ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা পড়ে পাওয়া গল্পের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩০ পল্লবীতে সন্ত্রাসী ‘রেড মুন্না’ গ্রেপ্তার সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক করতে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: রাষ্ট্রপতি উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ জন গ্রেপ্তার ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ রাজধানীজুড়ে একদিনে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৮ জুনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৪৩৮, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে বেশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় শি জিনপিং ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী নিউইয়র্কে পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শতভাগ ফিট না হলেও নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে রাফিনহা হাতিয়ায় রুপালি ইলিশের আকাল, শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা ‘বিএনপিরে মামলা দিমু, আওয়ামী লীগরে কোলে লইয়া নাচুম’ ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যেই! কোথায় সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার? খামেনির শোকসভায় প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে ইরান! দিনাজপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল বায়ু দূষণের শীর্ষে নয়া দিল্লি, ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল নরসিংদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত সাম্বার ছন্দ নাকি ভাইকিং ঝড়? হবিগঞ্জ ও সিলেটে ‘দুরন্ত স্পোর্টস গ্যালারি’ এর নতুন শোরুম চালু বিশ্বকাপে ১৫০ গোল স্পর্শ করল ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না: এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ বা শিষ্টাচার শেখানোর নামে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র‍্যাগিং) করার অভিযোগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

শনিবার (০৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪-২০২৫) ছাত্র। তারা হলেন- নাছিম উদ্দিন মজুমদার (শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হল), মোঃ মাহফুজুর রহমান অন্ত (আল-বেরুনী হল), আব্দুল্লাহ মাহদী (শহীদ রফিক-জব্বার হল), শুভাশীষ রায় প্রান্ত (শহীদ রফিক-জব্বার হল), মোঃ আবু আবতাহী অনিক (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ রায়হান খান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ নাঈমুল হাসান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ ইসফাক হাদী (আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল), নাঈম আহমেদ সজিব (শহীদ সালাম বরকত হল), কার্তিক চন্দ্র রায় (শহীদ সালাম বরকত হল), কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল (মওলানা ভাসানী হল) এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনান (মওলানা ভাসানী হল)।

অফিস আদেশে বলা হয়, ০৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কতিপয় শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২০২৬) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো ও ম্যানার শেখানোর নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে র‍্যাগিং করে।

এই ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ কিংবা অভ্যন্তরের যেকোনো জায়গায় টিজ, র‍্যাগিং বা নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের এই আদেশ জারি করা হয়।

আমানউল্লাহ খান/তামান্না রুপা/

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ বা শিষ্টাচার শেখানোর নামে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র‍্যাগিং) করার অভিযোগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

শনিবার (০৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪-২০২৫) ছাত্র। তারা হলেন- নাছিম উদ্দিন মজুমদার (শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হল), মোঃ মাহফুজুর রহমান অন্ত (আল-বেরুনী হল), আব্দুল্লাহ মাহদী (শহীদ রফিক-জব্বার হল), শুভাশীষ রায় প্রান্ত (শহীদ রফিক-জব্বার হল), মোঃ আবু আবতাহী অনিক (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ রায়হান খান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ নাঈমুল হাসান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ ইসফাক হাদী (আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল), নাঈম আহমেদ সজিব (শহীদ সালাম বরকত হল), কার্তিক চন্দ্র রায় (শহীদ সালাম বরকত হল), কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল (মওলানা ভাসানী হল) এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনান (মওলানা ভাসানী হল)।

অফিস আদেশে বলা হয়, ০৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কতিপয় শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২০২৬) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো ও ম্যানার শেখানোর নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে র‍্যাগিং করে।

এই ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ কিংবা অভ্যন্তরের যেকোনো জায়গায় টিজ, র‍্যাগিং বা নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের এই আদেশ জারি করা হয়।

আমানউল্লাহ খান/তামান্না রুপা/

‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী
ছবি: খবরের কাগজ

নতুন শহর, পড়াশোনা, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা চাকরির পরীক্ষার জন্য কোথাও গেলে সেখানে থাকার উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যার সমাধানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু পলাশ। তিনি তৈরি করেছেন ‘ঘর বাড়ি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ।

অ্যাপটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই জানতে পারবেন কোনো মেসে সিট খালি আছে কি না, কোনো বাসায় নতুন ভাড়াটিয়া নেওয়া হচ্ছে কি না কিংবা নতুন শহরে থাকার উপযুক্ত আবাসনের তথ্য। একই সঙ্গে মেস বা বাসার মালিকরাও খালি সিট বা কক্ষের তথ্য অ্যাপে প্রকাশ করতে পারবেন। ফলে শিক্ষার্থী ও আবাসনদাতাদের মধ্যে সহজ ও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাপটি বড় সুবিধা নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন উদ্ভাবক। এর মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই বিভিন্ন মেস বা বাসার নিরাপত্তা, খাবারের ব্যবস্থা ও অন্যান্য তথ্য দেখে সহজেই থাকার জায়গা নির্বাচন করতে পারবেন।

অ্যাপটির উদ্ভাবক আবু পলাশ বলেন, "আমি মূলত শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য এই অ্যাপটি তৈরি করেছি। আমার বন্ধু-বান্ধবরা প্রায়ই মেসে সিট খুঁজে পায় না বা কোথায় সিট খালি আছে সেটাও জানতে পারে না। বাসা খুঁজতে তাদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাসা খুঁজতে হয়। আবার অনেক বাসায় লিফলেট দেওয়া থাকলেও নম্বরে কল দিলে ফোনে পাওয়া যায় না, অথবা জানানো হয় সিট খালি নেই। মালিকদেরও বিভিন্ন শর্ত থাকে। তাই তারাও যেন খুব সহজে এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, সেই সুবিধাও রেখেছি। আমাদের বিভাগের বড় ভাই রনি ভাই একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন, সেখান থেকেই আমি অনুপ্রেরণা পাই।

তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকেই কোডিং জানতাম। আমাদের বিভাগে পাইথন কোডিংয়ের বিভিন্ন কোর্স ছিল, সেখান থেকেও শিখেছি। কারও সরাসরি সাহায্য ছাড়াই নিজের প্রচেষ্টায় অ্যাপটি তৈরি করেছি। তবে এআই এবং বিভিন্ন অনলাইন উৎস থেকে সহায়তা নিয়েছি। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই এই অ্যাপ বানানো। তারা যখন রংপুরে নতুন আসবে, তখন কোন মেসে সিট খালি আছে বা কোথায় থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যাবে, তা যেন সহজেই জানতে পারে এবং অযথা হয়রানির শিকার না হয়।

পলাশ বলেন, এটি সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কোনো ধরনের টাকা লাগবে না। আমি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করিনি, শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্যই করেছি। নতুন শহরে কেউ গেলে হোটেলগুলোর তথ্যও এখানে যুক্ত করা যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই কোথায় কী সুবিধা রয়েছে তা জানতে পারবে। এই অ্যাপটি শিক্ষার্থীদের কাজে আসুক, এটাই আমার উদ্দেশ্য।

প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত তথ্যকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী করে তুলবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আযম/নাঈম

অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা
একাডেমিক ভবন থেকে ক্যাফেটেরিয়া—সবখানেই নোংরা টয়লেট। ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন ভবনের টয়লেট ও ওয়াশরুমের বেহাল অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। 

অপরিষ্কার পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, ভাঙা বেসিন, পানির ট্যাপ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। 

সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন-৩সহ বিভিন্ন ভবনের কয়েকটি টয়লেট ও ওয়াশরুম দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার। বাথরুমের মেঝেতে কালো দাগ, পিচ্ছিল পরিবেশ এবং তীব্র দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। অনেক বেসিন ভাঙা, কোথাও পানির ট্যাপ নেই, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নষ্ট। কিছু টয়লেটে পানি বহনের পাত্র নেই। এছাড়া ব্যবহৃত টিস্যু, জমে থাকা নোংরা পানি এবং মশা-পোকামাকড়ের উপদ্রবও চোখে পড়ে। কয়েকটি টয়লেটের দরজায় ছিটকিনিও নেই।

শিক্ষার্থীরা জানান, টয়লেটগুলোর এমন বেহাল অবস্থার কারণে খুব প্রয়োজন না হলে আমরা সেগুলো ব্যবহার করি না। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন তিনটি আবাসিক হলে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সাতজন প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, ডরমিটরি, উপাচার্যের বাংলোসহ অন্যান্য স্থানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ হোসেন মিজি বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এমন নোংরা ওয়াশরুম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাবে ওয়াশরুমগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা দ্রুত স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানাই।

আরেক শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবনের অধিকাংশ ওয়াশরুমই অপরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, মেয়েদের অনেক টয়লেট ব্যবহারই করা যায় না। কোথাও ছিটকিনি নেই, কোথাও পানি আসে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার লোকমান হাকিম বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। টয়লেটের পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রকৌশল দপ্তরের বিষয়। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, কিছু টয়লেট অপরিষ্কার রয়েছে, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে এবং কয়েকজনের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া কিছু বেসিন ভাঙা এবং পানির ট্যাপ নষ্ট রয়েছে। জুন মাসের আর্থিক হিসাব (জুন ক্লোজিং) শেষ হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর আগামী মাস থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

এসএন

জাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘র‌্যাগিং’, জড়িতদের দায় স্বীকার

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
জাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘র‌্যাগিং’, জড়িতদের দায় স্বীকার
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের গভীর রাতে মাঠের মধ্যে ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ বা শিষ্টাচার শেখানোর নামে র‌্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। 

পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরেন। 

শনিবার (৪ জুলাই) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নবীনদের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে আনেন। সেখানে যাওয়ার পর নবীন শিক্ষার্থীদের কান ধরানো, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ফরমাল পোশাকের নিয়ম শেখানোর নামে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা করা হতে থাকে।

র‌্যাগিং চলাকালে এক নবীন শিক্ষার্থী কৌশলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের এক সদস্যের কাছে পাঠান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ও জাকসুর অ্যান্টি-র‍্যাগিং সেলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায়। অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে আসে। সেখানে ভিডিও যাচাই করে অভিযুক্তদের ভিডিও ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, “সেখানে আমাদের বাবা-মা তুলে গালাগাল ও কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফরমাল পরিচয়ের নামে আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। পরে প্রক্টর স্যারসহ অন্যরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন।”​

​আরেক ভুক্তভোগী রাজ খান বলেন, ’এর আগেও সেন্ট্রাল ফিল্ডে আমাদের গভীর রাত পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া সেমিনার, ক্লাসরুমের করিডর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিয়মিত হেনস্তা করা হচ্ছে। আমরা এই জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

ভুক্তভোগীদের দাবি, অনবরত এমন নির্যাতনে তাদের পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। 

এদিকে ঘটনার পর ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ১৩ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধির (সিআর) স্বাক্ষরিত একটি লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘আমরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের ১৩ জন ছাত্রকে মেনার শিখানোর নামে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিই এবং র‍্যাগ দিই।’

লিখিত বিবৃতিতে অভিযুক্ত ১২ জন শিক্ষার্থীর পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন- সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ’রাত ২টার দিকে কল পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদের হাতেনাতে ধরি। এরপর সবাইকে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে এসে ভিডিও ও লিখিত স্টেটমেন্টের তথ্য নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ’এই তথ্যগুলো প্রক্টরিয়াল বডির সভায় আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

‘অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি ও আমাদের কাছে যতটুকু এভিডেন্স (প্রমাণ) আছে, তা দিয়ে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা যাবে’ বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশিদুল আলম বলেন, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে র‍্যাগিংয়ের সময় তাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছে এবং দুই পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ ও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমানউল্লাহ/খাদিজা রুমি/

ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
ডাকসুর উদ্যোগে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি-অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালার উদ্বোধন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন জিএস এস এম ফরহাদ। ছবি: খবরের কাগজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের যৌথ উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশবরেণ্য শিল্পীদের তত্ত্বাবধানে দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালা শুরু হয়েছে। 
 
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওই কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, 'জুলাই বিপ্লবের চেতনা কেবল স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং তা আমাদের চিন্তা, কর্ম ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ধারণ করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সৃজনশীল শক্তিকে বিকশিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাকসু সবসময় শিক্ষার্থীদের মেধা, সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।'
 
এই দুই মাসব্যাপী কর্মশালা শিক্ষার্থীদের শিল্পচর্চার পাশাপাশি ইতিহাস ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, 'সংস্কৃতি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তিতে এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশবরেণ্য শিল্পীদের কাছ থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, গণআন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও প্রকাশ করার সক্ষমতা অর্জন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ, সৃজনশীল ও মূল্যবোধনির্ভর সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডাকসু ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।'
 
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিশিষ্ট আইনজীবী ও আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ, বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক মৃন্ময় মিজান, নাট্য ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান আসাদ, এ বি ডি তুহিন, বাচিকশিল্পী সারোয়ার হোসাইন খান, কবি মুনসি বোরহান মাহমুদ, কবি আবিদ আজমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
 
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি ছিল আত্মমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। সেই চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সংস্কৃতি হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত মানুষের মনন, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমকে শাণিত করে। তাই সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সমাজ পরিবর্তনের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে তারা বলেন, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং গণআকাঙ্ক্ষাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলতে হবে।
 
উল্লেখ্য, দুই মাসব্যাপী আবৃত্তি, অভিনয় ও সঙ্গীত কর্মশালা এবং উদ্বোধনী ক্লাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। এছাড়া মাসব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
 
আরিফ জাওয়াদ/আজহার/