জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ বা শিষ্টাচার শেখানোর নামে গভীর রাতে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র্যাগিং) করার অভিযোগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (০৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪-২০২৫) ছাত্র। তারা হলেন- নাছিম উদ্দিন মজুমদার (শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হল), মোঃ মাহফুজুর রহমান অন্ত (আল-বেরুনী হল), আব্দুল্লাহ মাহদী (শহীদ রফিক-জব্বার হল), শুভাশীষ রায় প্রান্ত (শহীদ রফিক-জব্বার হল), মোঃ আবু আবতাহী অনিক (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ রায়হান খান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ নাঈমুল হাসান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মোঃ ইসফাক হাদী (আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল), নাঈম আহমেদ সজিব (শহীদ সালাম বরকত হল), কার্তিক চন্দ্র রায় (শহীদ সালাম বরকত হল), কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল (মওলানা ভাসানী হল) এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনান (মওলানা ভাসানী হল)।
অফিস আদেশে বলা হয়, ০৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কতিপয় শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২০২৬) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো ও ম্যানার শেখানোর নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে র্যাগিং করে।
এই ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ কিংবা অভ্যন্তরের যেকোনো জায়গায় টিজ, র্যাগিং বা নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ১২ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের এই আদেশ জারি করা হয়।
আমানউল্লাহ খান/তামান্না রুপা/