যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্টদের তীব্র সমালোচনা করে দেশজুড়ে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই উগ্র জাতীয়তাবাদী বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে মাউন্ট রাশমোরে গ্রানাইট স্মৃতিস্তম্ভের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী তৈরি করেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, স্নায়ুযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুরা ইতিহাসে হারিয়ে গেছে।
তিনি ইরান ও ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরান এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোকের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, ‘আমরা ভালো মানুষ বলেই শোক পালনের জন্য তাদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি।’
তার ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধীদের আক্রমণ। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “আমেরিকায় নতুন আসা কিছু অভিবাসীর হাত ধরে দেশে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ বাড়ছে, যারা মার্কিন জীবনযাত্রার বিরোধী।” তিনি কমিউনিজমকে সংবিধানের শত্রু আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে তা তাড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি বামপন্থি নেতা ও অবৈধ অভিবাসীদের দেশছাড়া করার ইঙ্গিত দেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক, কলোরাডো ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রগতিশীল প্রার্থীদের জয়ের পরই ট্রাম্প এই কড়া অবস্থান নিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর আমেরিকার রাজনৈতিক বিভেদ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট ইলি ব্রেমার বলেন, ‘ট্রাম্পের কিছু কথা সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের মতো শোনালেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডানে আর বামে যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা আগে কখনো ছিল না।’
ডেমোক্র্যাটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট আমেশিয়া ক্রস বলেন, ‘ট্রাম্প আসলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় ইতিহাস মুছে দিতে চান। তরুণ ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ট্রাম্প ভয় পাচ্ছেন এবং বুঝতে পারছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ ফসকে যাচ্ছে। তা ছাড়া কয়েক দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করার মামলায় হেরে গিয়ে ট্রাম্প এই ক্ষোভ ঝাড়ছেন। একই সময়ে নিউইয়র্কের প্রগতিশীল মেয়র জোহরান মামদানি ভিন্নমত প্রকাশকে দেশপ্রেম আখ্যা দিয়ে অভিবাসীদের প্রশংসা করেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা