগুয়ে কোচ সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা পেকুয়ায় টমটমের ধাক্কায় নিহত ১ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নিন ‘মাঠে মরতে হলেও প্রস্তুত’, নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রুনো গুইমারায়েস উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা দিতে না পারা দুঃখজনক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেকুয়ায় অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ বিএনপির মতলবে সরকারি ধান বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নরসিংদীতে মন্দিরের উন্নয়নের সরকারি টাকা লোপাট, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা পড়ে পাওয়া গল্পের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩০ পল্লবীতে সন্ত্রাসী ‘রেড মুন্না’ গ্রেপ্তার সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক করতে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: রাষ্ট্রপতি উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ জন গ্রেপ্তার ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ রাজধানীজুড়ে একদিনে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৮ জুনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৪৩৮, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে বেশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় শি জিনপিং ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী নিউইয়র্কে পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শতভাগ ফিট না হলেও নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে রাফিনহা হাতিয়ায় রুপালি ইলিশের আকাল, শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শোকযাত্রায় লাখ লাখ মানুষের ঢল এবং তাদের বাঁধভাঙা কান্না দেখে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের রাজপথে শোকার্ত মানুষের এই আবেগ মার্কিন প্রশাসনের হিসাব-নিকাশকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি বেশ কিছুদিন পিছিয়ে যায়। অবশেষে তেহরানে যখন এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন সেখানে লাখ লাখ ইরানি নাগরিকের উপস্থিতি এবং তাদের তীব্র ক্ষোভ ও কান্নার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

মার্কিন প্রশাসনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, ইরানের সাধারণ মানুষ তাদের ধর্মতান্ত্রিক সরকারের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। কিন্তু জানাজার বিশাল জনসমুদ্র ট্রাম্পের সেই ধারণাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

জানাজার ফুটেজ দেখার পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল এমন -'আমি দেখলাম সেখানে লাখ লাখ মানুষ কাঁদছে। তারা যেভাবে শোক প্রকাশ করছে, তা সত্যিই নজিরবিহীন এবং আমার জন্য বিস্ময়কর। আমরা ভেবেছিলাম ইরানের মানুষ এই শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি চায়, কিন্তু রাজপথের এই চিত্র সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে।'

অবশ্য এই বিস্ময় প্রকাশের পাশাপাশি ট্রাম্প নিজের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর তীব্র অভিযানের ফলেই ইরান আজ এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

আজহার/

বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩০

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম
বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩০
ছবি: সংগৃহীত।

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

সংগঠনটির দাবি, হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৩০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

শানিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএ জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান কোস্ট গার্ড ক্যাম্পে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।

সংগঠনটির দাবি, তাদের মজিদ ব্রিগেডের সদস্য আতাউল্লাহ বেলুচ ওরফে আজমল নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে বিস্ফোরকভর্তি গাড়িটি ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান। এটি ছিল একটি সুইসাইড ভেহিকল-বোর্ন ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস হামলা, যা একটি সমন্বিত অভিযানের অংশ।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায় মহাসড়কের সাথেই অবস্থিত ক্যাম্পটি হঠাৎ বিস্ফোরণে উড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ দাবি করেন, বিস্ফোরণের ফলে কোস্ট গার্ডের ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ভাষ্য, হামলার পর সংগঠনের ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্যাম্পে চারদিক থেকে আক্রমণ চালায়।

বিএলএর দাবি, হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৩০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বহু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা সদস্যদের কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত চলমান। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও বেড়েছে।

এএফ/

ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটো সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

ক্রেমলিন ও জেলেনস্কি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ হিসেবে শনিবার (৪ জুলাই) এই ফোনালাপ হয়। এতে ইউক্রেনের যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রুশ বার্তাসংস্থা রিয়া নভোস্তির বরাত দিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, ‘দুই প্রেসিডেন্ট ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।’ 

তিনি জানান, প্রায় ৮৫ মিনিটের ফোনালাপে দুই নেতা ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।

এর আগে শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তারও ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি এ ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমি যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে এ আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।’

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পসহ ৩২টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং প্রতিনিধিদল আঙ্কারায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, পুতিন ট্রাম্পকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, রুশ বাহিনী সেখানে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।

তবে বাস্তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সম্মুখযুদ্ধে রুশ বাহিনী তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। মূলত ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ভারী সামরিক যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উভয় পক্ষই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মস্কো পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে, তবে কিয়েভ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তামান্না রুপা/

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় শি জিনপিং
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী, সুদৃঢ়  ও স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। 

রবিবার (৫ জুলাই) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানায়।

জুন মাসে সি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরে দুই নেতার মধ্যে এ বার্তা বিনিময় হয়। এ সফরে তারা কোরিয় উপদ্বীপে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেন।

কেসিএনএর খবরে বলা হয়, ১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর জন্য কিম জং উনকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান শি জিনপিং।

এ বার্তায় চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, কিমের শুভেচ্ছা বার্তা থেকে উত্তর কোরিয়ার নেতা, দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জনগণের পক্ষ থেকে চীনের প্রতি আন্তরিক ও উষ্ণ অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।

তিনি বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টি- উভয়ই মার্কসবাদী আদর্শে পরিচালিত ক্ষমতাসীন দল। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশ স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে একে অপরের পাশে থেকেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে এগিয়ে নিতে এক সঙ্গে কাজ করেছে।

এ ছাড়াও পিয়ংইয়ং সফরের প্রসঙ্গ তুলে শি জিনপিং কিমের আন্তরিক ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্যও ধন্যবাদ জানান।

এ দিকে, উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য পিয়ংইয়ং সৈন্য ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে, এসবের মধ্যেও চীনই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই চীনের সঙ্গে হয়েছে।

থিওটোনিয়াস/

খামেনির শোকসভায় প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে ইরান!

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
খামেনির শোকসভায় প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে ইরান!
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য তেহরানে বড় আকারের গণশোকসভা শুরু হয়েছে, যেখানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং তার হত্যার প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে।

প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানকে শাসন করার পর, ৮৬ বছর বয়সি খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা শোকসভাস্থলে এবং অন্যান্য গণসমাবেশে লাল পতাকা দেখা গেছে, যা সাধারণত শাহাদাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও শিয়া ইসলামে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক স্লোগান ছিল ‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে’।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই সর্বোচ্চ নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ ধর্মীয় কমপ্লেক্সের ভেতরে জড়ো হয়েছিলেন। তখন ইসলামিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য পুরুষ ও নারীদের একটি বড় প্রতিবন্ধক দিয়ে আলাদা করা হয়েছিল। এ ছাড়াও কমপ্লেক্সের চারপাশে  ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’ উচ্চস্বরে বাজছিল।

কড়া নিরাপত্তা

রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে এবং বিদায় অনুষ্ঠানগুলোর আশেপাশের এলাকায় সাঁজোয়া যান, মেশিনগান ও স্নাইপারদের দেখা গেছে।

এ ছাড়াও শোকসভায় প্রবেশের সময় পুরুষদের দেহ তল্লাশি করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়ার ব্যাংক, ইয়ারফোন ও লাইটারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মিছিল

আগামীকাল সোমবার মিছিলের মাধ্যমে খামেনির মরদেহ তেহরানের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে তার নিজ বাড়িতে দাফনের আগে, মরদেহটি কোম, নাজাফ এবং কারবালাসহ শিয়াদের কয়েকটি পবিত্রতম স্থান অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার জনসমক্ষে এসে আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক আহমদ ভাহিদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘শত্রুরা আমাদের আত্মসমর্পণের যে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, তা যেন তারা কবরে নিয়ে যায়। শত্রুদের অবশ্যই জানতে হবে, বিশ্বব্যাপী কাফের শক্তির বিরুদ্ধে প্রিয় ইসলামের বিজয়ের পথে আমাদের শহিদ ইমামের পবিত্র রক্ত ​​ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।’

উল্লেখ্য, মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তার বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও যোগ দেবেন না বলে শোনা যাচ্ছে।

থিওটোনিয়াস/

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল
৪ জুলাই ম্যারিল্যান্ডের নিউ ক্যারোলটন অঞ্চলের একটি মেট্রো স্টেশন থেকে বের হচ্ছেন 'প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট' গোষ্ঠীর সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই দেশটির রাজধানীজুড়ে ধারাবাহিক মিছিলের আয়োজন করেছে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী 'প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট'-এর সদস্যরা। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই সাদা কাপড়ের মাস্ক এবং সানগ্লাস পরে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন।

স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, খাকি প্যান্ট, খাকি বেসবল ক্যাপ এবং গাঢ় নীল শার্ট পরা পুরুষদের সারি ওয়াশিংটন ডিসির ভূগর্ভস্থ রেল ব্যবহার করছেন। বিক্ষোভকারীদের রাজধানী-সংলগ্ন এলাকার রাস্তায় সুশৃঙ্খলভাবে মার্চ করতে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু অংশ সরাসরি ইউএস ক্যাপিটল ভবনের সামনেও জড়ো হয়।

মিছিলকারীদের হাতে মার্কিন পতাকা, ড্রাম এবং ঢাল ছিল; কারও কারও হাতে কনফেডারেট পতাকাও দেখা গেছে- যা কেউ কেউ দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহ্যের প্রতীক মনে করলেও অধিকাংশ মানুষই একে বর্ণবাদী ঘৃণা ও দাসপ্রথার প্রতীক হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়ে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ৪ জুলাইয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে ৪০০-রও বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নেবেন বলে আশা করা হয়েছিল। তারা ড্রামের তালে তালে 'আমেরিকাকে পুনরুদ্ধার করো' স্লোগান দিচ্ছিলেন।

সংগঠনটির ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবেই 'ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত' ব্যক্তিদের তাদের 'সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার অধিকার' প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির 'প্রোগ্রাম অন এক্সট্রিমিজম'-এর বিশেষজ্ঞরা প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টকে একটি ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্য একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

এই মিছিলের ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প 'গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরির (একটি ভিত্তিহীন বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, যেখানে দাবি করা হয় শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানদের সরিয়ে সংখ্যালঘুদের স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে) মতো বক্তব্যের প্রচার ঘটিয়ে এই ধরনের উগ্রপন্থি দলগুলোকে উৎসাহিত করছেন।

২০১৭ সালের আগস্টে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে সহিংস 'ইউনাইট দ্য রাইট' সমাবেশের পর এই প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট গঠিত হয়। ওই সমাবেশে এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারী হেদার হায়ারকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করেছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই ঘটনার পর 'উভয় পক্ষেই খুব ভালো মানুষ ছিল' বলে মন্তব্য করে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েছিলেন।

শনিবারের এই বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এড মার্কি সরকারি কর্মকর্তাদের এই দলটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কি লিখেছেন, 'আমাদের দেশের রাজধানীতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিলের মুখে আমরা চুপ থাকতে পারি না। ম্যাসাচুসেটস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি- কোথাও ঘৃণা ও ধর্মান্ধতার কোনো স্থান নেই। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/